প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ

165
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলতে আওয়ামী লীগের সামনে কিছু নেই। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি এখন অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। একটি নূন্যতম আন্দোলন করার যোগ্যতাও তাদের নেই। তাদের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া এখন শেখ হাসিনার কৃপাপ্রার্থী। শেখ হাসিনার অনুকম্পার উপর নির্ভর করবে, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন কিনা কিংবা তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি হবে কিনা। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গন গরম করার মতো শক্তি এখন নেই। তারপরও আওয়ামী লীগ শান্তিতে নেই, আওয়ামী লীগের উদ্বেগ উৎকন্ঠা কমেনি। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো উক্তিগুলোর একটি হলো আওয়ামী লীগের প্রধান শত্রু আওয়ামী লীগ। টানা সাড়ে এগারো বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির ক্ষেত্রে এই কথাটি এখন আরো বেশি করে প্রযোজ্য। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যেমন নেই, তেমনি সামাজিক বা সুশীল সমাজের গ্রহণযোগ্যতাও এখন তলানিতে। এই রকম বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ যে নিজের দল সুষ্ঠুভাবে গুছিয়ে দেশের জন্য আরো বেশি করে কাজ করবে সেটির বদলে আওয়ামী লীগের ভিতরে নানা উপদলীয় কোন্দল, দুর্বৃত্তায়ণ, দুর্নীতি এবং পরস্পরবিরোধ প্রবল হয়ে ওঠে।

আওয়ামী লীগের এখন প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগই। সাম্প্রতিক সময় এর প্রকাশ ঘটেছে ৫ টি আসনে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে। এই উপনির্বাচনগুলোতে যেন প্রার্থীতা পাওয়ার হিড়িক পড়েছিলো। ৫ টি আসনের জন্য ১৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নের প্রত্যাশা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কারা মনোনয়ন পেয়েছেন সেটা বিষয় না। কিন্তু এতজনের আওয়ামী লীগের টিকিট পাওয়ার আকাঙ্খা নি:সন্দেহে দলের জন্য খুশির খবর নয়। এখানেই ঘটনা শেষ হয়ে যায়নি। কোন কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, কোন আসনে কারা প্রার্থী হয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র পাবনা-৪ আসনের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পর ঢাকা-১৮ আসনের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশি নারী নেত্রী গতকাল দলীয় কার্যালয়ের সামনে ধর্ণা দিয়েছেন এবং শো ডাউন করেছেন। আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড এই শো ডাউনকে ভালোভাবে নেয়নি। ওই নারী নেত্রী এমন কিছু কথাবার্তা বলেছেন, যা অশোভন। কারণ প্রকাশ্যে দলের সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা, কটুক্তি করা আওয়ামী লীগের শিষ্টাচার নয়। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, যেভাবে এখন আওয়ামী লীগের নেতারা মনোনয়নের জন্য ধর্ণা দেন, যেভাবে তারা গ্রুপিং করছেন সেটা আওয়ামী লীগের নীতি এবং আদর্শের পরিপন্থি।

তিনি বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার পর এরকম বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং প্রতিবাদ জানানো আওয়ামী লীগের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। অথচ এটিই এখন ঘটছে। এটা নিয়েই আওয়ামী লীগের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জায়গায় যে নেতাকর্মীদের পারস্পরিক বিরোধ, দলাদলি এগুলো আগের চেয়ে বেড়েছে। যখন কোথাও যখন আওয়ামী লীগের নেতা ধরা পড়ছে তখন অন্য আওয়ামী লীগের নেতারা তাতে উল্লাস প্রকাশ করছে। তার আরেকটি উদাহরণ হলো ফরিদপুর। ফরিদপুরে যখন মানি লন্ডারিংসহ আরো কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছেন তখন অন্যরা উল্লসিত হয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগের ভেতরে যখন শুদ্ধি অভিযানের কথা বলা হচ্ছে তখন যারা এই অনুপ্রবেশকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন তারা চুপচাপ বসে আছেন, তারা কোন কাজ করছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নেরও কোন দৃশ্যমান তৎপরতা তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

আর এসব কারণেই এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্থিরতা এবং উদ্বেগ বাড়ছে। এই সমস্ত বাস্তবতা উপলব্ধি করে শেখ হাসিনা এখন দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা এবং দলের কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্যে তাগিদ দিয়েছেন এবং তিনি আজ সম্পাদকমণ্ডলীর সভা করেছেন, খুব শীঘ্রই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকও ডাকা হবে এবং দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যেন দলের জন্য কাজ করে সেটা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা জানেন যে, আওয়ামী লীগের ক্ষতি করতে পারে আওয়ামী লীগই এবং আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকে তাহলে সবচেয়ে সর্বনাশ আওয়ামী লীগেরই হবে। সেই বিবেচনায় শেখ হাসিনা এখন দলকে ঐক্যবদ্ধ, সংগঠিত এবং দুর্বৃত্তমুক্ত এবং অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এটাই এখন শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।