প্রচ্ছদ রাজনীতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে মন্ত্রীদের রিপোর্ট কার্ড

প্রধানমন্ত্রীর হাতে মন্ত্রীদের রিপোর্ট কার্ড

73
প্রধানমন্ত্রীর হাতে মন্ত্রীদের রিপোর্ট কার্ড

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল। মন্ত্রিসভাটি দুইবার ছোটখাটো রদবদল হয়ে গত ২০ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, একজন মন্ত্রীর যোগ্যতা এবং তিনি কিভাবে কাজ করছেন সেটি বোঝার জন্য ২০ মাস যথেষ্ঠ সময়, এই ২০ মাসে মন্ত্রীদের মধ্যে কে কেমন কাজ করেছেন তার রিপোর্ট কার্ড এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। এই রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার রদবদল করতে চাচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই মন্ত্রিসভার রদবদল হতে পারে। এই রদবদল হওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের গত ২০ মাসের পারফর্মেন্স একটি অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, একজন মন্ত্রী মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করার পর কিভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, তার ভালো কাজ কি কি এবং তার ব্যর্থতা কি কি এ সম্বন্ধে প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব উদ্যোগে খোঁজ খবর নিয়েছেন। প্রত্যেকটি মন্ত্রীর একটি পারফর্মেন্স রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পারফর্মেন্স রিপোর্টের ভিত্তিতে যে শুধু মন্ত্রিসভার রদবদল হবে তাই নয়, এই পারফর্মেন্স রিপোর্টের ক্ষেত্রে ওই মন্ত্রীর ভবিষ্যতের রাজনীতি এবং সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়াসহ অনেক বিষয় নির্ভর করবে। অর্থাৎ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নির্ভর করবে এই রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন, সেই মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রথম বৈঠকেই তিনি বলেছিলেন, মন্ত্রীদের সব খোঁজ খবর রাখা হবে। মন্ত্রীরা তার নজরদারির মধ্যে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেটা বলেন, সেটা যে করেন তার প্রমাণ আবারো পাওয়া গেছে।

প্রত্যেকজন মন্ত্রী কে কি করেছেন সে সম্পর্কে বিশদ তথ্য বা রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম অঙ্গীকার ছিলো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি। আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে একই সুরে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতি করা যাবে না। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজেই মন্ত্রীদের যে পারফর্মেন্স রিপোর্ট কার্ড তৈরী করা হয়েছে, সেই রিপোর্ট কার্ডে দুর্নীতির বিষয়টি সবার আগে এসেছে। একজন মন্ত্রী তাঁর দায়িত্বপালনকালে কোন অনিয়ম, অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িয়েছেন কিনা সেটি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, একজন মন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে তার মন্ত্রণালয়কে পরিচালনা করেছেন কিনা এবং মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি জনগনের অগ্রাধিকার ও জনকল্যান কতটুকু প্রাধান্য দিয়েছেন?

তৃতীয়ত, তিনি দক্ষতার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন কিনা?
চতুর্থত, যে দায়িত্বগুলো দ্রুত পালন করার কথা, সেই দায়িত্বগুলো দ্রুত পালন করেছেন নাকি ঢিলেমি করেছেন অথবা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন?
সর্বশেষ, মন্ত্রী হিসাবে মন্ত্রণালয়ে উপস্থিতি এবং মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কি ছিলো এই বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর পারফর্মেন্স রিপোর্টে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র মনে করে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেককেই সুযোগ দেন। কাজেই একজন মন্ত্রী ২০ মাসে ব্যর্থ হলেই তাকে বাদ দেওয়া হবে এরকম রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা নন। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো তিনি সেই মন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে ডাকবেন, তার সঙ্গে কথা বলবেন, তার ভুলত্রুটিগুলো বুঝিয়ে দেবেন, তাকে ঠিকঠাকমতো কাজ করতে বলবেন।

দেখা গেছে যে, অনেক ব্যর্থ মন্ত্রীকেও টানা ৫ বছর মন্ত্রীর দায়িত্বে রেখেছেন, এরপর হয়তো তিনি নির্বাচনের মনোনয়নও পাননি। কাজেই মন্ত্রীত্ব থাকলেই তিনি ভালো কাজ করছেন এমনটি যদি কেউ ভাবেন তাহলে ভুল করবেন বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা মনে করছেন। বরং যদি কোন মন্ত্রী দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন বা মন্ত্রণালয়ের কাজে গাফিলতি করেন কিংবা ভালভাবে মন্ত্রণালয় চালাতে না পারেন, তাহলে আজকে হয়তো তার মন্ত্রীত্ব নাও যেতে পারে, কিন্তু ৫ বছর পর তিনি রাজনৈতিকভাবে উদ্বাস্তু হতে পারেন। আর এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর এই রিপোর্ট কার্ড প্রত্যেকজন মন্ত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে যেই কথাটি বলেছিলেন, আপনারা আমার নজরদারিতে থাকবেন, কেউ যদি মনে করেন এটি স্রেফ একটি কথার কথা সেটি তাদের এক মহা ভুল হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। কারণ শেখ হাসিনা যেটি বলেন, সেটি করেন। মন্ত্রীদের এই রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতেই হয়তো তাদের রাজনীতির ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে।