প্রচ্ছদ রাজনীতি এ সময়ে কেনো মন্ত্রিসভায় রদবদল?

এ সময়ে কেনো মন্ত্রিসভায় রদবদল?

63
এ সময়ে কেনো মন্ত্রিসভায় রদবদল?

মন্ত্রিসভার রদবদল এখন প্রশাসনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। মন্ত্রিসভার রদবদল কবে হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে, কারা থাকছেন, কারা থাকছেন না ইত্যাদি নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা এখন কান পাতলেই শোনা যায়। সরকারের বিভিন্ন সূত্র থেকে বলা হচ্ছিল যে, জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পরপরই মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন আজ শেষ হয়েছে। অধিবেশন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন এবং আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারের একাধিক সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা- উপজেলা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করেই মন্ত্রিসভার রদবদল করা হবে। বেশ কিছুদিন ধরেই মন্ত্রিসভার রদবদলের কথা আলোচনা করা হচ্ছিল। বিভিন্ন সময় এনিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখিও হচ্ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার কাঙ্খিত রদবদল হয়নি।

তবে সরকারের একাধিক সূত্র বলছে যে, এখন মন্ত্রিসভার রদবদল সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার রদবদলের একক ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী যখন যেভাবে মনে করবেন মন্ত্রিসভার রদবদল করতে পারবেন। অনেকেই মনে করেছিল যে, করোনা প্রকোপ একটু কমে যাওয়ার পর মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। সেই হিসাবে গত জুলাই মাসে বাজেটের পরপরই মন্ত্রিসভার রদবদলের কথা উঠেছিল। কিন্তু সেই সময় মন্ত্রিসভার রদবদল হয়নি। এরপর শোকের মাস আগস্ট শুরু হলো। আগস্ট মাসে সাধারণত বড় ধরণের কোন নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেন না আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই প্রেক্ষাপটেই সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিসভার রদবদলের গুঞ্জন ছিলো। এর মধ্যে বাজেট অধিবেশন হয়েছে।

মন্ত্রিসভার যে রদবদল হচ্ছে তার কিছু সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কারণ আওয়ামী লীগে সভাপতি ইতোমধ্যেই আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অসম্পূর্ণ কমিটিগুলো চূড়ান্ত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন সম্পাদক মণ্ডলীর সঙ্গে বৈঠকে।
আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, এর অর্থ যে তিনি এখন সরকারকে ঢেলে সাজানোর কাজে হাত দেবেন। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসটা আওয়ামী লীগ সভাপতির জন্য ব্যস্ত সময় যায়। এই সময় তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যান। এবার করোনার কারণে সাধারণ অধিবেশনে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। আর তাই এই সময় সরকার, প্রশাসন এবং দলের মধ্যে বেশকিছু পরিবর্তন হবে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভার রদবদল কবে হবে সে সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট খবর না থাকলেও মন্ত্রী হতে ইচ্ছুক অনেকের দৌঁড়যাপ শুরু হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির সুনজরে আসার জন্য চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির যারা ঘনিষ্ঠ, তাদের সঙ্গেও মন্ত্রী প্রত্যাশি অনেকে যোগাযোগ করছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে মন্ত্রিসভা নিয়ে গুঞ্জন আলাপ আলোচনাও কম হচ্ছে না। মন্ত্রিসভার কি ছোট রদবদল হবে নাকি কোন বড় ধরণের রদবদল হবে কিংবা মন্ত্রিসভায় কি নতুন মন্ত্রীত্ব হবে নাকি যারা আছেন তাদের মধ্য থেকেই পরিবর্তন করা হবে ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ আওয়ামী লীগের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।
তবে একাধিক সূত্র বলছে যে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার যে রদবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেটি সুস্পষ্ট। এ ব্যাপারে তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। মন্ত্রিসভার রদবদলের এই গুঞ্জনটি হতো না যদি দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম মন্ত্রণালয় কোন মন্ত্রী ছাড়া না থাকতো। আর এ কারণেই মনে করা হচ্ছে যে, ছোটখাটো হলেও মন্ত্রিসভার একটি রদবদল অনুষ্ঠিত হবে। এই রদবদলে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হতে পারে। তবে যে সমস্ত মন্ত্রণালয় নিয়ে বাজারে আলোচনা হচ্ছে তা পরিবর্তন নাও হতে পারে। কারণ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংষ্কৃতি অনুযায়ী তিনি গুরুতর অপরাধ ছাড়া শুধুমাত্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ব্যর্থ হলে কাউকে সরিয়ে দেন না। বরং তার পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষ করতে দেন। আর তাই মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে অনেক রকমের গুঞ্জন কথাবার্তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এটির অবয়ব কি হবে বা কবে হবে সে সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই কারো কাছে।