প্রচ্ছদ রাজনীতি *কি ঘটে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ভেতরে ভেতরে?*

*কি ঘটে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ভেতরে ভেতরে?*

136
*আওয়ামী লীগের ভেতরে ভেতরে কি ঘটে যাচ্ছে?*

*টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তারপরও সাম্প্রতিক সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক নেতাকর্মীরা এখন প্রকাশ্যে বলছেন যে, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না। কোথাও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। শেখ হাসিনার চারপাশে ষড়যন্ত্রকারীরা ঘিরে ফেলেছে। আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা একা। এরকম নানা আলাপ- আলোচনার মধ্যে একটি জিনিস স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, তা হলো আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্থিরতা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, অস্থিরতার কারণ ৫টি। এগুলো হলো:*

*১. অনুপ্রবেশকারীদের জন্য দলের ক্ষতি: আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে অনুপ্রবেশকারীরা। তথাকথিত আওয়ামী লীগার হয়ে তারা নানা রকম অপকর্ম করছে, তার দায়ভার আসছে আওয়ামী লীগের ওপর। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সাম্প্রতিককালে প্রতারক সাহেদ। প্রতারক সাহেদ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সভায় উপস্থিত থাকতো। তাকে সেই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হতো। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন টকশোতে যেতেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা প্রশ্ন করছেন যে, এতদিন পরে কেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং উপকমিটির চেয়ারম্যানরা বলছেন যে, সাহেদ উপকমিটিতে ছিলেন না। তাহলে তাকে কিভাবে দাওয়াত দেওয়া হলো? কোন কর্তৃত্বে তিনি সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করতেন? শুধু সাহেদ নন, এমন অনেক সাহেদ দলের মধ্যে আছে বলেও মনে করছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। এদের কারণেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, দলের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।*

*২. বড় নেতাদের নির্লিপ্ততা: করোনা সংক্রমণের পর থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ঘরে উঠে গেছেন। এমনকি দলের সাধারণ সম্পাদক এখন পর্যন্ত ঘর থেকেই বিবৃতি দিচ্ছেন। দলের মধ্যে যারা হেভিওয়েট নেতা হিসেবে পরিচিত, যেমন তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু- তাদের কোন কার্যকলাপ চোখে পড়ছে না। দুয়েকটা বিশেষ দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা বিবৃতি ছাড়া তারা নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে একমাত্র মতিয়া চৌধুরি এবং ড. আব্দুর রাজ্জাকই দৃশ্যমান, অন্যরা কোথায় এবং কিভাবে আছেন দলের নেতাকর্মীরা জানেন না। দলীয় কার্যক্রমেও তাদের দেখা যাচ্ছে না। এটি নিয়ে দলের মধ্যে এক ধরণের হতাশা তৈরী হচ্ছে। বড় নেতারা নেত্রীর পাশে নেই এই কথা এখন আওয়ামী লীগে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।*

*৩. মন্ত্রীদের ব্যর্থতা এবং অযোগত্যা: করোনা সঙ্কটের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ের একটি হলো মন্ত্রীদের ব্যর্থতা এবং অযোগ্যতা। বিভিন্ন মন্ত্রীদের সীমাহীন ব্যর্থতা নিয়ে দলের মধ্যে প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা যখন উপস্থিত হচ্ছেন, তখন সেখানে একমাত্র আলোচনার বিষয় হচ্ছে যে কোন মন্ত্রী কিভাবে অযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন, কিভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। মন্ত্রিসভার রদবদল না হওয়া নিয়েও অনেকের মধ্যে হতাশা রয়েছে।*

*৪. রাজনীতিতে আমলাদের হস্তক্ষেপ: আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে করেন, এখন দেশ চালাচ্ছেন আমলারা। রাজনীতিবিদদের কোন ভূমিকা নেই। বিশেষ করে করোনা সঙ্কটের পর থেকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব আমলাদের দেওয়া, আমলাদের কর্তৃত্বে করোনা মোকাবিলার সমস্ত পদক্ষেপ এবং কর্মসূচী আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরণের হতাশা তৈরী করেছে। এই হতাশা থেকে অস্থিরতাও তৈরী হচ্ছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা বলেছেন, আমলারা এখন রাজনীতির ছবক দিচ্ছে আওয়ামী লীগকে। এটি কখনো কাম্য হতে পারে না। আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করার জন্য আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরণের প্রশ্ন এবং এক ধরণের অস্বস্তি তৈরী হচ্ছে বলে মনে করেন অনেক নেতারা।*

*৫. কর্মহীন অঙ্গ এবং সহযোগি সংগঠন: আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের একটিরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। গত জুন মাসে কমিটি দেওয়া হবে বলে শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। করোনার শুরুতে অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কর্মকাণ্ড করেছে, যেমন- ধানকাটা, গরীব মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সাহায্য দেওয়া ইত্যাদি। কেউ কেউ অ্যাম্বুলেন্স দিয়েও সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু এগুলো সবই সীমিত আকারে। কোনটাই রাজনৈতিক সংগঠিত কর্মসূচী নয়। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, কমিটি না থাকার ফলে কোন সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নিয়ে এগুতো পারছেন না অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো। এরফলে দলের মধ্যে আরেক ধরণের অস্থিরতা তৈরী হয়েছে।*
*সবমিলিয়ে ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামী লীগ ভালো নেই, বরং অজানা আশংকায় নেতারা। তারা মনে করছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘরে বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে।*