প্রচ্ছদ জীবন-যাপন যখন ধ’র্ষণে অভিযুক্তই ধ’র্ষণবিরোধী আন্দোলনের নেতা

যখন ধ’র্ষণে অভিযুক্তই ধ’র্ষণবিরোধী আন্দোলনের নেতা

83
যখন ধর্ষণে অভিযুক্তই ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের নেতা

যে কোন ধর্ষণের ঘটনা নিন্দনীয় এবং ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। ধর্ষক হল পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের একজন। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে যে, আন্দোলন করা হচ্ছে- সে আন্দোলন অত্যন্ত যৌক্তিক। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা মেনে নিয়েছেন এবং এই সংক্রান্ত আইন সংশোধনের নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামি সোমবার মন্ত্রীসভায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে আইনটি উপস্থাপিত হবার কথা। কিন্তু লক্ষণীয় ব্যাপার যে, এই ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের নামে কেউ কেউ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।
আবার আরও লক্ষণীয় যে, যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তিনিই যদি ধর্ষণের আন্দোলন করেন। তাহলে তা অনেকটাই তামাশায় পরিণত হয়। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নূর সহ ছাত্র অধিকার পরিষদের বেশ কয়েকজনের নামে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। নূর ধর্ষক কিনা- তা বিচার করার দায়িত্ব আদালতের। কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা মনে করি যে, যখন তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছে। তখন এই ধরণের আন্দোলন করার নৈতিক অধিকার তার থাকে না।

বরং তার প্রথম কাজ এই অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করা। কারণ ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিই যদি ধর্ষণের বিরুদ্ধে মহাসমাবেশের ডাক দেয়, সেটা জাতির সামনে একটি তামাশা এবং প্রহসনে পরিণত হয়। নূর সেই কাজটিই করছে। কারণ তার বিরুদ্ধে যে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, ওই ছাত্রীকে চাপ দিয়ে যদি এই মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়- তাহলে এটা একটা ভুল সংস্কৃতি তৈরি হবে। বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মহল্লায় যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তারাও যদি লোক সমবেত করে চাপ দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে। তাহলে একটা বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। আর এই কারণেই সচেতন মহল মনে করেন যে, ধর্ষণে সহায়তায় নূরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার তদন্ত হওয়া দরকার।

এই ঘটনায় নূর এবং তার সহযোগীরা কতোটুকু যুক্ত তার একটা নির্মোহ তদন্ত হওয়া দরকার। আর এই মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে, নূর যদি ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন করে সেটা হবে একটা ভণ্ডামি।
এর ফলে একটি ভুল বার্তা দেশের মানুষের কাছে যাবে। বাংলাদেশে কেউই আইনের উর্দ্ধে না। সরকার থেকে বলা হচ্ছে, ধর্ষকের পরিচয় দেওয়া হবে না। তাহলে নূরের বিরুদ্ধে যে, অভিযোগ সেই অভিযোগের সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিত। আর এই তদন্তের মাধ্যমেই জানা যাবে যে, নূর এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন কিনা। নূর যদি এই ঘটনায় জড়িত না থাকে, সেটা অত্যন্ত ভালো। নিশ্চয় তিনি আন্দোলন করতে পারবেন। কিন্তু ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিই যদি আন্দোলন করেন, আন্দোলনের যে মুল লক্ষ্য এবং চেতনা সেটা বিনষ্ট হবে।

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে
ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিধান রেখে একটি অধ্যাদেশ জারি হতে যাচ্ছে। সংবিধানের ৯৩ এর ১ ধারা অনুযায়ী এই অধ্যাদেশ জারি করবেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা হলো সংসদের। কিন্তু সংসদের অধিবেশ যদি না থাকে এবং সেই সময় যদি জরুরী প্রয়োজন হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়েছে সংবিধান । সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করছেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করছে।

উল্লেখ্য যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ এর ১ ধারায় বর্তমানে বলা হয়েছে যে, যদি কারো বিরুদ্ধে যদি ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ধর্ষণের কারণে যদি কারো মৃত্যু হয় তাহলে অপরাধির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। এখন এই ধারাটি সংশোধন করে ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ অপরাধ মৃত্যুদণ্ড করার বিধান করা হচ্ছে। আগামী সোমবার এটি মন্ত্রীপরিষদে উথতাপিত হবার কথা। এবং মন্ত্রীপরিষদে অনুমোদিত হলে এটি রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করবেন।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে গত ১০ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী দুই মাস পর পর যে সংসদ অধিবেশন করার রীতি সেই রীতি অনুযায়ী সংসদের অধিবেশ শুরু হবে আগামী ১০ নভেম্বর। তার আগেই এই আইনটি প্রণয়ন করতে চায় সরকার। কারন এটি নিয়ে যে বিতর্ক এবং জনমনে যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে সেটা নিরশনের জন্য সরকার অধ্যাদেশ জারি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।