প্রচ্ছদ রাজনীতি দুর্বৃত্তদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ নেতাদের ছত্রছায়ায়!

দুর্বৃত্তদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ নেতাদের ছত্রছায়ায়!

23
দুর্বৃত্তদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ নেতাদের ছত্রছায়ায়!

আওয়ামী লীগে এখন শুদ্ধি অভিযান চলছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা- যেখানেই অনুপ্রবেশকারী হিসেবে যারা অনিয়ম করছে এবং দলের পরিচয় ব্যবহার করে নানারকম দুর্বৃত্তায়ন আর অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকছেন তাঁদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা থেকে প্রাপ্ত খবরে দেখা গেছে যে, গত ৩ মাসে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ বিভিন্ন স্তরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং ত্রাণ আত্মসাতসহ নানারকম অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই সাড়ে ৩ হাজার ব্যক্তির প্রত্যেকেই ২০০৮ এর পরে আওয়ামী লীগে এসেছিল। তাঁরা হয় বিএনপি নাহলে অন্য কোন দল থেকে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছিল।

এই বিষয়ে অনুসন্ধান করে আরও দেখা গেছে যে, দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারীদের যে তালিকা তৈরি করেছিলেন, সেই তালিকায় যাদের নাম ছিল সেই ব্যক্তিরাই এই ধরণের অপকর্ম এবং দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই অনুপ্রবেশকারীদের আওয়ামী লীগ সভাপতি চিহ্নিত করার পরেও কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন তোলপাড় চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগে যাদেরকে অনুরপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যারা দলের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে- এরা প্রত্যেকেই বড় বড় নেতাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগে ঢুকেছে বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, কোন অনুপ্রবেশকারী বড় নেতার অনুকম্পা, করুণা এবং আশীর্বাদ ছাড়া দলে ঢুকতে পারে না। তিনি এটাও বলেন যে, এই অনুপ্রবেশকারীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারাই এবং আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্যে এবং তাঁদের প্রভাব বলয় বিস্তারের জন্যে এই ধরণের অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, লালন-পালন করেন এবং তাদেরকে অবৈধ সুযোগ সুবিধা দেন।

এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ফরিদপুরে যে শুদ্ধি অভিযান চলমান রয়েছে, সেই শুদ্ধি অভিযানে যারা আটক হয়েছে তারা সবাই ২০০৮ এর পরে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসল আওয়ামী লীগকে কোনঠাসা করার জন্য এই অনুপ্রবেশকারীদের লালন করেছে এবং আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে বিভিন্ন কমিটিতে ঢুকিয়েছেন। আসল আওয়ামী লীগের লোকেরা ঠিকভাবে কথা শোনে না, অনুগত হয় না এবং তারা থাকলে তাদের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যে এলাকায় যে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন, সেই এলাকায় তার পছন্দমতো লোকজনকে জড়ো করেছেন এবং তাদেরকে দিয়ে একটা আলাদা আওয়ামী লীগ গঠন করেছে।
শুধু ফরিদপুর নয়, দেশের প্রায় সবগুলো জেলাতেই এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা কখনোই আওয়ামী লীগে ঢুকতে পারতো না যদি ওই নেতারা আশ্রয় প্রশ্রয় বা লালন পালন না করতেন।

দেখা গেছে যে, যারা অনুপ্রবেশকারী এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগের কোন না কোন নেতার মদদ এবং ছত্রছায়ায় দলে প্রবেশ করেছে।
সাহেদ যেমন একজন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যের মাধ্যমে দলে ঢুকেছে বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি পাপিয়াও আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সংগঠনের নেত্রীর মাধ্যমেই দলে জায়গা করে নিয়েছে বলেও নেতাকর্মীরা বলছেন। সেরকমভাবে যারা এখন দুর্বৃত্তায়ণ এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়েছেন বা যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কাজ করছেন, তাদের প্রত্যেকের পেছনেই একজন গডফাদার রয়েছে। গডফাদারটিই হলো আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।
সে কারণেই আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বলেছেন, প্রভাবশালী নেতাদেরকে যদি নিবৃত্ত করা না যায় তাহলে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাবে না।