প্রচ্ছদ রাজনীতি *আবরো যে ষ’ড়যন্ত্র ভে’স্তে গেল*

*আবরো যে ষ’ড়যন্ত্র ভে’স্তে গেল*

1036
*আবরো যে ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেল*

*সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের হ’ত্যাকাণ্ডকে ঘিরে একটি গভীর ষড়’যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, বিচক্ষণতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে সেই ষ’ড়যন্ত্র ভেস্তে গেল।*
*উল্লেখ্য যে, গত ৩১ জুলাই, ঈদের আগের দিন রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গু’লিতে নি’হত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। স্পষ্টতই সিনহার মৃ’ত্যুটি ছিল দুঃখজনক, অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এবং সেনা পরিবারের মধ্যে এটা নিয়ে নানারকম প্রশ্ন ওঠে এবং এর সঙ্গে কিছু আবেগও যুক্ত হয়ে পরে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা।*

*একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, সিনহা হত্যার বিচ্ছিন্ন ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়ে দুটি বাহিনীকে পরস্পর মুখোমুখি করার একটি পরিকল্পনা ছিল এবং এই পরিকল্পনা স্পষ্ট হয় যখন এই ঘটনা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয় এবং এই ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। অথচ এর আগে এই ধরণের কোন ঘটনার ব্যাপারে কোন বিবৃতি বা বক্তৃতা দেয়নি। লক্ষ্য করার বিষয়, সবসময়ই রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা এবং ঐ বিষয়টিকে জটিল করে দেওয়া বা উস্কে দেওয়া বিএনপির একটি কাজ। ২০০৮ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি উষ্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবারও ঘটনার পরপরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম একটি বিতর্কিত বক্তব্য রাখেন। এই ঘটনা সম্পর্ক বিস্তারিত সবকিছু না জেনেশুনে হঠাত করে এমন বক্তব্য তিনি কাকে উস্কে দেওয়ার জন্যে দিয়েছিলেন তা নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে।*

*উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী দ্রুত একের পর এক পদক্ষেপ নিতে থাকেন এবং সবকিছু প্রধানমন্ত্রী নিজ তদারকিতে করতে থাকেন। প্রথমত তিনি যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা অভিযুক্ত তাঁদেরকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে ক্ষোভ জন্মেছিল, সেই ক্ষোভের কিছুটা হলেও উপশম ঘটে।*
*দ্বিতীয়ত, একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করার জন্যে সরাসরি নির্দেশনা দেন এবং তাঁর নির্দেশে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।*
*তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি সিনহার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং যারা দোষী তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।*

*চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ঐ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্যে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং এই ঘটনার বিচারে যেন কোনরকম পক্ষপাত না হয় সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।*
*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে, প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যারাই অপরাধ করেছে তাঁরা ব্যক্তি, কোন প্রতিষ্ঠান নয়। ব্যক্তির দায়দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠান নেবে না। দুই বাহিনীর প্রধান কক্সবাজারে যান এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অনুরণন ঘটান। এরপর সিনহার পক্ষ থেকে তাঁর বোন মামলা দায়ের করেন এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, পুরো বিষয়টিই প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন দুটি বাহিনীর সংঘাতের পটভূমি তৈরি করতে না পারে, এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অশান্তি তৈরি করতে না পারে সেজন্য তিনি সজাগ ছিলেন। তাঁর একের পর এক দৃঢ় পদক্ষেপের কারণেই সিনহা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছিল, তা ভেস্তে গেল।*