প্রচ্ছদ আইন-আদালত এমপি নিক্সন চৌধুরী গ্রেপ্তার হতে পারেন?

এমপি নিক্সন চৌধুরী গ্রেপ্তার হতে পারেন?

67
এমপি নিক্সন চৌধুরী গ্রেপ্তার হতে পারেন?

‘অনিয়ম, অন্যায়, প্রশাসনের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। যারাই প্রশাসনকে হুমকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধেই যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারো পরিচয় দেখা হবে না।’ এরকম নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আজ একটি অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন। গণভবনের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের পর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তাহলে কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধুরী? টানা তৃতীয় মেয়াদে এবং মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ তে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে শেখ হাসিনা।

দলের ভেতরে বাইরে যারাই অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধেই আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও বাদ যায়নি। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে বলেছেন ‘অন্যায়কারীর পরিচয় অন্যায়কারী।’ গত বছরের শুদ্ধি অভিযানে শেখ হাসিনা তার নিকটাত্মীয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ফুফাতো ভাই, শেখ মারুফকে গণভবনে ঢুকতে দেন নি। সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরে যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর এক আত্মীয়ের ঘনিষ্ঠরাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাই, ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যে ‘হুমকির’র ঘটনা এখন আলোচনা হচ্ছে, তা যদি সত্যি হয় তাহলে নিক্সন চৌধুরীও যে পার পাবেন না তা বলাই বাহুল্য।

নিক্সন চৌধুরীর হুমকি এবং অশোভন আচরনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন ফরিদুরের জেলা প্রশাসক এবং চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অভিযোগ তদন্তের জন্য। সরকারের একটি সূত্র বলছে, নিক্সনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ,
প্রথমত: তিনি নির্বাচন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেছেন। নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে।
দ্বিতীয়ত: তিনি প্রশাসনকে হুমকি দিয়েছেন। এটাও অপরাধ। এই দুই অভিযোগই তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত হলেই বোঝা যাবে, এই ঘটনায় কার দায় কতটুক। তবে, একটি সূত্র বলছে, নিক্সনের সাথে আওয়ামী লীগের এক হেভীওয়েট নেতার দ্বন্দ্ব পুরনো। সাম্প্রতিক ঘটনায় ঐ হেভীওয়েট নেতা নিশ্চয়ই নিক্সনকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালালে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দেশ-বিদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে- দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করছে। এতে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা, জনমনে উদ্বেগ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এসব অপপ্রচারকারী ও তাদের সহযোগীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, দেশের স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।