প্রচ্ছদ বিশ্ব আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধে ড্রোন: বিবিসি বাংলা’র প্রতিবেদন

আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধে ড্রোন: বিবিসি বাংলা’র প্রতিবেদন

10
আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধে ড্রোন: বিবিসি বাংলা’র প্রতিবেদন

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় দশ ঘণ্টা আলোচনার পর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটা সমঝোতা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে বিতর্কিত নাগর্নো কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে যে যুদ্ধ হয়ে গেল-তা সামরিক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে একটা বিশেষ কারণে।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে পুরনো যে সংঘাত থেকে থেকেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, তাতে এবারের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ড্রোন-বিশেষ করে তুরস্কের তৈরি ড্রোন দিয়ে চালানো হামলা।
এবারের লড়াই, যা শুরু হয়েছিল ২৭ সেপ্টেম্বর, তার তীব্রতা বুঝিয়ে দিয়েছে নাগোর্নো-কারাবাখে আর্মেনীয় লক্ষ্যবস্তুর ওপর আজেরি ড্রোন হামলার ভিডিও ফুটেজ।
এই ভিডিও ছবি থেকে সন্দেহ দানা বেঁধেছে যে এবারের লড়াইয়ের জন্য আজারবাইজানের হাতে এসেছিল তুরস্কের বেয়ারআকতার ড্রোন।

আজেরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ ড্রোন থেকে তোলা এলাকার ছবি বিতরণ করেছে, যেখানে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান চিহ্ণিত করা হয়েছিল এবং সেখানে চালকবিহীন ‘কামিকাযি’ কায়দার বিমানের ভিডিও দেয়া হয়েছিল। কামিকাযি হল একধরনের আত্মঘাতী বিমান-যেগুলো বিস্ফোরক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত করে নিজেই বিস্ফোরিত হয়ে যায়।
সম্প্রতি দুটি দেশই তাদের অস্ত্রের সম্ভার বাড়িয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজান অস্ত্র সংগ্রহ করেছে আর্মেনিয়ার চেয়ে বেশি এবং আজেরিরা ড্রোন প্রযুক্তির দিকে বেশি ঝুঁকেছে।

বেয়ারআকতার ড্রোন কী?: নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে আজারবাইজান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিকতম এই লড়াইয়ে যে ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সেটি হল তুরস্কের বেয়ারআকতার টিবি-টু মডেলের ড্রোন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগোর্নো-কারাবাখে আজেরি সামরিক বাহিনীর হামলার যেসব ভিডিও দেশটির সরকার বিলি করেছে তা ফিল্ম করা হয়েছে টিবি-টু ড্রোন দিয়ে। কয়েক বছর আগে বেকার নামে তুরস্কের একটি সংস্থা এই ড্রোন তৈরি করে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে এবং এটি পর্যবেক্ষণ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা যায়।
ড্রোনের বাজারে টিবি-টু একটি তারকা। ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে সিরিয়ায় অপারেশন স্প্রিং শিল্ড অভিযানে এই ড্রোন ব্যবহার করেছিল তুরস্ক।
তুরস্ক টিবি-টু বিক্রি করেছে ইউক্রেনের কাছে। ৬ অক্টোবর তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদলু-র এক খবরে বলা হয়েছে যে সার্বিয়াও এই ড্রোন কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

বিতর্কিত এলাকায় আর্মেনীয় সাজোঁয়া যান বিধ্বস্ত করার যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো বেয়ারআকতার ড্রোন দিয়ে তোলা বলে বিশেষজ্ঞরা যদিও নিশ্চিত, কিন্তু এই ড্রোন যে আজারবাইজানের অস্ত্র সম্ভারের অংশ ছিল, তার স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন নিশ্চয়তা এখনও পাওয়া যায়নি।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ৫ অক্টোবর ঘোষণা করেন যে, আজারবাইজানের কাছে তুর্কী ড্রোন রয়েছে। তবে তারা সেগুলো কিনেছে কি না, সে সম্পর্কিত কোন কাগজপত্র বা রসিদ আজেরি সরকার প্রকাশ করতে পারেনি। জুন মাসে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে এই ড্রোন পাবে বলে তারা আশা করছে।
রুশ সাময়িকী আমর্স এক্সপোর্টের প্রধান সম্পাদক আন্দ্রেই ফ্রলভ মনে করেন, আজারবাইজান হয় গোপনে এই চালকবিহীন বিমান মজুত করছিল, না হয়ত সাম্প্রতিক এই লড়াই শুরু হবার ঠিক আগেই এগুলো তাদের হাতে যায়।

ড্রোন বিতর্ক: তুরস্ক থেকে ড্রোন কেনা বা সেগুলো রপ্তানি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য না থাকার বিষয়টা নিয়ে আবার তৃতীয় একটি দেশের প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও উঠছে।
সোমবার কানাডা ঘোষণা করে যে তারা তুরস্কে ড্রোন তৈরির প্রযুক্তি রপ্তানি বন্ধ করে দেবে, নাগোর্নো-কারাবাখে তুরস্কের ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে এ নিয়ে সন্দেহ বাড়ার কারণে।
কানাডার প্লাওশেয়ার প্রকল্প নামে একটি সংস্থা জানাচ্ছে নাগোর্নো-কারাবাখে আক্রমণ চালানো ড্রোনের ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে যে, যে বিমান থেকে হামলার ছবি তোলা হয়েছে সেটি কানাডার বহুজাতিক একটি প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সংস্থা এলথ্রি হ্যারিস টেকনোলজিস ইঙ্ক প্রতিষ্ঠানের তৈরি সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে।
তুরস্ক কানাডার বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ করে বলেছে, নেটোর সহযোগী সদস্য এই দেশ সামরিক সহায়তার মানসিকতা লংঘন করেছে।

ইসরায়েলকে অবশ্যই গোলান মালভূমি ত্যাগ করতে হবে: ন্যাম
সিরিয়ার গোলান মালভূমি ছেড়ে যেতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-ন্যাম। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতি এ আহ্বান জানায় ন্যাম।
শনিবার ন্যামভুক্ত দেশগুলো অনলাইন কনফারেন্সের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে: ইসরায়েলকে অবশ্যই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো মেনে চলতে হবে এবং অধিকৃত গোলান মালভূমি ছেড়ে যেতে হবে।
১৯৬৭ সালে ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান মালভূমির এক হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটারের মতো ভূমি দখল করে নিয়েছে। বিশ্বের কোনো দেশ ওই ভূমিকে ইসরায়েলের বলে স্বীকৃতি দেয়নি। নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ওই ভূমিকে ইসরায়েল ‘অধিকৃত’ বলে অভিহিত করে এসেছে।