প্রচ্ছদ রাজনীতি *এবার জাতীয় শোক দিবস পালন করবে বিএনপি?*

*এবার জাতীয় শোক দিবস পালন করবে বিএনপি?*

178
*এবার জাতীয় শোক দিবস পালন করবে বিএনপি?*

*বেগম খালেদা জিয়া আর জেলে যেতে চাননা। যেকোন উপায়ে তিনি মুক্ত জীবন যাপন করতে চান। তিনি দেশে থাকুন বা বিদেশে থাকুন, কারান্তরীণ থাকতে চান না- এটাই হলো মূখ্য বিষয় এবং এটা করার জন্য যা যা করা দরকার তাই করতে তিনি বিএনপিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বেগম খালেদা জিয়ার এমন মনোভাব সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। আর এটা করার জন্যে বিএনপি জাতীয় শোক দিবস পালন করতে পারে বলে বিএনপির একাধিক নেতা আভাস দিয়েছেন।*
*উল্লেখ্য যে, গত কয়েকবছর ধরেই বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় শোক দিবসে তাঁর ‘বীভৎস, অরুচিকর এবং কুৎসিত’ জন্মদিন পালন করেন না এবং এটা ইতিবাচক। এখন বিএনপির ভেতর থেকেই চাপ উঠেছে যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দলের না, কোন ব্যক্তির না, বরং তিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা।*

*তাই তাঁর মৃত্যুদিবস রাজনৈতিক মত-পথের উর্ধ্বে থেকে পালন করা উচিত। উল্লেখ্য যে, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকেই বিএনপির মধ্যে থেকে একটি চাপ তৈরি হয়েছে যেন বিএনপি জাতির পিতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করে।*
*১৯৯৬ সালে আকস্মিকভাবে বেগম খালেদা জিয়া ১৫ই আগস্টকে তাঁর জন্মদিন ঘোষণা করেন এবং জন্মদিনে বিরাট কেক কেটে এক কুরুচিকর উৎসব পালন করেন। এটা ৭৫ এর খুনী চক্রকে খুশী করার জন্যে বেগম খালেদা জিয়া করেন বলে বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। একটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আচরণ কতটা নোংরা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে খালেদা জিয়ার জন্মোৎসব পালন ছিল তাঁর অন্যতম উদাহরণ। এটা নিয়ে বিএনপি ব্যাপক সমালোচিত হতে থাকে। বিশেষ করে ২০০৮ এর পর সাধারণ মানুষের মাঝে এটা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিতে থাকে। এরকম বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়াকে অনেকেই পরামর্শ দেন যেন বেগম খালেদা জিয়া ১৫ই আগস্টে তাঁর জন্মদিন পালন না করেন।*

*এর মধ্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে তাঁকে বলেন যে এই জন্মদিনের উৎসবটি মানুষ পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১৫ সালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে এই মিথ্যা জন্মদিনের নোংরা উৎসব পালন না করার জন্যে অনুরোধ জানান।*
*এরপর ২০১৬ থেকেই বেগম খালেদা জিয়া জন্মদিনের উৎসব পালন আর কেক কাটা থেকে দূরে থাকেন এবং এখন পর্যন্ত সেই নিয়ম পালন করে আসছেন। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এবারও বেগম খালেদা জিয়া ১৫ই আগস্টের কোন উৎসব পালন করবেন না এবং কেক কাটার কোন আয়োজনও করবেন না। তবে এটা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিএনপির একাধিক নেতা।*

*বিএনপিকে বর্তমান রাজনীতির বাস্তবতা বুঝতে হবে বলে মনে করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন প্রভাবশালী নেতা। তিনি বলেন যে, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির মদদতুষ্ট একটি রাজনৈতিক দল- এই দূর্নাম থেকে তাঁদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে। এখনকার প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন বিতর্ক পছন্দ করে না, তাঁরা ১৫ই আগস্টের শোক দিবস পালন করতে চায়।*
*ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিয়ে আপত্তি-বিতর্ক থাকতেই পারে, তবে বঙ্গবন্ধু সকল বিতর্কের উর্ধ্বে বলে মনে করেন এই নতুন প্রজন্ম। আর এই প্রজন্ম যখন দেখে যে, বিএনপি ৭১ এর স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নানারকম সম্পর্কে জড়িয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে তখন তরুণ প্রজন্ম বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বলেও অনেক বিএনপি নেতা মনে করেন।*

*সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ১৫ই আগস্ট পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই শোক দিবস পালনে বিএনপিকে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্তত দুজন নেতা। তাঁরা বলেছেন যে, এর মাধ্যমে বিএনপির প্রতি জনআস্থা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে বিএনপির প্রতি যে নেতিবাচক ধারণাগুলো তৈরি হয়েছিল তা দূর হবে। আর এরকম কারণেই বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যে, তাঁরা তাঁদের পুরনো অবস্থান থেকে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসবে। নিজেদের প্রগতিশীল আধুনিক রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় বলে ১৫ই আগস্টকে রাজনৈতিক শোক দিবস পালনের একটি চিন্তা বিএনপির অনেক নেতার মধ্যে এসেছে এবং এটাকে সুবুদ্ধি বলে মনে করছেন ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতাই। শেষ পর্যন্ত বিএনপির শোক দিবস পালন করে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।*