প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন *গণমাধ্যম কি দু’র্নীতিবাজদের পাহারায় দিচ্ছে?*

*গণমাধ্যম কি দু’র্নীতিবাজদের পাহারায় দিচ্ছে?*

24
*গণমাধ্যম কি দুর্নীতিবাজদের পাহারায় দিচ্ছে?*

*সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ‘গণমাধ্যমের সংবাদ কিংবা অনুষ্ঠান-উভয় ক্ষেত্রই দুটি বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ৷ একটি বলয়ে আছে রাজনীতি, আরেকটি বলয়ে তিন ‘সি`- ক্রিকেট, ক্রাইম আর সিনেমা৷ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরতার কারণে সম্পাদকরা এখন ‘কর্পোরেট সম্পাদকীয় ব্যবস্থাপক` আর সাংবাদিকেরা ‘কর্পোরেট সম্পাদকীয় কর্মকর্তা`৷’*
*অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের উপর এক জরিপে দেখা গেছে যে, এই অঞ্চলের মানুষ তাদের ধর্ম গ্রন্থের পরেই ছাপা অক্ষরে কোন কিছু লেখাকে বেশি বিশ্বাস করেন।*

*যা হউক, এখন সারা দুনিয়ার মত বাংলাদেশেও চলছে করোনার মহাদুর্যোগ। করোনাভাইরাসকে মানুষ এতোই ভয় পাচ্ছেন যে, ইন্টারনেটের প্রসারে মুদ্রিত সংবাদপত্রের পাঠক দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এই শিল্প একটা গভীর সংকটে পড়েছে। এসব কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশের বাজেটের আগে প্রাক বাজেট আলোচনায় এই শিল্পের জন্য কর রেয়াত চেয়েছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকদের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক বাজেট আলোচনায় এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।*

*সংবাদপত্র মালিকরাই সরকারি বিভিন্ন সুবিধা চাওয়ার সময় বলে আসছেন, অনলাইনের প্রসারে ছাপানো সংবাদপত্র শিল্প হুমকির মুখে আছে। আবার সংবাদপত্রগুলোর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করেই প্রচার সংখ্যার হিসাব দেখিয়েছে ডিএফপি। ফলে এই তথ্য নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রশ্ন।*
*একটি সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ৮৬টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ সরকারের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) হিসাবে, এই আটটি বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে প্রকাশিত হওয়ার কথা ৩৪০টি পত্রিকা। সেই হিসাবে ২৫৪টি পত্রিকা বন্ধ রয়েছে।*

*ডিএফপির ১ জানুয়ারি ২০২০ এর হিসেব অনুযায়ী, দেশে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক সংবাদপত্রের সংখ্যা ৫৫২। মিডিয়া তালিকার বাইরেও কয়েক`শ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো প্রকাশের অনুমতি থাকলেও সরকারি বিজ্ঞাপন পায় না। এ ধরনের পত্রিকাগুলোর প্রায় সবই এখন বন্ধ আছে।*
*প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান মুদ্রিত সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি হিসেবে ২০১৮ সালে এক প্রাক বাজেট আলোচনায় বলেছিলেন, “টিভি, অনলাইন ইত্যাদির কারণে এখন বিশ্বব্যাপী সংবাদপত্র পাঠক হারাচ্ছে। আমাদের হিসাব মতে, বিগত কয়েক বছরে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে আমাদের পাঠক কমছে।”*

*এক বছর পর গত প্রাক বাজেট আলোচনাতেও তিনি বলেছিলেন, “সংবাদপত্রশিল্প সঙ্কটের মধ্য দিয়ে পার করছে। বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সংবাদপত্রের পাঠক কমে যাচ্ছে।”
অথচ ডিএফপির হিসাবে প্রথম আলোর পাঠক সংখ্যা কমেনি। এ বছরের ১ জানুয়ারির তালিকা অনুযায়ী, তাদের প্রচার সংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার ৮০০। দুই বছর আগেও ডিএফপি যে হিসাব দিয়েছিল, তাতেও প্রথম আলোর প্রচার সংখ্যা একই ছিল।*
*সংবাদপত্রে শ্রেণী বিভাগের ক্ষেত্রে সংবাদপত্র মালিকগণ তাদের নিজ নিজ পত্রিকার ঘোষণাপত্রে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তার তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সংবাদপত্রের শ্রেণী ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ নির্ধারিত হবে।*

*সংবাদপত্রে শ্রেণী বিভাগের ক্ষেত্রে সংবাদপত্র মালিকগণ তাদের নিজ নিজ পত্রিকার ঘোষণাপত্রে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তার তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সংবাদপত্রের শ্রেণী ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ নির্ধারিত হবে। এই শ্রেণী হিসেবেই তাদের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, বিজ্ঞাপনের রেট নির্ধারণ করা হয়।*
*আমরা পত্র পত্রিকায় দেখেছি যে, ছাপা পত্রিকা বিলি বণ্টনে সমস্যার কারণে এবং সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বলে গত ২৭ মার্চ ২০২০ দৈনিক মানবজমিনে মুদ্রণ সংস্করণ সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। প্রকাশক সম্পাদক বলেছেন, হকারেরা বিলি বণ্টনে অপারগতা জানানোর প্রেক্ষিতে দৈনিক মানবজমিন কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণ যথারীতি চালু থাকবে। সর্বশেষ আহসানিয়া মিশনের মালিকানাধীন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ মুদ্রণ সংস্করণ সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দিয়ে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলেছে।*

*নোটিশে প্রধান কারণ হিসেবে কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২রা এপ্রিল বৃহস্পতিবার পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী রফিকুল আলম অনলাইন সংস্করণে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, শনিবার ৪ এপ্রিল ২০২০ থেকে পত্রিকার মুদ্রণ সংস্করণ বন্ধ রাখা হবে। তবে অনলাইন নিয়মিত চালু থাকবে।*
*কিন্তু চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। ১৬.০৬.২০২০ তারিখের ডিএফপি হিসেবে দেখা যাচ্ছে কোন পত্রিকার প্রচার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এমন কি জানুয়ারির তুলনাও কমে নি। অন্য দিকে ছাপা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া দৈনিক মানবজমিন আর দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা দিব্যি ছাপা হচ্ছে। তাদের প্রকাশনা সংখ্যা যথাক্রমে দৈনিক ১,৬১,১০০ আর ১,৫২,০০০ হাজার। ডিএফপি বলছে সংবাদপত্র মালিকদের ঘোষণাপত্রে যা বলা হয়েছে, তাই তারা লিখেছে। কিন্তু আইনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তার তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তা করার কথা তা তারা বেমালুম চেপে যাচ্ছেন। এবার বুঝুন কামিনী কাঞ্চনের মজার খেলা।*

*রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভের সাথে আরও অনেকেই যোগ হয়েছেন, মিলে মিশে একাকার ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াও। তাইতো সাহেদদের মত প্রতারকদের মানুষকে ঠকানো দেখে সাবরিনা, সাহাবুদ্দিন মেডিক্যালের মত কত প্রতারক আর জি কে শামীম, ক্যাসিনো সেলিম, পাপিয়া, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও পণ্য সরবরাহকারী মিঠু, আটক বিএনপি নেতা আজম খান, মানব ও অর্থ পাচারকারি পাপুলএর মত অসংখ্য মানুষের জন্মের পিছনে কী মিডিয়ার কোন দায় নেই!*
*অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কিছু সরকারী অসৎ আমলা আর কিছু অসৎ রাজনীতিবিদের নিয়ে জাতিসংঘের ভেটো পাওয়ারের মত ক্ষমতার একটা বলয় তারা তৈরি করেছে। যার কারণে সরকারের দেশপ্রেমিক অংশটি কনই ভালো কাজ করতে পারছেন না। এরা সবাই মিলে শক্তিধর পারমাণবিক শক্তির মত দুর্নীতিবাজদের পাহারা দিচ্ছে। তা না হলে সাহেদরা কীভাবে এতো ক্ষমতা দেখায়!*