প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *কাল্পনিক জন্মদিন পালন নিয়ে ল’জ্জিত বেগম জিয়া!*

*কাল্পনিক জন্মদিন পালন নিয়ে ল’জ্জিত বেগম জিয়া!*

79
*কাল্পনিক জন্মদিন পালন নিয়ে লজ্জিত বেগম জিয়া!*

*১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির বেদনাবিধুর একটি দিন। জাতির পিতাকে এদিন সপরিবারের হ’ত্যা করে চক্রান্তকারীরা। তাই এই দিন কাল্পনিক জন্মদিন পালন করে আওয়ামী লীগের অনুভূতিতে চরম আঘাত দিয়ে প্রতিশোধ নেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সদ্য প্রয়াত বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দীন আহমেদের কুপরামর্শে নব্বই দশক থেকে এই দিনে জন্মদিন পালন করে জাতির অনুভূতিতে আঘাত দেন বিএনপি নেত্রী। কিন্তু সেই ভুল আর করতে চান না বেগম জিয়া।*
*জানা গেছে, অতীতে না বুঝে বুদ্ধিজীবীদের কুপ্ররোচনায় পড়ে বেগম জিয়ার ১৫ আগস্ট কাল্পনিক জন্মদিন পালন শুধু আওয়ামী লীগ কর্মীদের নয় বরং স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের মনে চরম আঘাত দেয়। বেগম জিয়াকে বোঝানো হয়, ১৫ আগস্ট শোক দিবসে জন্মদিন পালন করলে আওয়ামী লীগ কর্মীদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে করে তাদের মনোবল দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণ দিবসকে লোকচক্ষুর আড়াল করা যাবে।*

*কিন্তু বেগম জিয়ার এই পরিকল্পনা চরমভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়। অতীতে জাতীয় শোকের দিন জন্মদিন পালন করে উল্টো পুরো দেশবাসীর সমালোচনার মুখে পড়েন বেগম জিয়া। এতে তার পাবলিক ইমেজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশ ও বিদেশে চরম বিতর্কের মুখে পড়েন বিএনপি নেত্রী। শুধুমাত্র জামায়াত ও পাকিস্তানপন্থীরা খুশি হলেও এমন সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বিএনপি চরম সংকটে পড়ে।*
*তাই সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চলতি বছরের ১৫ আগস্টের কথিত জন্মদিন পালন করতে রাজি নন বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া। পারিবারিক সূত্র বলছে, জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে ছোটখাটো আয়োজন করার কিছু আবদার আসলেও জাতির পিতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সেই আবদারে রাজি হননি বেগম জিয়া। অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি করে জাতির আবেগ নিয়ে খেলতে চান না তিনি। আওয়ামী লীগকে হেয় করে নিজের বিজয় চান না বিএনপি নেত্রী। তাই কেক কেটে নয় পারলে তার জন্মদিনে নেতা-কর্মীদের দোয়া মাহফিল আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অতীতে বিতর্কিত জন্মদিন পালন করায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলেও জানিয়েছে বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্রটি।*

*বেগম জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে বিভক্ত বিএনপি, অস্বস্তিতে তারেক!*
*১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। কিন্তু সেই শোক দিবসকে বিতর্কিত ও ব্যঙ্গ করে নব্বই দশকের পর থেকেই এই দিনে কাল্পনিক জন্মদিন পালন করতেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই দিবসে কাল্পনিক জন্মদিন পালন করলেও বিগত ৪ বছরে দেশের বিভিন্ন মহলে ধিক্কার ও সমালোচনার মুখে এই আয়োজন থেকে সরে আসেন বেগম জিয়া। তবে চলতি বছরে বেগম জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে দুভাগে বিভক্ত হয়েছে বিএনপি। তবে যার জন্মদিন, সেই বেগম জিয়া জন্মদিন পালনের ইচ্ছার কথা জানে না বিএনপির পক্ষ দুটি।*
*বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে চলতি বছরের ২৫ মার্চ সাময়িক মুক্তি পান বেগম জিয়া। বলা হচ্ছে, সরকারের বদান্যতায় মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী। তাই এবারের ১৫ আগস্টে বিএনপি নেত্রীর কাল্পনিক জন্মদিন পালন করে সরকারের চক্ষুশূল হতে চান না বেগম জিয়াপন্থী নেতারা।*

*কিন্তু খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো পাকিস্তানপন্থী ও জামায়াত ঘেঁষা কিছু নেতা এবারের প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়ার জন্মদিন পালন করার পক্ষে দলের অভ্যন্তরে জনমত গড়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি জানার পর মির্জা ফখরুল এসব অতিউৎসাহী নেতাদের বেগম জিয়ার বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ জন্মদিন পালন না করার অনুরোধ করলেও তারা ক্ষান্ত হননি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে ১২ আগস্ট তারেক রহমানের দ্বারস্থ হয়েছেন মির্জা ফখরুল ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিষয়টি জানার পর বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বিএনপির দলীয় অবস্থান বিবেচনা করে তারেক রহমান ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় নিয়েছেন।*
*তবে যুক্তরাজ্যকেন্দ্রিক একাধিক সূত্র বলছে, যেহেতু সরকারের বিশেষ মহানুভবতায় বেগম জিয়া মুক্তি পেয়েছেন তাই সরকার খেপে যায় এমন কোন কাজ করতে চান না তারেক রহমান। বরং ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করে দোয়া মাহফিল আয়োজন করার পরামর্শ দিতে পারেন তারেক। এছাড়া ১৫ আগস্টের মতো জাতির শোকাবহ দিনে বেগম জিয়ার জন্মদিন নিয়ে হইহুল্লোড় করতেও নিষেধ করতে পারেন তারেক। এজন্য ১৪ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান সূত্রটি।*