প্রচ্ছদ জীবন-যাপন *হাসান সারওয়ার্দীর প’তন যৌ’নাচার ও নারী কে’লেঙ্কারিতেই!*

*হাসান সারওয়ার্দীর প’তন যৌ’নাচার ও নারী কে’লেঙ্কারিতেই!*

269
*হাসান সারওয়ার্দীর পতন যৌনাচার ও নারী কেলেঙ্কারিতেই!*

*চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী- লেফ’টেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার একজন সাবেক কর্মকর্তা। যদিও এই পদে আসার অনেক আগেই তার চাকরি জীবনের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার কথা ছিল। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে লেফ’টেন্যান্ট ক’র্নেল থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অপক’র্মের কারণে তার বিরুদ্ধে শা’স্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই শাস্তি’মূলক ব্যবস্থাই এই সেনা কর্মকর্তার জন্য শাপেবর হয়ে দাঁড়ায়।*
*২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বিভিন্নভাবে সরকারের নজর কাড়তে সক্ষম হন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। একের পর এক প্রমোশন এবং বিভিন্ন সংস্থার লোভনীয় পদও পান তিনি। কিন্তু কথায় বলে- দুষ্ট লোক যতই মিষ্টি আচরণ করেন, এক সময় না এক সময় তাকে নিজের ফাঁদেই পড়তে হয়। এমনই ঘটেছে এই হাসান সারওয়ার্দীর বেলায়ও। হতে চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান কিন্তু সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে তার আসল মুখোশ উন্মোচনের পর থেকেই সরকার তার চরিত্র বুঝতে পারে। স্বপ্নভঙ্গ হয় চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। অবসর নিতে হয় লেফটেন্যান্ট জেনারেলের পদ থেকে। অবসরের পর থেকেই তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।*

*সেনাবাহিনীর মতো একটি সুসজ্জিত এবং শৃঙ্খলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি একের পর এক বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবেশন করছেন হাসান সারওয়ার্দী। রয়েছেন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রেও। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশ থেকে পলাতক রাষ্ট্রদ্রোহ বিভিন্ন মামলার আসামিরা। বিদেশে বসে যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন বিনষ্টের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরকার বিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত।*
*একজন ঊর্ধ্বতন সাবেক সেনা কর্মকর্তা কীভাবে এসব কথা বলতে পারেন তা বোধগম্য নয় অনেক সাবেক সেনা কর্মকর্তার কাছে। তারা মনে করেন, কেবল সরকারকে বিব্রত করতে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি শৃঙ্খলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অপকর্ম করছেন হাসান সারওয়ার্দী।*

*লে. জেনারেল (অব.) হাসান সারওয়ার্দী সেনাবাহিনীর এক কালের চৌকস অফিসার হলেও শুধু নারীলিপ্সা ও নেশার কারণে নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিলেন। নারী কেলেঙ্কারি ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার কারণে সামরিক উচ্চ পদধারী হয়েও নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের সকল সেনানিবাসে। নিজের পদের অপব্যবহারে করে সেনানিবাসে অবস্থিত ক্লাব এলাকায় নারী নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ম’দপান ও কুরুচিপূর্ণ যৌ’নাচারের কারণে প্রথম স্ত্রী সঙ্গে তার বিবা’দ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। সন্তানরাও তার কাছে থাকে না।*

*একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছেন হাসান সারওয়ার্দীর। হাই সোসাইটি ক’লগার্লদের সঙ্গে প্রায়ই ঘনিষ্ঠ মেলামেশায় দেখা যেতো তাকে। রানাপ্লাজা ধসের সময় উদ্ধার কাজে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে মিডিয়ার লাইম লাইটে আসেন সারওয়ার্দী। রানাপ্লাজা ধসের ১৭ দিন পর রেশমা নামের এক গার্মেন্টস কর্মীর উদ্ধারের ঘটনায় দেশব্যাপী তারকাখ্যাতি পান তিনি। যদিও তার ভুলের কারণে উদ্ধার কাজটি বিতর্কিত হয়ে পড়ে। উদ্ধারের সময় এই সারওয়ার্দীর বুদ্ধিতেই নতুন জামা পরিয়ে রেশমাকে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়, যে কারণে কিছু গুজব প্রচারকারী সরকার বিরোধী অপপ্রচারে হালে পানি পায়! এ নিয়ে সে সময় অহেতুক বিতর্ক তৈরি হয়।*

*চ্যানেল আইতে সাক্ষাৎকার দেয়ার সুবাদে ওই সময় চ্যানেলটিতে কর্মরত ফারজানা ব্রাউনিয়ার সঙ্গে সখ্য তৈরি হয় সারওয়ার্দীর। তখন ব্রাউনিয়াকে দেখে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সারওয়ার্দীর। কফি খাওয়া, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে দেয়া, গান গাওয়া প্রভৃতি অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে দেখা সাক্ষাৎ ও মেলামেশা বাড়াতে থাকে তাদের।*
*২০১৫ সালে মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এন’ডিসি) বদলি হয়ে আসেন সারওয়ার্দী। এ সময় ক্যাপস্টোন কোর্স করার নাম করে সারওয়ার্দীর অফিসেই মিলিত হতে থাকেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। কোর্স শেষে অন্তরঙ্গতা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ একাধিকবার বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে যান সারওয়ার্দী ও ব্রাউনিয়া।*

*বিবাহবহির্ভূত যৌনাচারের কারণে একাধিকবার অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে হাসান সারওয়ার্দীকে। শুধু সেনানিবাস এলাকা নয়, ঢাকার আশপাশের রিসোর্টগুলোতে মেয়ে নিয়ে রাত কাটান সারওয়ার্দী। ২০১৮ সালের মার্চে নরসিংদীর ড্রীম হলিডে পার্কে এ ধরনের একটি ঘটনা পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী নিজামউদ্দীন ভূঁইয়ার মধ্যস্থতায় মুচলেকা নিয়ে সমাধান করা হয়।*
*একাধিক বিয়ে আর নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা তো রয়েছেই। সঙ্গে সেনা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে বছর দেড়েক আগে তাকে দেশের সব সেনানিবাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়। নিজের বিরুদ্ধে সেনা সদর দপ্তরের শাস্তিমূলক এমন ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি রীতিমতো ‘গোপন’ করেছেন সারওয়ার্দী।*

*কথিত অনলাইন টকশোতে যুক্ত হয়ে তাকে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ বা সিএমএইচে চিকিৎসা করতে না দেওয়ার নেপথ্য কারণ পুরোপুরি চেপে দিয়ে উল্টো সরকার ও সেনাবাহিনী নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন তিনি। অথচ ভুলেও একবার বলেননি তিনি একজন পিএনজি অর্থাৎ সকল সেনানিবাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষিত।*
*সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, এসবের মাধ্যমে মূলত রাজনীতি আর ক্ষমতার ‘খোয়াব’ দেখতে শুরু করেছেন এই সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল। যুক্তরাজ্যে পলাতক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এখন নীতিবাক্যের ফেনা তুলছেন মুখে। হাত মিলিয়েছেন একই চক্রের চিহ্নিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পলাতক আসামি কথিত মিডিয়াম্যান কনক সারওয়ারের সঙ্গে।*

*কনকের উপস্থাপনায় সম্প্রতি একটি অখ্যাত অনলাইন ইউটিউব চ্যানেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট, প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাপ্রধান, গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঢালাও মিথ্যাচার করেছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।*
*এলপিআরে থাকা অবস্থায় সেনা নিয়মের সব আইন-কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর সাভার গলফ ক্লাবে মেসকিট পড়ে বাগদান অনুষ্ঠানে হাজির হন। একাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিয়ের পর নিজের আরও নৈতিক স্খলনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হন হাসান সারওয়ার্দী। এসব বিষয় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেনা সদর।*