প্রচ্ছদ স্পটলাইট তারেকের সাথে বৈঠক; শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা নেই ভারতের?

তারেকের সাথে বৈঠক; শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা নেই ভারতের?

126
তারেকের সাথে বৈঠক; শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা নেই ভারতের?

করোনা সংকটের মধ্যেই লন্ডনে উড়ে গেছেন ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থার তিনজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাজ্যে ভারতীয় দূতাবাসের এক পদস্থ কর্তা। এই চারজন লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন। গত ৮ এবং ৯ সেপ্টেম্বর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, বলে জানা গেছে। তারেক জিয়া নিজেই ঢাকায় টেলিফোন করে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তার বৈঠকের খবর জানিয়েছেন। বাংলাদেশে বিএনপির অন্তত দুইজন নেতাকে তারেক বলেছেন ‘ভারতের সংগে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে’। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বাংলাদেশ সফরের পরপরই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তারেকের সংগে বৈঠক নিয়ে কূটনীতিক পাড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট শ্রিংলা আকস্মিক সফরে ঢাকা এসেছিলেন। এই সফর দুই দেশের মধ্যে তেরি হওয়া অস্বস্তিগুলো দূর করার একটি প্রয়াস বলেই মনে করছেন কূটনীতিক মহল।

কিন্তু এই সফরের পরপরই গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত আকস্মিকভাবে বাংলাদেশে পেয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানা পোড়েন এবং অস্বস্তি প্রকাশ্য হয়েছে, বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। এই পেয়াজ বন্ধের আগের সপ্তাহেই তারেকের সঙ্গে ভারতের কর্তা ব্যক্তিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে তারেক জিয়া দিল্লী সফরে গিয়ে ছিলেন। সেখানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তারেক জিয়া। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার অভিযোগ করেন যে, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি ভারতের কাছে মুচলেকা দিয়েই ক্ষমতায় আসার পথ করেছিল। শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেই ‘র’ এর সঙ্গে বিএনপির ‘গোপন চুক্তি’র কথা বলেছিলেন। ভারত-কিংবা পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করা হয়নি কখনো। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সংগে বিএনপির সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।

ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, তারেক জিয়া উলফাসহ একাধিক ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে মদদ দিচ্ছেন। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনার পর বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের চুড়ান্ত অবনতি হয়। ভারতের গণমাধ্যমে দাবি করে যে, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সরবরাহ করার জন্যই এই অস্ত্র আনা হয়েছিল। এরপর থেকেই ভারতের সর্বমহল থেকে তারেক বিরোধী অবস্থান প্রকাশ্যে বলা হচ্ছিল। ২০১৮ ‘র নির্বাচনের আগে আমীর খসরু মাহমুদ, আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা দিল্লী যান। তারা বিজেপির থিংক ট্যাংকের সঙ্গে সখ্যতা তৈরির চেষ্টা করেন। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয় যে, তারেক কে বাদ না দিলে কোন সমর্থন নয়। ২০১৪ এবং ২০১৮র নির্বাচনে তারেক জিয়ার কারণেই ভারত বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
গত কিছুদিন ধরেই বিএনপির একাধিক নেতা তারেক জিয়ার ব্যাপারে ভারতকে নমনীয় করার চেষ্টা করে আসছিলো। তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-চীন ঘনিষ্ঠতাসহ আরো কিছু কারণে ভারতের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের টানা পোড়েন চলছে, বলে অনেকে মনে করেন। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে তারেকের বৈঠককে অনেকেই ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন। এই বৈঠকের পর বিএনপি নেতাদের কথা-বার্তাতেও পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিএনপির নেতারা এখন ভারত বিরোধী বক্তব্য রাখছেন না। এমনকি ভারত পেয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও বিএনপির কেউ তার নিন্দা জানায়নি।