প্রচ্ছদ স্পটলাইট বিজেপি কেনো শেখ হাসিনা-প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন?

বিজেপি কেনো শেখ হাসিনা-প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন?

125
বিজেপি কেনো শেখ হাসিনা-প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন?

ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিশেষ করে করোনা সংকটের মধ্যেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রীংলার বাংলাদেশ সফরের পর এই আলোচনা আরও বেশি করে হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কি টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে নাকি এই সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রক্রিয়া চলছে? যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক অত্যন্ত সুন্দর এবং এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ভারত বাংলাদেশ দুই দেশই আশাবাদী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা কি ভারতের কূটনীতিকরা সবসময় বলছেন। নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সবার প্রথমে। উপমহাদেশের বন্ধুত্বের তালিকায় বাংলাদেশই ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতম বন্ধু। কূটনৈতিকরা এটাও বলছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে চীন বাংলাদেশ সম্পর্কের যে নতুন উত্তরণ ঘনিষ্ঠতা

এবং বাংলাদেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততায় ভারত উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যখন সীমান্তে চীনের সঙ্গে ভারতের প্রকাশ্য উত্তেজনা এবং যুদ্ধাবস্থা চলছে। তবে ভারতের থিংকট্যাংক, কূটনীতিক এবং বিশ্লেষকরা বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের অশ্বস্তির নতুন উপকরণ খুঁজে পেয়েছেন। এই উপকরণ তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি বক্তব্যে বলেছেন, শেখ হাসিনা তার আইডল। শেখ হাসিনার আদর্শ দ্বারাই তিনি অনুপ্রাণিত হন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী শুধু রাজিব গান্ধী বা সোনিয়া গান্ধীর কন্যা নন। তিনি কংগ্রেস ও ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি।
কংগ্রেসের অনেকেই মনে করেন যে, কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেতা হলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বিশেষ করে তার মধ্যে অনেক ভারতবাসী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। আর শেখ হাসিনার প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তিনি কোন রাখঢাক রাখেন না। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার আগে শেখ হাসিনা যখন ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য হোটেলে ছুটে এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। দুজনের মধ্যে আবেগঘন এক সাক্ষাৎকার হয়েছিল।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবেই কংগ্রেসের সঙ্গে অনেক ঘনিষ্ঠ। একদিক দিয়ে যেমন কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ, উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শ আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শের মধ্যে মিল পাওয়া যায়, তেমনি ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে কংগ্রেসের ভূমিকা এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর নৈকট্য, দুই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে একটি নৈকট্যের অবস্থানে নিয়ে আসে।
সেদিক থেকে বিজেপির সাথে আওয়ামী লীগের আদর্শিক কোন সম্পর্ক নেই। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আছে, সেজন্য সরকারের সঙ্গে আরেকটি সরকারের সম্পর্ক আছে। যদিও বিজেপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার একাধিক উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হল এই যে, কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই রাজনৈতিক দলটির নীতি আদর্শের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শের বিপরীতমুখী অবস্থান রয়েছে। কিন্তু তারপরও নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক এগিয়েই গেছে। কূটনীতিকরা মনে করেন এটি রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক না, এটি সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক। আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যখন প্রকাশ্যেই শেখ হাসিনার বন্দনা করেন, তখন বিজেপির কোন কোন নেতা আতঙ্কিত হতেই পারেন।

সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক ধ্বসের মুখে থাকা বিজেপি সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে। আগামী নির্বাচনে কংগ্রেস প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে একটা বড় ধরণের ভোট বিপ্লব ঘটাতে পারে এমন পূর্ভাবাস দিচ্ছে ভারতের কোন কোন মহল থেকে। বিশেষ করে ভারতের উদার প্রগতিশীল মনস্ক মানুষরা বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে। এই রকম বাস্তবতায় শেখ হাসিনা প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে বিজেপি উদ্বিগ্ন কিনা এই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশ সবসময় একটা বড় ফ্যাক্টর। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের নীতি অবস্থান ইত্যাদি কিছুটা হলেও নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পশ্চিম বাংলায় বাংলাদেশের মনোভাব সম্পর্কে একটা প্রভাব বলয় সবসময় কাজ করে। এই বাস্তবতায় শেখ হাসিনা সম্পর্কে প্রিয়াঙ্কার প্রশংসা বিজেপিকে উদ্বিগ্ন করেছে কিনা- সেই প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে। কারণ করোনার পর থেকেই নানা সংকট ও অস্থিরতায় ভোগা বিজেপি এখন সবকিছুতেই ভয় পাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই উক্তিতেও বিজেপি ভয় পেয়েছে কিনা- সেই প্রশ্ন উঠেছে ভারতের প্রগতিশীল মহলে।