প্রচ্ছদ রাজনীতি *মুচলেকা দিয়েই বিদেশ যেতে হবে খালেদাকে*

*মুচলেকা দিয়েই বিদেশ যেতে হবে খালেদাকে*

60
*মুচলেকা দিয়েই বিদেশ যেতে হবে খালেদাকে*

*গত ২৫ মার্চ থেকে ছয়মাসের জামিনে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে বলা হয়েছে তারা জামিন বৃদ্ধি এবং বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করবেন। ঈদের দিন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল তার পরিবারের সদস্যরা। সেই সাক্ষাতেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।*
*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিএনপির নেতারা নন, বরং পরিবারের পক্ষ থেকেই সরকারের সঙ্গে দেন দরবার হচ্ছে। এই দেন দরবার চূড়ান্ত বলেই একাধিক মহল নিশ্চিত করেছে। এটি চূড়ান্ত হলেই বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া কতগুলো শর্ত সাপেক্ষে হবে। এ ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়াকে মুচলেকা দিয়েই বিদেশ যেতে হবে।*
*উল্লেখ্য যে, জিয়া এতিমখানায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৭ মে কারাগারে যান বেগম খালেদা জিয়া। এরপর থেকে দীর্ঘ ২৫ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। এর মধ্যে আরো একটি মামলায় তিনি ৭ বছরের জন্য দণ্ডিত হন। মোট ১৭ বছরের দণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন।*

*বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তারা কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। আইনী পথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির চেষ্টা করা হলেও সফল হয়নি বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এই বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলাপ আলোচনা এবং দেনদরবারের দায়িত্ব গ্রহণ করে তার পরিবার। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং বোন সেলিনা ইসলাম সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করেন। এরকম আলোচনার এক পর্যায়ে তারা গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খালেদা জিয়ার পরিবার অনুরোধ করে যেন জামিন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কৃপায় খালেদা জিয়াকে গত ২৫ মার্চ ছয়মাসের জামিন দেওয়া হয়। এই জামিন পেয়ে বেগম খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত মেনে চলেছেন বলেই মনে করেন সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তারা মনে করেন, প্রকাশ্য শর্তের আড়ালে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত ছিলো। এই শর্তের মধ্যে ছিলো তিনি রাজনৈতিক কোন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। কোন প্রকাশ্য বিবৃতি, বক্তৃতা দেবেন না। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন বৈঠকও করবেন না।*

*উল্লেখ্য যে, গত দুই ঈদেই বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছেন। সেটি শুধুমাত্র ঈদের শুভেচ্ছা বলেই জানা গেছে।*
*ঈদুল আজহায় যখন বিএনপির নেতৃবৃন্দ গিয়েছিল, তখন তাদেরকে বেগম জিয়া রাজনীতিতে অনাগ্রহের ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। যদি বেগম খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত বিদেশ যান তাহলে তিনি রাজনীতি করবেন না এই মর্মে একটি মুচলেকা দিয়েই বিদেশ যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হলে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে কোন রকম উস্কানি যেন না দেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়ার আনুষ্ঠানিক একটি বিবৃতিও প্রত্যাশা করা হয়।*
*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, এইরকম বিবৃতি বা মুচলেকার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই সরকারের সঙ্গে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা আলাপ আলোচনা করছেন।*

*একাধিক সূত্র বলেছে যে, বেগম জিয়া রাজনীতি করবেন না এটা নিশ্চিত। তবে রাজনীতি থেকে তার বিদায় যেন অসম্মানসূচক না হয়, মুচলেকাটা যেন বেগম জিয়ার জন্য সম্মানজক হয় এ ব্যাপারেই বেগম খালেদা জিয়ার আগ্রহ। বেগম জিয়ার ছোট ভাই ও বোন চান না যে এই শারীরিক পরিস্থিতিতে তিনি রাজনীতিতে থাকুক। তাছাড়া তিনি নিজেও বুঝেন যে রাজনীতি করার মতো শারীরিক অবস্থা তার নেই। আর এজন্যই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে পাঠাতে চান। এই পাঠানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি না থাকলেও তাদের আপত্তি নেই। এই সংক্রান্ত যে মুচলেকা বা বিবৃতি বেগম খালেদা জিয়া দেবেন সেটি কিভাবে দেওয়া হবে তা নিয়ে দুই পক্ষের আলাপ আলোচনা চলছে।*
*একাধিক সূত্র বলছে যে, সরকার আগের চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শেষ হওয়ার অনেকটা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হতে পারে। বেগম খালেদা জিয়া হয়তো বিদেশে যাওয়ারও অনুমতি পেতে পারেন।*