প্রচ্ছদ স্পটলাইট *শেখ হাসিনা কি সত্যিই আত্মবিশ্বাসী?*

*শেখ হাসিনা কি সত্যিই আত্মবিশ্বাসী?*

27
*শেখ হাসিনা কি সত্যিই আত্মবিশ্বাসী?*

*সাড়ে চার মাসের বেশি সময় ধরে দেশে করোনা সঙ্কট চলছে। করোনা সঙ্কটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতি। জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়ছে মধ্য এবং নিম্নবিত্ত মানুষের। মরার উপর খড়ার ঘা হিসেবে প্রথমে এসেছে আম্পান, এখন দীর্ঘস্থায়ী বন্যা চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশের ওপর। সামনে বড় ধরণের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পূর্ভাবাস। কিন্তু এতকিছুর পরেও দৃঢ় শেখ হাসিনা। আত্নবিশ্বাসী শেখ হাসিনা বারবার সবাইকে উজ্জীবিত করছেন এবং বলছেন, অন্ধকার কেটে যাবে, ভোর আসবেই। শেখ হাসিনার আত্নবিশ্বাসই এখন বাংলাদেশের আশা ভরসার কেন্দ্রস্থল। তার আত্নবিশ্বাসের কারণেই মানুষ হাল ছেড়ে দেয়নি, মানুষ আশাবাদী আছে এবং মনে করছে যে, সুদিন সামনে আসবে, করোনার এই বহুমাত্রিক সঙ্কট থেকে বাংলাদেশ বেড়িয়ে আসবে বিজয়ের বেশে।*

*করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই দিনরাত ২৪ ঘন্টা পরিশ্রম করছেন শেখ হাসিনা। মূলত একাই তিনি এই সঙ্কট মোকাবিলার জন্য লড়াই করছেন। তার সঙ্গে যারা সহযোদ্ধা রয়েছেন, তাদের যার যে দায়িত্ব পালন করার কথা তার কতটুকু তারা পালন করতে পারছেন এনিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু এখনো দেশের সব মানুষই শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। তারা মনে করছে, শেখ হাসিনা যখন আছেন তখন আমাদের ভয় নেই। নিশ্চয়ই আমরা কাঙ্খিত বন্দরে পৌঁছাবো।*
*প্রশ্ন হচ্ছে যে, কেন আত্নবিশ্বাসী শেখ হাসিনা? কেন করোনা সঙ্কটে তিনি বিচলিত নন? কেন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরও তিনি আশার বানী শোনাচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণ করতে গেলে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা এবং তাঁর রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণ করতে হবে। সেটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মূলত ৫ টি কারণে আত্নবিশ্বাসী শেখ হাসিনা।*

*১. জনগনের ক্ষমতার ওপর আস্থা: শেখ হাসিনা সব সময় জনগনের ক্ষমতার ওপর আস্থাশীল। তিনি জানেন, বাংলাদেশের জনগনের ক্ষমতা কত বেশি। জনগনের এই ক্ষমতা শক্তিশালী বলেই তিনি সবসময় জনগনের ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল থেকেছেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় অকুতোভয় বাঙালি জনগন যেভাবে শত্রুদের মোকাবিলা করেছে, যেভাবে এদেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে, যেভাবে এদেশের মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এনেছে, সেভাবেই করোনা সঙ্কটেরও মোকাবিলা করতে পারবে এদেশের জনগন। আমাদের জনগন অত্যন্ত সাহসী, পরিশ্রমী এই তথ্যটি শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো কেউ জানেন না। আর এ কারণেই জনগনের ক্ষমতার ওপর আস্থাশীল হয়ে তিনি আত্নবিশ্বাসী।*

*২. নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দৃঢ়তা: শেখ হাসিনা নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই আজকের জায়গায় এসেছেন। তিনি জানেন যে, কোন নেতৃত্ব যদি পরিশ্রম করে, তার যদি সততা থাকে, দৃঢ়তা থাকে এবং জনগনের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে তার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়। এমন বহু সিদ্ধান্ত তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের বাকে বাকে নিয়েছেন, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, সিদ্ধান্ত ভুল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে তার সিদ্ধান্ত ছিলো কতটা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাময়। আর এই নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তার দৃঢ়তা আছে জন্যই তিনি আত্নবিশ্বাসী।*

*৩. বাংলাদেশের কৃষক: শেখ হাসিনার সবচেয়ে আস্থার জায়গা হলো আমাদের কৃষকরা। করোনা সঙ্কটের সময়ও আমাদের কৃষকরা বাম্পার ফসল ফলিয়েছে। বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন, মজুদ, প্রবাহ সঠিক রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতেই কৃষকরা তার খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আর এটি শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো কে জানেন। কারণ তিনি কৃষকদের জন্যই সবচেয়ে বেশি প্রণোদনা দিয়েছেন। এ কারণেই শেখ হাসিনা আত্নবিশ্বাসী।*
*৪. আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা: শেখ হাসিনা একজন বিশ্বনেতা। তিনি জনেন যে, বিশ্ব পরিস্থিতিতে কি পরিবর্তন হবে। এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জন্য একটা বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে করোনা পরবর্তী বিশ্বে। আর সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এজন্যও তিনি আত্নবিশ্বাসী। তিনি অন্ধকার টানেলের শেষ প্রান্তে আলো দেখছেন।*

*৫. ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী শক্তি: শেখ হাসিনার আত্নবিশ্বাসের আরেকটি কারণ হলো আমাদের ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তরা। তাদের উদ্ভাবনী শক্তির ওপর শেখ হাসিনার আস্থা রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশকে ডিজিটাল করেছেন। করোনা সঙ্কটের সময় ডিজিটাল বাংলাদেশের যে ইতিবাচক প্রভাব তা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আর সামনের দিনগুলোতে ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তির বলেই যে অর্থনীতির চাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সে ব্যাপারে শেখ হাসিনার চেয়ে কে ভালো জানে।*
*এই সমস্ত বাস্তবতায় শেখ হাসিনা এখনো আত্নবিশ্বাসী। শেখ হাসিনা আত্নবিশ্বাসী বলেই বাংলাদেশের মানুষ এখনো আশাবাদী।*