প্রচ্ছদ স্পটলাইট এ লড়াই শেখ হাসিনার একার লড়াই?

এ লড়াই শেখ হাসিনার একার লড়াই?

91
এ লড়াই শেখ হাসিনার একার লড়াই?

আওয়ামী লীগে অদ্ভুত একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। যখনই আওয়ামী লীগ কোন ভাল কাজ করে সেই ভালো কাজটিই সকলে মিলে উপভোগ করে। ভালো কাজের সময় আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতা বেরিয়ে যান। তারা জাতিকে নানা রকম জ্ঞান বিতরণ করেন কিন্তু সংকটের সময় দেখা যায় যে, শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ নেই। সংকটে লড়াইটা যেন শেখ হাসিনার একার।
১৯৮১ সালের ১৭ই মে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের দেখভাল করছেন বাংলাদেশে এসে। সেই সময় থেকেই এ যাবতকালে আওয়ামী লীগ যতগুলো সংকটে পড়েছে সে সংকটে লড়াইটা শেখ হাসিনা একাই করেছেন। হোক না সেটা ১৯৯১ সালের নির্বাচনি বিপর্যয়ের সময় যে বিপর্যয়ের সময় আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রিয় নেতাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং তারা দোষারোপের রাজনীতি করেছেন। পুরো নির্বাচনী ব্যর্থতার দায়ভার শেখ হাসিনার ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা একাই লড়াই করেছেন এবং আওয়ামী লীগকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরও শেখ হাসিনা কম সমালোচিত হননি দলের মধ্যে। সে সময়ে বিএনপি জামায়াতের তাণ্ডবের মধ্যেও শেখ হাসিনা শক্ত হাতে দলকে আগলে রেখেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত এক দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০০৮ এ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেও দেখি বিডিআর বিদ্রোহের সময় শেখ হাসিনা যেন একাই লড়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ক্যান্টনমেন্টে গিয়েছিলেন দরবার হলে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ।
২০১৪ সালের বিএনপি-জামাতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা একাই লড়াই করেছিলেন এবং তার একক লড়াই এর ফলে আওয়ামী লীগ ২০১৪ নির্বাচনে পার হতে পেরেছিল। ২০১৮ সালেও আমরা দেখি শেখ হাসিনা একাই লড়াই করেছেন ।

গত মার্চ থেকে একের পর এক সংকটে দেশ। করোনা সংকট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের মহামারি। সবগুলো সংকটে দেখা যাচ্ছে শেখ হাসিনা পাশে কেউ নেই। কেউ উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসেন না । সংকট সমাধানে কেউ কোন উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসছেন না, কেউ হাল ধরার জন্য সাহসে ভর করে দাঁড়াচ্ছেন না। বরং যারা যে দায়িত্বে আছেন তারা সেই দায়িত্ব থেকেই শুধু বিতর্ক তৈরি করেছেন নানা রকম সমস্যা তৈরি করছেন। আমরা যদি করোনা সংকটের কথাই ধরি তাহলে করোনা শুরু থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রণালয় যে কাজগুলো করেছে তা জনবিরক্তির কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। যদিও প্রধানমন্ত্রী তার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালযয়কে এবং তার মন্ত্রীকে সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন এবং বার বার বলেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভালো কাজ করছে। এটি যেন নিজের দুষ্ট এবং এটি যেন নিজের খারাপ ছেলেকে খারাপ না বলে তাকে ভালো বলে ভালো হওয়ার সুযোগ দেয়ার মতো ব্যাপার।

ঠিক একইভাবে সাম্প্রতিক সময়ে যখন একটির পর একটি ঘটনা ঘটতে থাকলো মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড ঘটল টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে সে সময় শেখ হাসিনা যেন একাই লড়লেন। তিনি সেনাপ্রধান এবং পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিলেন ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য এবং পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য। তিনি নিজে মেজর সিনহার পরিবারকে ফোন করলেন এবং যে ঘটনাটি অন্য দিকে মোড় নিতে পারত সে ঘটনাটিকে তিনি শান্ত করলে। একই ঘটনা আমরা দেখি, ঘোড়াঘটের ইউএনও ওয়াহিদা আক্রান্ত হওয়ার সময় শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসলেন, সুচিকিৎসা নিশ্চিত করলেন।
এখন যখন ধর্ষণের মহামারী তখনো দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কোন নেতাই যেন গুরুত্বপূর্ণ কোন দায়িত্ব পালন করছে না বরং সব দায়িত্বভার শেখ হাসিনার কাছে এসে পড়েছেন এবং তিনি যেন একাই লড়ছেন। এবং এই লড়াইটা এমন একটা লড়াই যেখানে তাকে জিততেই হবে এবং তিনি না জিতলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। এবং পুরো বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েই তিনি যেন কাজ করছেন ।

সমস্যা হল একটি দলে অনেক নেতা থাকে, সরকারের অনেক মন্ত্রী থাকে। প্রত্যেকের কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকে এবং তাদের দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন। তাহলেই সব কিছু সুষ্ঠ এবং সুন্দর হয় এবং সরকার প্রধান বা দলের প্রধানের ওপর চাপ কমে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, যাদের যে দায়িত্ব তার অধিকাংশই ক্ষেত্রেই তাদের সে দায়িত্ব পালন না করে বরং সমস্যাকে আরও জটিল এবং সংকটময় করে তুলছেন। আর সেজন্যই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন লড়াইটা যেন শুধুমাত্র শেখ হাসিনার একার। সরকারের সব কিছু সামাল দিতে হচ্ছে শেখ হাসিনা একাকে। আওয়ামী লীগের সব কিছু সব দুর্নীতি অনিয়ম এবং দুর্বৃত্তায়নকে সমালদিতে হচ্ছে শেখ হাসিনাকে একা । একাই যেন শেখ হাসিনা লড়ছেন সব অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা এবং অপশক্তির বিরুদ্ধে।