প্রচ্ছদ কৃষি, প্রাণী ও পরিবেশ বাংলাদেশের বাহারি কবুতর মধ্যপ্রাচ্যের পথে

বাংলাদেশের বাহারি কবুতর মধ্যপ্রাচ্যের পথে

25
বাংলাদেশের বাহারি কবুতর মধ্যপ্রাচ্যের পথে

শান্তির প্রতীক কবুতর। মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে এখন কবুতর রপ্তানি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো জর্ডানে কবুতর রপ্তানি হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুই দেশ আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কবুতর রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে। ওই দুই দেশের জন্য আড়াই হাজার কবুতর রপ্তানির অর্ডার পাওয়া গেছে। আসছে নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই দুদেশে কবুতর পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে কয়েকজন যুবক লাখপতি বনে গেছেন। তারা বলেছেন, অল্প পুঁজিতে তারা এ আয় করেছেন। দেশে প্রায় ২০ প্রজাতির নানা রঙের কবুতর আছে। এসব প্রজাতির মধ্যে গিরিবাজ, বোখারা ট্রামপিটার, জেকোবিন, লাহোর, কিং, ফ্রিলব্যাক, ওরিয়েন্টাল ফ্রিল, ফ্যানটেইল, আমেরিকান হেলমেট, আমেরিকান কমোরনান, মোক্ষী, হানগেরিয়ান হাউজ পিজিওন, ইংলিশ ট্রামপিটার, আমেরিকান সেইন্ট, স্যাক্রন সোয়ালো, শর্ট ফেস টাঙ্গলার, ওল্ড ডাচ টাম্বলার, পমেরানিয়ান পোউটার উল্লেখযোগ্য। দিন দিন দেশে শৌখিন কবুতরপ্রেমীর সংখ্যা বাড়ছে।

রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েকটি বড় বড় গ্রুপ গড়ে উঠেছে। যার বেশির ভাগ যুবক ও তরুণ। তারা কবুতর পালন করেন। অন্য সব পোষা পাখির চেয়ে কবুতরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বেশি। দেশ ও দেশের বাইরে কবুতরের বড় বাজার রয়েছে। খোদ রাজধানীতে রয়েছে তিনটি বড় বাজার। একটি মিরপুর ১নং সেকশন, দ্বিতীয়টি কুড়িল এবং তৃতীয়টি কারওয়ানবাজারে। কবুতর ক্রয় ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, মোগল আমলের রাজা-বাদশাহদের পত্র-পত্রাদি আদান-প্রদানে কবুতর ব্যবহার হতো। কবুতরের পায়ে পত্র বেঁধে ছেড়ে দেওয়া হতো। ঠিক জায়গামতো কবুতর বার্তা পৌঁছে দিত। আবার কবুতরে গোশত সুস্বাদু খাবার। রোগীর পথ্য হিসেবে কবুতরের গোশতের জুড়ি নেই।

কিছুদিন আগে ৮০০ খামারি রাজধানীতে কবুতর প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা আসেন। একটা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যে ধরনের নিয়ম-কানুন মানা হয়, এই প্রতিযোগিতায় তার সবটাই করা হয়। মাহমুদুল হাসান নামের এক কবুতর খামারি বলেন, জর্ডানে কবুতর রপ্তানি করেন খুলনার খামারি এস আর কে শাওন। তিনি বলেন, এমন একদিন আসবে, যেদিন বাংলাদেশেও নিল ক্লিন্ট, রবেটসন, মুলার, সিনমরো, জুলিও, পাভেলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রজাতির কবুতর প্রজনন করা যাবে-এমন স্বপ্নই আমরা দেখছি। দুটি কবুতর ফার্মের মালিক সামশেদ আলম জানান, বাংলাদেশে অনেক কবুতর খামারি আছেন। যারা নির্দিষ্ট প্রজাতির কবুতরের প্রজনন নিয়ে কাজ করছেন। তাদের কবুতরও রপ্তানি হচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে কবুতর পালনে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বসেরা হবে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কবুতর সুনাম কুড়াবে।