প্রচ্ছদ রাজনীতি *সরকারে থেকেও গুরুত্বহীন দল আওয়ামী লীগ*

*সরকারে থেকেও গুরুত্বহীন দল আওয়ামী লীগ*

69
*সরকারে থেকেও গুরুত্বহীন দল আওয়ামী লীগ*

*টানা তৃতীয়বার এবং মোট চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলেও সরকারে আওয়ামী লীগ ক্রমশ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে গোনা কয়েকজন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনেকেই সংসদে রয়েছেন, কিন্তু তারপরও আওয়ামী লীগের চিন্তাভাবনা এবং কার্যক্রম সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত কম হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করার যে তাগিদ তা কম অনুভূত হচ্ছে।*

*২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে। এই সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই নির্বাচনী ইশতেহার সবগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই সরকার পরিচালনা করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সালে সরকার গঠনের পরপরই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ধরে কাজ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু গত মার্চ থেকে করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারকে আপদকালীন ব্যবস্থাপনার দিকে ঝুঁকতে হয়েছে এবং নির্বাচনী ইশতেহার আস্তে আস্তে সরকারের এজেন্ডা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। একইভাবে সরকারে আওয়ামী লীগের ভূমিকাও গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে আমলাদের প্রাধান্য সরকার পরিচালনায় দৃশ্যমান হচ্ছে।*

*সরকারে আওয়ামী লীগ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন যে, সরকারে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে একমাত্র ড. আব্দুর রাজ্জাক ছাড়া আর কেউই সরকারে নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ডা. দীপুমনি এবং ড. হাছান মাহমুদ এমপি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরাই হলেন আওয়ামী লীগের মুখ্য নেতা যারা সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এরা ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যে বিভিন্ন সমালোচনা করবেন, বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে বুদ্ধি পরামর্শ দেবেন সেই প্রবণতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। বরং সরকার এবং আওয়ামী লীগ আলাদা অবস্থানে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনাও করছে আওয়ামী লীগ।*

*বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রকাশ্য সমালোচনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনায় মুখর।*
*দ্বিতীয়ত, আমলাদের প্রধান্য বেড়ে গেছে। তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর থেকেই আমলারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছেন। সেই সময় আমলারাই আওয়ামী লীগের পরামর্শক হিসেবে সামনে এসেছে। করোনা সঙ্কটের সময় জেলার দায়িত্ব আমলাদের দেওয়ার মাধ্যমে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এরফলে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ও গুরুত্ব হ্রাস হয়েছে। বরং সরকার পরিচালনা আমলাতন্ত্রের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এরফলে আওয়ামী লীগের নেতারা গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছেন।*

*আওয়ামী লীগের নেতারাই এখন বিভিন্ন আলোচনায় বলছেন যে, বিভিন্ন রকম লোকজন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন যারা আওয়ামী লীগের চিন্তা আদর্শের পক্ষে নন। বরং স্বাধীনতা বিরোধী, এমনকি বিএনপি- জামাত ঘরানার অনেকেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছেন। এরকম বাস্তবতায় সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ অনুভব করছেন আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা। অবশ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুরুতেই বলা হয়েছিল, সরকার এবং দলকে আলাদা করতে চায় আওয়ামী লীগ। সেজন্যই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। বিগত কাউন্সিলে যারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন তাদের অধিকাংশকেই সরকারে রাখা হয়নি। কিন্তু যখন সরকার ব্যর্থ হচ্ছে তখন সেই ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাচ্ছে। এ কারণেই সরকার পরিচালনায় দলের গুরুত্ব, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ আকাঙ্খা এবং চিন্তাচেতনা সরকার পরিচালনা কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে।*