প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য বাংলাদেশের সুযোগ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যত অমৃত বচন

বাংলাদেশের সুযোগ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যত অমৃত বচন

21
বাংলাদেশের সুযোগ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যত অমৃত বচন

দেশে করোনা সংক্রমণের সাত মাস চলছে। দীর্ঘ সময়ের এই মহামারিতে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। মানসিক অস্বস্তি ও অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন সবাই। বন্দী এই জীবনে বিনোদন প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু করোনার সংক্রমণের শুরু থেকেই আপনাকে, আমাকে আমাদের সবাইকে বিনোদিত করে যাচ্ছে এক নিবেদিত প্রাণ, সময়ের পরীক্ষায় পরীক্ষিত, করোনাও যেন তার কাছে উপেক্ষিত; তিনি আর কেউ নন, তিনি আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
করোনা ভয়ে আমরা সবাই যখন থিতু, তখনও তিনি তার ভাঁড়ামি বন্ধ করেননি। প্রাচীন বিদূষকের মতো একের পর এক অমৃত বচন নিয়ে হাজির হচ্ছেন আমাদের সামনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী না হলে তিনি কি করতেন, তা না বলা গেলেও তিনি যে এই সময়ের শ্রেষ্ঠ ভাঁড়- তা অনুমান করা যায় সহজেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ভাঁড় গোপালকেও ছাড়িয়ে গেছেন শুধু অমৃত বচন দিয়ে। চলুন জেনে নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এমন কিছু অমৃত বচন সম্পর্কে।

‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কক্সবাজার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রতি জেলায় ১০০ ও বিভাগীয় শহরগুলোতে কমপক্ষে ৪০০ শয্যা করোনা আক্রান্ত রোগীদের বরাদ্দের জন্য হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মানিকগঞ্জ, ৫ মার্চ, ২০২০।
‘আগামী ৩০ দিন খুবই সঙ্কটাপূর্ণ, সাবধানে থাকলে জাতি রক্ষা পাবে। কোনভাবেই আমরা যেন কেউই অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হই’। স্বাস্থ্য মন্ত্রী। বিসিপিএস অডিটোরিয়াম, ৬ এপ্রিল, ২০২০
‘মানুষের জীবিকার তাগিদে সরকারকেও সীমিত পরিসরে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা খুলে দিতে হয়েছে। এসব কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয়তো আরো কিছু বৃদ্ধি পেতেও পারে। তবে এই বৃদ্ধি দেশে খুব বেশি ক্ষতিকর কিছু হবে না। সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেই আজ বিশ্বের আক্রান্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই কম’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগারগাঁও, ১৪ মে, ২০২০।

‘সরকারি হাসপাতালে ভর্তি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর কারণ কী! কারণ হচ্ছে, আসলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে’।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী। সচিবালয়, ২২ জুন, ২০২০।
‘আইসিইউ নিয়ে অনেক কথা হলো। ভেন্টিলেটর নিয়ে বিরাট হইচই। কিন্তু দেখা গেছে, ভেন্টিলেটরের কোনো প্রয়োজনই নেই। ভেন্টিলেটরে যাঁরা গেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের ৪০০ ভেন্টিলেটর আছে। এর মধ্যে ৫০টিও ব্যবহার হয়নি। সাড়ে ৩০০ ভেন্টিলেটর খালি পড়ে আছে। কারণ, তখন মানুষ এটা জানত না।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রী। জাতীয় সংসদ, ৩০ জুন, ২০২০।
‘করোনা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার পথে। আক্রান্ত বিবেচনায় করোনায় মৃত্যুহার দেশে অনেক কম। ভ্যাকসিন ছাড়াই দেশ এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথে’।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী। বিসিপিএস অডিটোরিয়াম, ১৫ আগস্ট, ২০২০।

‘দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভালো ছিল বিধায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কোনো মানুষকে তাঁবুতে থাকতে হয়নি। বরং করোনা আক্রান্তদের হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে’।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মানিকগঞ্জ, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০।
‘দেশের স্বাস্থ্যখাত নি‌য়ে আগে সমা‌লোচনা হলেও এখন সবাই প্রশংসা কর‌ছে। প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার আমাদের প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত’।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হোটেল ওয়েস্টিন, ৬ অক্টোবর, ২০২০।
‘করোনায় ট্রাম্প ও এ দেশের মানুষ একই চিকিৎসা পেয়েছেন। ট্রাম্পকে করোনার চিকিৎসায় রেমডেসিভির দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষও করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভির পেয়েছে’।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২০।