প্রচ্ছদ রাজনীতি বিতর্কিত নুরের টার্গেট কি?

বিতর্কিত নুরের টার্গেট কি?

26
বিতর্কিত নুরের টার্গেট কি?

তরুণদের নিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে, এমন তথ্য জানান তিনি। নুর বলেন, আমি আওয়ামী লীগ, বিএনপির রাজনীতি করিনি, করব না। আমরা একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক দল গঠন করতে কাজ করে যাচ্ছি। আর এই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্দেশ্যে যুব, শ্রমিক ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ গঠন করেছে, বলেও জানান তিনি।
নুর আরও বলেন, এখানে লুকোচুরির কিছুই নেই। আমরা তরুণদের নেতৃত্বে একটা নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করতে চাই। যারা নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরি করতে চায়, পজেটিভ চিন্তা করে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার জন্য, আমি তাদের সাথে প্রয়োজনে মিলেমিশে কাজ করতে চাই। আর, যদি সে রকম কাউকে না পাই, তবে একাই এগিয়ে যাব। তিনি বলেন, রাজনীতি করতে প্রয়োজন ত্যাগ এবং ইচ্ছা। বিশাল অর্থের প্রয়োজন নেই এখানে। ইচ্ছা থাকলে মানুষ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

ভিপি নুরের এই ঘোষণা অনেকেই ভাবিয়ে তুলেছে। সেইসাথে নুরের টার্গেট কি? এই প্রশ্ন এখন অনেকেই তুলছে। নুরকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন এমন একজন জানান, এক সময়ের চাকরি প্রার্থী নুর, হঠাৎ করেই ডাকসু ভিপি হয়ে গেল। ভিপি হয়েই যেন সে সরকারবিরোধী কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে।
ক্যাম্পাসে বাম ধারার রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, ডাকসু ভিপির সম্মান বা মর্যাদা অনেক। কিন্তু তার কাজ তো জাতীয় রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করে, ‘সস্তা আলোচনা’য় আসা হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করবেন তিনি। শিক্ষার্থীদের অভাব, অভিযোগ বা দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তবে নুর হয়তো অনুধাবন করতে পেরেছে পূর্বেকার ডাকসু ভিপিরা জাতীয় রাজনীতিতে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। তাই হয়তো তিনি একেবারে জাতীয় রাজনীতিতেই নামতে চাইছে।

তবে নুরের বেশ কিছু বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ। তাদের মতে, নুরকে এখন টেলিভিশনের পর্দা ছাড়া দেখাই যায় না। চলাফেরাও করে গাড়িতে করে। পোশাকেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। কোটা আন্দোলনের সময়ে নুরের জামা আর এখনকার জামা দেখলেই তা অনুধাবন করা যায়। নতুন রাজনৈতিক দল করার ঘোষণাও দিয়েছে, সেখানেও বলছে টাকা কোন বিষয় না। ফলে সবকিছু মিলিয়ে নুরের টার্গেট কি- এটা যেন অনেক খানিই পরিষ্কার।
একজন জানান, বাংলাদেশে দুটি দলের বাইরে বাকি দলগুলোকে কেউ ভালো করে চেনেও না। অন্যান্য দলগুলো এই দুই দলের সাথে জোট হয়েই রাজনীতি করছে। ফলে, নুরকে দিয়ে হয়তো জামাত-বিএনপিরাই নতুন দল করাচ্ছে। কারণ, এখন তো নুরকে দিয়ে তারা যা ইচ্ছে, তা বলাতে পারছে। নুর যা বলে, যা করে- সবই তাদের তৈরি করা। দল হলে এটা করতে আরও সুবিধা হবে। তাদের কাজ উদ্ধার হলে, নুর হয়তো এমপিও হতে পারে। কারণ, কোন দলের সাথে জোট করলে তো শরিক দল হিসেবে দুই একটা হলেও আসন পাবে। আর যদি এর আগেই নুরের কারসাজি ধরা খেয়ে যায়, তাহলে হয়তো সবকিছু এখানেই শেষ। তবে নুর যে এখন অনেক অর্থ কড়ি করেছে, তা তার চলাফেরা দেখলেই বুঝা যায়।