প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *যিনি শেখ হাসিনার ফুপু*

*যিনি শেখ হাসিনার ফুপু*

69
*যিনি শেখ হাসিনার ফুপু*

*তিনি যতটা না আওয়ামী লীগের নেতা, তাঁর চেয়ে বেশি শেখ হাসিনার ফুপু হিসেবে পরিচিত। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতা বললে ভুল হবে, কঠিন সময়ে যারা আওয়ামী লীগের হাল ধরে রেখেছেন বিভিন্ন সময়ে, তাঁর প্রত্যেকটা পর্যায়ে নাম আসে তাঁর। তিনি হলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।*
*দলের ভেতরে তিনি অত্যন্ত রাগী এবং কঠোর নেতা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিশ্বাস, শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর আনুগত্যের কোন কমতি নেই। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁকে কখনো নাম ধরে ডাকেননি, তাঁকে ডাকেন ফুপু বলে। আর তাই আওয়ামী লীগের নেতা থেকে সবখানে তাঁর বড় পরিচয় তিনি শেখ হাসিনার ফুপু।*
*সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন যেমন বর্ণাঢ্য, তেমনি ত্যাগ এবং নির্যাতনের। তিনি কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগের একজন স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর যখন আওয়ামী লীগ অস্তিত্বের সঙ্কটে, তখন যে কজন মিলে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করার কাজ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ছিলেন অন্যতম। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর হাত ধরেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নারী নেতৃত্বের জাগরণ ঘটে। নারীরা রাজনীতিতে উৎসাহিত হয় এবং আওয়ামী লীগে নারী নেতৃত্বের একটি বড় অংশের আদর্শ হলেন তিনি।*

*রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। তাঁর রাগ বা এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, কিন্তু তাঁর একটি বিষয় নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই, তা হলো আদর্শের প্রতি আনুগত্য। তিনি কখনো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা থেকে কখনো এক চুলও বিচ্যুত হননি। ১৯৮১ সালে যখন শেখ হাসিনা ঘরে ফেরেন, তখন ঘরে-বাইরে প্রচন্ড প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ মোকাবেলা করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। তখন তাঁর সার্বক্ষণিক ছায়াসঙ্গী ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। যখন আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং আব্দুর রাজ্জাকের মতো দুর্দান্ত প্রতাপশালী নেতা দল ছেড়ে চলে যান, তখন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর উপরেই আস্থা রেখেছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন এবং সেই দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন।*
আওয়ামী লীগ আরেকটি কঠিন সময় পার করেছিল ২০০৭ এর ওয়ান ইলেভেনের সময়। যে সময় *আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অযাচিত, মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই গ্রেপ্তারের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং দীর্ঘদিন অনির্বাচিত সরকারটি জগদ্বল পাথরের মতো ক্ষমতায় টিকে থাকার বন্দোবস্ত করা। সেই সময়ে প্রয়াত জিল্লুর রহমান, প্রয়াত সৈয়দ আশারাফুল ইসলাম, মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সঙ্গে অটুট অবস্থানে ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।*

*বয়সের ভারে এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁকে খুব একটা দেখা যায়না। এখন রোগশোকের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাঁকে কাটাতে হয়, তবে শেখ হাসিনা তাঁর প্রতি এখনো আস্থা রাখেন এবং এখনো শেখ হাসিনার প্রিয় ফুপু হিসেবেই তিনি আছেন। আর এই কারণেই দায়িত্ব পালন করতে তেমন সক্ষম না হলেও শেখ হাসিনা তাঁকে সম্মানিত করেছেন। তিনি সংসদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে রয়েছেন এবং বিগত নির্বাচনে অসুস্থতার কারণে তাঁর আগ্রহ না থাকলেও শেখ হাসিনার কারণে তিনি ঐ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।*
*সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একদিকে যেমন শেখ হাসিনার বিশ্বস্ততার প্রতীক, তেমনি শেখ হাসিনা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে যেভাবে সম্মান দিয়েছেন, মর্যাদা দিয়েছেন তা প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে যারা আদর্শবান, নিষ্ঠাবান এবং রাজনীতিতে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেন না তাঁদের সম্মান যে আজীবন থাকে এবং সেই সমস্ত রাজনীতিবিদরা যে শ্রদ্ধার আসনে আসীন থাকেন, শেখ হাসিনা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে সম্মানিত করে তা প্রমাণ করেছেন।*