প্রচ্ছদ রাজনীতি খালেদা রাজনীতি ছাড়লেন, জিয়া পরিবারের বাইরে বিএনপির নেতৃত্ব

খালেদা রাজনীতি ছাড়লেন, জিয়া পরিবারের বাইরে বিএনপির নেতৃত্ব

55
খালেদা রাজনীতি ছাড়লেন, জিয়া পরিবারের বাইরে বিএনপির নেতৃত্ব

দ্বিতীয় দফা জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির পর এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে থাকছেন না। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর বেগম জিয়া মুখে কুলুপ এঁটেছেন এবং এমনকি টেলিফোনেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কোন রকম যোগাযোগ করছেন না। বিএনপির একাধিক নেতা বেগম জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, বিশেষত তার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান কি হবে, বিএনপি কোন কঠোর বিবৃতি দিবে কিনা ইত্যাদি নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। বেগম জিয়ার ছোট ভাই শামিম ইস্কান্দার এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতাদের কোন রকম কথা-বার্তা না বলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ বেগম জিয়া যে, রাজনীতি থেকে এখন বিদায়ের দোরগোড়ায় সেটি পরিষ্কার। বেগম জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয় তারেক জিয়াকে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বিএনপিতে তারেক জিয়ার অবস্থান অত্যন্ত নাজুক। বিএনপিতে তিনি একজন ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে মনোনয়ন বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য ইত্যাদি নানা কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তারেক জিয়ার কোন ইমেজ নেই। বরং তারেক জিয়া যত দ্রুত দলের কর্তৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন তত দলের উপকার, এই রকম কথা এখন বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন। তারেক জিয়ার শুভাকাঙ্ক্ষী তারাও আপদকালীন সময়ের জন্য তারেক জিয়াকে দলের পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। তাদের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অন্যতম।

ডা. জাফরুল্লাহর মতো অনেকেই মনে করেন যে, লন্ডনে থেকে বিএনপির মতো একটি দল পরিচালনা করা সম্ভব না। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, বিএনপি ঐতিহাসিকভাবেই একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকবে। কারণ দলটির মূল ভিত্তিই হল আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করা। এটি আওয়ামী লীগ বিরোধী জনগণের একটি আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক রাজনৈতিক সংগঠন। কাজেই এটির নেতা কে থাকল, কি থাকল, সেটি বড় বিষয় নয়। একই সঙ্গে বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, বিজেপি মডেলে যদি বিএনপিকে সাজানো যায়। দলের মধ্যে থেকেই জিয়া পরিবারের বাইরে যদি কাউকে নেতা হিসেবে দেওয়া যায়, তাহলে দলটি সহজেই সংগঠিত হতে পারবে এবং একটি সরকার বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করতে পারবে।

খালেদা জিয়ার এই বিষয়ে কোন আপত্তি নেই, বলেই একাধিক সূত্র মনে করছে। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠরা বলছে, বেগম জিয়া মনে করেন যে জিয়া পরিবার যেভাবে টার্গেট হয়েছে তাতে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও জিয়া পরিবারের বাইরে থেকেই কাউকে নেতৃত্বে আনা উচিত, যিনি দলটিকে পরিচালনা করতে পারবেন।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, কিছুদিনের জন্য জিয়া পরিবারের বাইরে নেতা হয়েছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার তবে সেটি বেশি দিন স্থায়ী হতে পারেনি। এর মধ্যে দলের ভেতর কোন্দল বিভক্তি ইত্যাদি নানা জটিলতার কারণে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। জিয়া পরিবারের অনেকেই মনে করছে যে, এখন তারেককে নিয়ে যে বিতর্ক, অনাস্থা সেই প্রেক্ষাপটে তারেক যদি দলের নেতৃত্ব থেকে সরে যান এবং নতুন নেতাকে যদি দায়িত্ব দেন।

তাহলেও দলের মধ্যে এই বিভক্তি অনাস্থা তৈরি হবে। দলের মধ্য থেকে তখন তারেক জিয়া বা জিয়া পরিবারের কাউকে দলের নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হবে এবং তখন তিনি নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকার হবেন।
কিন্তু এখন খালেদা জিয়ার বদলে, তারেক জিয়াকে কেউ মেনে নিতে পারছেন না। আর শুধু মাত্র দেশীয় প্রেক্ষপটে এই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে তা না। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের কূটনীতিকরা বিএনপিকে জিয়া পরিবার মুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছে। বিশেষ করে, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা তার মামলা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিতে তার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় তারা মনে করছেন, তারেক জিয়ার বাইরে অন্য কাউকে নেতা করার জন্য, তারেক জিয়ার ব্যাপারে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্টের আপত্তি রয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের পক্ষ থেকে বিএনপির একাধিক নেতাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তারেকের সঙ্গে আইএসআই এবং ভারতীয় জঙ্গিদের একাধিক সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রয়েছে এবং এর কারণেই তারেকে আন্তর্জাতিকভাবে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা নেতা করা যায় কিনা- এই বিষয়টি কূটনীতিক মহলে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে।
অবশ্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, জিয়া পরিবার বিএনপির ঐক্যের প্রতীক। জিয়া পরিবারের কেউ দায়িত্ব পালন করুক বা না করুক, তারা দলের নেতা এই কারণেই এতো সংকটের মুখে ভাঙনের মুখে পড়ছে না। কিন্তু যখনই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যাবেন তখনই দলের মধ্যে নানা রকম কোন্দল এবং বিভক্তি দানা বেঁধে উঠতে পারে। এই অবস্থায় তারা দলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করলেও নামকাওয়াস্তে তারেককে দলের নেতৃত্বে রাখতে চায়।