প্রচ্ছদ রাজনীতি *জোবায়দা রহমান কেনো দেশে আসছেন?*

*জোবায়দা রহমান কেনো দেশে আসছেন?*

82
*জোবায়দা রহমান কেনো দেশে আসছেন?*

*ঈদের পর বিএনপির মধ্যে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে ডা. জোবায়দা রহমান কি দেশে আসছেন? তারেক জিয়ার এই চিকিৎসক স্ত্রী বিএনপির কোন নেতা নন, কিন্তু বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে বিএনপিতে তারেক জিয়ার থেকেও ডা. জোবায়দার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। যদিও ডা. জোবায়দা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন যে, রাজনীতিতে আসার কোন ইচ্ছে নেই তাঁর। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, ঈদের দিন রাতে বেগম জিয়ার সঙ্গে তাঁরা সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ক আলোচনা হয়। সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়াই ডা. জোবায়দার কথা বলেন এবং জানান যে, ডা. জোবায়দাই তাঁর চিকিৎসার দেখাশোনা করছেন। আর এই চিকিৎসাটাকে আরো ব্যাপক বিস্তৃত করা এবং অসুখগুলোকে নিশ্চিত করে সেই ব্যাপারে সুচিকিৎসা করার জন্যে ডা. জোবায়দার দেশে আসার কথাও উল্লেখ করেছেন বেগম জিয়া।*

*এরপর থেকেই বিএনপিতে নানা রকম গুঞ্জন চলছে যে, ডা. জোবায়দা কি দেশে আসছেন? ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তারেক জিয়া এবং পরে রাজনীতি না করার শর্তে মুচলেকা দিয়ে ২০০৮ সালে তিনি লন্ডনে পাড়ি দেন। লন্ডনে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অবস্থানের সময় তিনি কি সেখানে নাগরিকত্ব নিয়েছেন নাকি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন তা নিয়ে গুঞ্জন আছে। এই সময়ে তারেক জিয়া একাধিক মামলায় দন্ডিত হয়েছেন। মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে, যাবতজীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায়। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় তারেক জিয়াকে দেশে আনার জন্য সরকারের মধ্য থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই উদ্যোগগুলো এখনো সফল হয়নি। এর মধ্যে বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হন এবং দুটি পৃথক মামলায় ১৭ বছরের কারাভোগ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় ৬ মাসের জামিনে আছেন, যার চার মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার বলে বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, তাঁর চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করেন তাঁর ছেলের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং লন্ডন থেকেই তিনি বেগম জিয়ার চিকিৎসার সামগ্রিক দিক দেখভাল করেন। বেগম জিয়া ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন। এই সময়ে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী কয়েকদফা ঢাকায় এসে সাক্ষাত করলেও ডা. জোবায়দা আসেননি।*

*বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন যে, ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে কিছু মামলা রয়েছে। তিনি ঢাকায় আসলে তাঁকে হয়রানি করা হতে পারে বলেই হয়তো তিনি ঢাকায় আসেননি। তবে অন্য একটি মহল বলছে যে, ডা. জোবায়দার ঢাকায় না আসার পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে। তাঁর মেয়ের লেখাপড়াসহ নানারকম আনুষঙ্গিক বিষয় ছিল যার কারণে তিনি ঢাকায় আসেননি। তবে বিএনপির অনেক নেতা বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্যে লন্ডনে যেতে চাইলেও পারিবারিক নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত তাঁর লন্ডনে যাওয়া হচ্ছে না। তিনি লন্ডনে না গেলে শেষ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা কিভাবে হবে তা নিয়ে বিএনপির ভেতরে যেমন আলাপ-আলোচনা হচ্ছে তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের মাঝেও আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আর এই আলোচনায় ডা. জোবায়দা রহমানের দেশে আসার বিষয়টি সামনে চলে আসছে।*

*একটি সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যেকোন শর্তে বিদেশে যেতে রাজি আছেন, এতদিন তিনি যাননি বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির জন্যে। এখন অনেকেই যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন এবং সেই বিবেচনায় বেগম খালেদা জিয়াও যুক্তরাজ্যে যেতে চান। এই ব্যাপারে সরকারের সঙ্গেও দেনদরবার করতে চান। তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ডা. জোবায়দা রহমান ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও অনেকে মনে করছেন। অন্য একটি সূত্র বলছে যে, বেগম জিয়া এখন দেশের বাইরে যাওয়ার পক্ষপাতী নন। তিনি দেশেই চিকিৎসা নিতে চান এবং দেশে যেন তাঁর সঠিক চিকিৎসা হয় সেটা দেখভাল করার জন্য ডা. জোবায়দা রহমান স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশে আসতে পারেন এবং ডা. জোবায়দা রহমান দেশে আসলে কোন নেতিবাচক ঘটনা যেন না ঘটে এবং তাঁর যেন কোন সমস্যা না হয় সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাইছেন বিএনপির নেতারা। আর এই কারণেই যদি সকলকিছু ঠিক থাকে তাহলে ডা. জোবায়দা রহমান দেশে এসে বেগম জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা ঠিক করে দিবেন, অর্থাৎ কোন চিকিৎসার জন্যে কোন চিকিৎসক দেখবেন তা নির্ধারণ করে দেবেন এবং তারপর হয়তো তিনি চলে যাবেন।*
*তবে শেষ পর্যন্ত আদৌ ডা. জোবায়দা রহমান আসবেন নাকি বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে চলে যাবেন নাকি জেলে চলে যাবেন তা আগামী কিছুদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।*