প্রচ্ছদ রাজনীতি কেনো আওয়ামী লীগ নেতারা অভিনেত্রীদের এড়িয়ে চলছেন

কেনো আওয়ামী লীগ নেতারা অভিনেত্রীদের এড়িয়ে চলছেন

48
কেনো আওয়ামী লীগ নেতারা অভিনেত্রীদের এড়িয়ে চলছেন

জিন্দাবাদের সুর পাল্টে আজকাল কন্ঠে জয় বাংলা শোনা যায় বেশকিছু অভিনেত্রীর। হাওয়া ভবনের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে তারেকের সাথে সেলফিধারী অনেকটাই ফুরিয়ে যাওয়া এসকল অভিনেত্রী পালক বদলে ভাসতে চাচ্ছেন নৌকার পালের হাওয়ায়। ১১ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন এই দীর্ঘ সময়ে বিনোদন জগতের অনেক তারকাই ভিড়তে চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ধারার বাইরের অনেক অভিনেত্রীকেই দেখা গেছে আওয়ামী লীগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদেরকে আওয়ামীপন্থী হিসাবে প্রচার করতে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনের সময়ে দেখা গিয়েছিলো অনেক বেকার অভিনেতা অভিনেত্রী যারা এখন তাদের কাজের জায়গাতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও আসতে চেয়েছিলেন নির্বাচনের লাইমলাইটে। অনেক অভিনেত্রীকে দেখা গিয়েছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবেও।

বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) পন্থী অনেক তারকারাই আবার ভিড়তে চাইছেন আওয়ামী লীগে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় যোগ দিয়েছিলো এ সকল তথাকথিত তারকারা, নির্বাচনী ক্যাম্পেইন পরিণত হয়েছিলো তারকার মেলায়।
বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিতে ঠাই পাওয়ার আশায় আবার সরব হয়ে উঠেছেন সেই সকল অভিনেত্রীরা। তারা আবারও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের কাছে। কিন্তু ব্যস্ততার অজুহাতে ফোনকল এবং সরাসরি সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার সময়ে ভিন্ন মতাদর্শ লালনকারী তথাকথিত আওয়ামী লীগ নেতাদের অপকর্মের সাথে সাথে বেরিয়ে আসে বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর নামও। যার মধ্যে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগের নামধারী নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়াসহ অনেকের সাথেই নাটক ও সিনেমার অনেক অভিনেত্রীদের নাম জড়িয়ে পড়েছিলো।

আওয়ামী লীগের উপরমহলের অনেক নেতাদের সাথে প্রায়ই এসকল অভিনেত্রীদের ছবি তুলতে দেখা যায়। করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে রিজেন্ট হাসপাতাল মালিক সাহেদ এবং জেকেজির সাবরিনা র‍্যাবের হাতে ধরা পড়বার পর থেকে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথে ছবি তোলার বিষয়টি সামনে চলে আসে।
সাম্প্রতিককালে নাটক ও সিনেমার বাজার বেশ নাজুক। এই সংকটময় অবস্থাতেই বেশকিছু বেকার অভিনেত্রী এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ছায়াতলে এসে নিজেদের আখের গোছাতে। এসকল পড়তি অভিনেত্রীদের অনেকেরই চাওয়া নির্বাচনের টিকেট অথবা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে পথ পরিস্কার করে চলা। কেউ কেউ আবার আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহারে জড়াচ্ছেন জালিয়াতি ও প্রতারণা সাথেও। এসকল স্বার্থান্বেষী অভিনেত্রীদের কারণে একদিকে যেমন আওয়ামী লীগের দুর্নাম হচ্ছে অপরদিকে ইমেজ সংকটে ফেলছে আওয়ামী লীগ নেতারা। যার কারণে অনেকটাই এড়িয়ে চলছেন এসকল অভিনেত্রীদের।