প্রচ্ছদ রাজনীতি তারেক-বিজয় মালিয়াদের মতো অপরাধীদের তীর্থভূমি ব্রিটেন?

তারেক-বিজয় মালিয়াদের মতো অপরাধীদের তীর্থভূমি ব্রিটেন?

38
তারেক-বিজয় মালিয়াদের মতো অপরাধীদের তীর্থভূমি ব্রিটেন?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিজয় মালিহা, নিরেদ মোদি, তারেক জিয়া ও দাউদ ইব্রাহীমের মতো দণ্ডিত অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে নিরাপদ আবাস গড়ছে ব্রিটেনে।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দোষী কিংবা নিদোর্ষীর বালাই নেই কড়ি ফেললেই মিলছে আশ্রয়। পলিটিক্যাল এসাইলামের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তুলছে ব্রিটেনে। গ্লাভিটাস প্লাস টিভির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
গত কয়েক বছরে পশ্চিম ইউরোপ থেকে অনেক অপরাধী, পাকিস্তানী রাজনীতিবিদ, ভারতীয় কর ফাঁকিবাজ এবং বাংলাদেশে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলা ও মানি লন্ডারিং মামলায় দণ্ডিতরা ব্রিটেনে নিরাপদ আশ্রয় গড়েছে।
ওয়ান ইলেভেনের শেষ পর্যায়ে ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনে আসেন তারেক। এরপর থেকে লন্ডনে কিংসস্টন এলাকায় সপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন খ্যাতনামা রেস্টুরেন্টে খাওয়া শেষে শেফদের সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে খেলায় মেতে উঠতেও দেখা গেছে।

বিজয় মালিয়া নামে একজন ভারতীয় প্রতারক ১৭টি ভারতীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৯০০০ কোটি রুপি আত্মসাৎ করে লন্ডনে নিরাপদ আবাস গড়েছেন।
নিরেদ মোদি নামে আরেকজন ভারতীয় প্রতারক ১৩,০০০ কোটি টাকা অর্থ কেলেস্কারী করে বর্তমানে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন।
ভারতীয় ডায়মন্ড মাচেন্ট এই প্রতারককে শেষবার দশ হাজার পাউন্ড মূল্যের জ্যাকেট পড়ে লন্ডনের রাস্তার ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০১৩ সাল থেকে ৫৫০০ জন দিল্লী থেকে লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী হয়েছেন।
রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারত, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পর্যায়ে অনেক আলাপ আলোচনা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
ব্রিটিশ আইনের কারণে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের ফেরত আনা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে কয়েকটি কারণে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের দেশে ফেরত আনা যাচ্ছে না। প্রথমত; রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী এবং মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীদের ব্যাপারে ব্রিটিশ আইন নমনীয়।
দ্বিতীয়ত; অপরাধী রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীরা প্রচুর টাকার বিনিময়ে ব্রিটেনের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ বজায় রেখে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয় প্রতিনিয়ত পাকাপোক্ত করছে।
ডয়েচে ব্যাংক রিপোর্টের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীরা ব্যাংক এবং অফশোর চ্যানেলে ব্রিটেনে প্রায় ১২৯ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন।
তৃতীয়ত; ব্রিটেন সরকার এইসব রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের পর থেকে মানি লন্ডারিং এর কোন অভিযোগ আনেনি। বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও ব্রিটেন মানি লন্ডারিং অভিযোগে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
চতুর্থত; ব্রিটেন সরকার যদি কোন কারণে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। তবে ব্রিটেনের বিখ্যাত আইনজীবীরা প্রচুর টাকার বিনিময়ে তাদের পক্ষে মামলা লড়ে থাকেন।
এসব কারণে অর্থনৈতিক প্রতারকদের জন্য আর্কষণীয় ও নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে উঠছে ব্রিটেন।