প্রচ্ছদ রাজনীতি রিজভী মনোনয়ন পত্র বিক্রির টাকা চান, তারেকের ‘না’!

রিজভী মনোনয়ন পত্র বিক্রির টাকা চান, তারেকের ‘না’!

53
রিজভী মনোনয়ন পত্র বিক্রির টাকা চান, তারেকের 'না'!

মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের চারটি আসনের উপনির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া হিসেবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। বিএনপির হাইকমান্ড আশা করছে, নির্বাচনগুলোর জন্য ব্যাপক সংখ্যক মনোনয়নপত্র বিক্রি হবে। আর এই মনোনয়ন বিক্রির প্রাপ্ত টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসের ইউটিলিটি বিল, স্টাফদের বেতন পরিশোধ ও পার্টি অফিসের সাজসজ্জা করতে চান রিজভীরা। কিন্তু দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই ইচ্ছায় বাধ সেধেছেন।
বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিসে কর্মরত একজন স্টাফের বরাতে জানা গেছে, চারটি শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি।

যার জন্য নির্বাচনে আগ্রহীরা বৃহস্পতিবার থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। আর মনোনয়ন বিক্রির টাকার হিসাব রাখছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। চারটি আসনে কমপক্ষে চল্লিশ জন বিএনপি নেতা মনোনয়ন তুলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য রাখা হয়েছে ১০ হাজার টাকা এবং ফরম জমা দেয়ার সময় প্রতিজন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ২৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। শুধু মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি ও জামানত থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা আয় হতে পারে দলের। আর সেই টাকা দিয়ে পার্টি অফিসের ইউটিলিটি বিল ও স্টাফদের আটকে রাখা বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে। রিজভী আহমেদ তাই চাচ্ছেন। কিন্তু রিজভী চাইলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র ২ লাখ টাকা পার্টির ফান্ডে রেখে বাকি টাকা মির্জা আব্বাসের হাতে তুলে দিতে রিজভীকে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তবে কি কারণে এসব টাকা মির্জা আব্বাসের হাতে তুলে দিতে হবে, সেই বিষয়ে কিছু জানে না।

এদিকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জামানত থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে রিজভীর পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে। গুঞ্জন উঠেছে, দলীয় পার্টি অফিস সাজসজ্জা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও স্টাফদের বেতন পরিশোধে মনোনয়ন বিক্রির টাকার ব্যয় নিয়েও রাজনীতি শুরু হয়েছে দলে। দলীয় আয় শুরু হওয়ায় কেউ কাউকে বিশ্বাস করছেন না। মনোনয়ন বিক্রির টাকা ফান্ডে জমা না দিয়ে মির্জা আব্বাসের হাতে তুলে দেয়াটাকে বাঁকা চোখে দেখছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। মনোনয়ন পত্র বিক্রির থেকে মাত্র কয়েক লাখ টাকার লোভ সহ্য হচ্ছে না নেতাদের। আর চূড়ান্ত মনোনয়নে সময়ে কোটি টাকারও বাণিজ্য হয় বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তাই জয়ী হতে নয়, বরং বাণিজ্য করতেই বিএনপি মাঝে মাঝে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর এই কারণে বিএনপি নির্বাচনী রাজনীতিতে বারবার পরাজিত হয় বলেও মনে করছেন তারা।