প্রচ্ছদ স্পটলাইট *সরকারের বিশিষ্টজনেরা কেন বিদেশে?*

*সরকারের বিশিষ্টজনেরা কেন বিদেশে?*

50
*সরকারের বিশিষ্টজনেরা কেন বিদেশে?*

*করোনা পরিস্থিতিতে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বই এখন সঙ্কটে। কমবেশি সব দেশকেই এখন নানারকম সঙ্কট মোকাবেলা করতে হচ্ছে এবং এই সময়ে সঙ্কট মোকাবেলার জন্যে রাষ্ট্র এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোকে যারপরনাই কাজ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও করোনা মোকাবেলার জন্যে দিনরাত পরিশ্রম করছেন এবং করোনা মোকাবেলায় সার্বক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।*
*কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই একক উদ্যোগের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে যারা তাঁকে সহযোগিতা করবেন বা তাঁর নির্দেশনাগুলো যারা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করবেন সে জায়গায় দেখা যাচ্ছে নানারকম সমন্বয়হীনতা এবং সঙ্কট। বিশেষ করে করোনার সময়ে সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিদেশ যাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।*

*এইসময় তাঁদের বিদেশ যাওয়ার যৌক্তিকতা কি এবং কেন তাঁরা বিদেশে গেলেন এটার মাধ্যমে সরকারের থেকে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।*
*করোনা সঙ্কটের একটা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ কানাডা চলে যান। তাঁর কানাডা যাওয়া নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে, কিভাবে তিনি কানাডায় গেলেন সেটা নিয়েও গণমাধ্যমে নানা ধরণের কথাবার্তা তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি বলেছেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের দেখার জন্যেই কানাডায় গিয়েছেন। তবে এই নিয়ে বিতর্ক আছে এবং বিতর্ক এখনো শেষ হয়ে যায়নি। মাহবুব উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং দলের সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের মূখ্য ভূমিকা পালন করেন।*

*করোনা সঙ্কটের সময়ে অত্যন্ত সঙ্গত কারণে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঘরবন্দি হয়ে আছেন এবং ঘরে বসেই তিনি বিভিন্ন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন। বিভিন্ন কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচীতেও যোগদান করছেন। কিন্তু এটুকুই যথেষ্ট নয়। এই সময় সারাদেশে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য মাহবুব উল আলম হানিফ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হয়ে যখন সিঙ্গাপুরে যান তখন মাহবুব উল আলম হানিফই দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর এই সঙ্কটের সময়ে তিনিই কেন কানাডায় গিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবস্থান করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।*

*এই করোনা সঙ্কটে একটি বড় দিক হলো অর্থনীতি। অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার জন্যে সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই নানারকম উদ্যোগ, কর্মসূচী গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা নির্ধারণ করে প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু এই প্রণোদনাগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানারকম জটিলতা দৃশ্যমান হচ্ছে ক্রমশ। বিশেষ করে বাজেট পাশ করার পরপরেই অর্থমন্ত্রীর দ্রুততম সময়ে লন্ডনে চলে যাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অন্যান্য দেশের অর্থমন্ত্রীরা যেখানে দিনরাত একাকার করে দিয়ে করোনাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় কাজ করছেন, সেখানে আমাদের অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।*

*এই করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীও লন্ডনে অবস্থান করছেন, যদিও ড. গওহর রিজভীর কোন নির্বাহী দায়িত্ব নেই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং যেকোন স্থানে বসেই তিনি উপদেশ দিতে পারেন। কিন্তু তারপরেও সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিদেশে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অভিবাসন নিয়ে সঙ্কট হয়েছে, রপ্তানী ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করা হচ্ছে- এই বাস্তবতায় করোনাকালীন সময়ে ড. গওহর রিজভীর বিদেশ যাত্রা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।*
*এই সঙ্কটের সময়ে সাধারণ মানুষ চায় সরকার এবং আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করুক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করুক এবং সকলেই বাড়তি পরিশ্রম করে সঙ্কট মোকাবেলায় দৃশ্যমান হোক। কিন্তু এই সময়েই যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তখন সকলে বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবে নিচ্ছে না।*