প্রচ্ছদ রাজনীতি উপনির্বাচনে তারেক জিয়ার মনোনয়ন বাণিজ্য?

উপনির্বাচনে তারেক জিয়ার মনোনয়ন বাণিজ্য?

56
উপনির্বাচনে তারেক জিয়ার মনোনয়ন বাণিজ্য?

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যকে বলা হলো যে, বিএনপি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে প্রার্থী বাছাই করতে হবে এবং তিনি যেন তার মতামত দেন। বিএনপির ওই স্থায়ী কমিটির সদস্য বললেন যে, এই উপনির্বাচনে বিএনপি কেন অংশগ্রহণ করবে? এই নির্বাচনে জিতলেই কি? হারলেই কি? বা এই নির্বাচনে জেতার মতো অবস্থা বিএনপির আছে কিনা? ঐ নেতাকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন যে, তারপরেও লন্ডন থেকে নির্দেশ এসেছে যে, আমাদেরকে উপনির্বাচনে প্রার্থী দিতে হবে এবং আপনি আপনার পছন্দের প্রার্থীর নামটা বলুন। তখন ঐ নেতা, যিনি একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন এবং বিএনপিরে আন্দোলনকামী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত, তিনি বললেন যে, তারেকের টাকা জোগাড়ের জন্যেই কি আপনারা উপনির্বাচনে মনোনয়ন দিচ্ছেন? এর উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু হাসলেন, কিছু বললেন না।

বিএনপিতে এখন এটা ‘ওপেন সিক্রেট’। বিএনপি নির্বাচনে যায় তারেক জিয়ার টাকা জোগাড় করার জন্যে। কারণ নির্বাচন হলেই একাধিক প্রার্থী আসে এবং ওই নির্বাচনের আসনটিতে কে ধানের শীষের প্রতীক পাবে তা নিলামে ওঠে। যিনি সর্বোচ্চ দর দিতে পারেন তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয় লন্ডন থেকে। টাকা লেনদেন চূড়ান্ত হলেই একজন মনোনয়ন পায়। এখানে প্রার্থীর যোগ্যতা, ভূমিকা ইত্যাদি কোনকিছুই বিবেচ্য বিষয় নয়। আর তাই নির্বাচন এলেই মাথা খারাপ হয়ে যায় তারেক জিয়ার। যদিও বিএনপির ৯৯ ভাগ নেতাকর্মীর কারোরই এই ধরণের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ এবং ইচ্ছা নেই। তবে তারপরেও তারেকের কারণে এইসব নির্বাচনে অংশ নিতে হচ্ছে বিএনপিকে।
শুধু এই নির্বাচন নয়, বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন যে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও তারেক জিয়া মনোনয়ন বাণিজ্য করেছিলেন। শুধু মনোনয়ন বাণিজ্য করেননি, একই আসনে তিনি কোথাও কোথাও তিনজনকেও মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন এবং ঐ নির্বাচনে তার বিপুল পরিমাণ আয়-উপার্জন হয়েছিল। এখন তারেক জিয়ার দল যেহেতু ক্ষমতায় নেই, তাই তার একমাত্র উপার্জনের পথ মনোনয়ন বাণিজ্য এবং কমিটি বাণিজ্য। আর এই কারণেই তিনি সবসময় উপনির্বাচনের জন্য মুখিয়ে থাকেন এবং সব নির্বাচনেই যেতে চান।

এবারে যে পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে এই উপনির্বাচনের আগেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই নির্বাচনে তারা যাবেন না। করোনা পরিস্থিতি, জনগণের অনাগ্রহ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থার কারণে তারা নির্বাচনে যাবেন না। কিন্তু তার এই বক্তব্যের পরপরই লন্ডন থেকে বার্তা আসে যে নির্বাচনে যাবেন না কেন? কারণ করোনা সঙ্কটের সময় এমনিতেই টানাপোড়েন, তার মধ্যে তারেকের যে উপার্জনের অন্যান্য পথগুলো আছে তা সংকুচিত। এই বাস্তবতায় তারেক উপনির্বাচনের এই পাঁচটি আসন থেকে যে ৫-১০ কোটি টাকা আয়ের মহাসুযোগ তা হাতছাড়া করতে চাননি। আর এই কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, যে পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন হবে সেইখানে বলে দেওয়া হয়েছে যে, নূন্যতম ভিত্তিমূল্য ১ কোটি টাকা। মনোনয়ন পেতে হলে ১ কোটি টাকা দিতে হবে। কেউ যদি ১ কোটি টাকার বেশি দেয়, তাহলে তার মনোনয়ন আরও বেশি নিশ্চিত। এইরকম একটি অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়। তিনি ঘোষণা করেন যে, নির্বাচনে যেতে হবে নির্বাচন কমিশনের মুখোশ উন্মোচনের জন্য, সরকারের মুখোশ উন্মোচনের জন্যে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন যে, সরকারের এবং নির্বাচন কমিশনের কি মুখোশ উন্মোচন করবেন তারা তা বোধগম্য নয়। কারণ যে পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে তার সবগুলো আসনই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত আসন। যেমন পাবনা-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দখলে আছে। এখানে বিএনপির কোন সংগঠন নেই। ঢাকা থেকে হাবিবুর রহমান হাবিব গিয়ে ঐ নির্বাচনে কি করবেন তা বোধগম্য নয়। একইভাবে সিরাজগঞ্জ-১ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের আসন। তাছাড়া সাহারা খাতুন এবং হাবিবুর রহমান মোল্লা মারা যাওয়ার পর তাঁদের আসনগুলোতে অন্য কেউ জিতবে এটা ভাবাও অন্যায়। নওগাঁর আসনটিও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের আসন হিসেবেই পরিচিত। এরকম বাস্তবতায় বিএনপির এসব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার যৌক্তিকতা কি তা নিয়ে বিএনপির অধিকাংশ সদস্যই প্রশ্ন তুলেছে। তবে এতসব প্রশ্ন তুললেও তারেকের অর্থের আগ্রহ এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের আকাঙ্ক্ষার কারণেই এই নির্বাচনে যেতে হচ্ছে বিএনপিকে।