প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনে কেনো নিষেধাজ্ঞা

শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনে কেনো নিষেধাজ্ঞা

30
শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনে কেনো নিষেধাজ্ঞা

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর। শেখ হাসিনার জন্মদিন নিয়ে সবসময় আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি আবেগ এবং ভালোবাসা কাজ করে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এই জন্মদিন উৎসবটা পালন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। কিন্তু শেখ হাসিনা বরাবরই তার জন্মদিন নিয়ে কোন রকম আতিশষ্য, উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতার ঘোর বিরোধী। তিনি জন্মদিনের ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা অবলম্বন করেন। বেশিদিন আগের কথা নয়, গত বছরই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। যুবলীগের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বরকে ‘জনগণের ক্ষমতায়ণ দিবস’ হিসাবেও ঘোষণা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রচিন্তা দর্শন, জনগনের ক্ষমতায়ণ এবং বিশ্বশান্তির মডেল হিসাবে জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছিল। এটি বিশ্বে এখন একমাত্র শান্তির দর্শন। এই শান্তির দর্শনকে জনগনের মধ্যে প্রচারের লক্ষেই যুবলীগ এই দিবসকে বেছে নিয়েছিলো। এই উপলক্ষ্যে যখন প্রথম অনুষ্ঠানটি করা হয় ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, সেই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের পরদিনই অনুষ্ঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক, সেই বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উৎসব নিয়ে কথা বলেন এবং তারা এই জন্মদিন উৎসবটি পালন করতে চান।

ঐ বৈঠকে আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান যে, যুবলীগ এই ধরণের একটি অনুষ্ঠান করেছে এবং অনুষ্ঠানে আমরা গিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও আমরা এটা করতে চাই। শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে ঐ প্রস্তাব নাকচ করে দেন এবং তিনি বলেন যে, চাঁদার টাকায় আমার জন্মদিনের উৎসব করা হচ্ছে, এগুলো আমি বরদাস্ত করবো না। এর পরপরই শুরু হয় ক্রাশ প্রোগ্রাম এবং শুদ্ধি অভিযান। যাতে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের অনেক বড় বড় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় ক্যাসিনো বাণিজ্যের অভিযোগে।
এবারের শেখ হাসিনার জন্মদিনটি একটু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথমত প্রায় প্রতি জন্মদিনে রাষ্ট্রীয় কাজে তাকে দেশের বাইরে থাকতে হয়। কারণ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এই সেপ্টেম্বরেই এবং সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকেই তাকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে হয়।

তাই তিনি দেশে ফেরেন তাঁর জন্মদিনের পর। এখানে ঢাকায় বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠন জন্মদিন উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল, মিলাদ এবং মিছিল-শোভা যাত্রার মাধ্যমে ছোটখাটো আনুষ্ঠানিকতা করে, সেখানে শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকেননা। কিন্তু এবার করোনার কারণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সে কারণে অনেক দিন পর এবার জন্মদিনে তিনি দেশে থাকছেন। সেজন্যেই সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত সম্পাদক মণ্ডলীর সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতির জন্মদিনের বিষয়টি আলোচনা হয়, কিন্তু শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা গেল না এবং জন্মদিনের ব্যাপারে শেখ হাসিনার একটি নিজস্ব চিন্তাভাবনাই আছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব বা আওয়ামী লীগের সভাপতিত্বকে একটা দায়িত্ব মনে করেন। এটাকে কোন আতিশয্যের বিষয় বলে মনে করেন না। আর এই কারণে তিনি জন্মদিন পালনের ব্যাপারে এক ধরণের নিষেধাজ্ঞাই আরোপ করেন। কারণ তিনি মনে করেন যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যেই তিনি কাজ করছেন এবং এটা ব্যতীত অন্যকিছু করা তাঁর দায়িত্ব নয়।

নিজেকে জাহির করা বা তাকে নিয়ে উৎসব-আনন্দ হোক এর ঘোর বিরোধী শেখ হাসিনা। চারবারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও তিনি আত্মপ্রচারবিমুখ এবং তাকে নিয়ে কোন বড় আনুষ্ঠানিকতা হোক সেটার ঘোর বিরোধী শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠদেরকে বলেছেন যে, এটার ফলে মানুষের কাছে একটা ভুল বার্তা যায়, তাছাড়া জনগণের সেবা করাই তাঁর দায়িত্ব। জনগণের সেবকের এই ধরণের উৎসব করা উচিত নয়। কিন্তু দলের নেতাকর্মীরা সবসময় দলের মূল স্তম্ভ এবং যাকে ঘিরে দলটি শক্তিশালী হয়েছে, যাকে ঘিরে দলটি আবর্তিত হচ্ছে তাকে সম্মান জানাতে চায়, তাকে অভিষিক্ত করতে চায় কিন্তু শেখ হাসিনা এবারও জন্মদিনের ব্যাপারে আগের মতোই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রেখেছেন। যখন করোনার কারণে দেশের মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা আর অস্বস্তি, সেসময় জন্মদিন নিয়ে কেউ যেন বাড়াবাড়ি না করে সে ব্যাপারে তিনি এক ধরণের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। ফলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষটির জন্মদিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।