প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *ড্যাবের ডা. হারুনের সঙ্গে সাবরিনার গোপন সম্পর্ক ও তারেকের আমন্ত্রণ*

*ড্যাবের ডা. হারুনের সঙ্গে সাবরিনার গোপন সম্পর্ক ও তারেকের আমন্ত্রণ*

99
*ড্যাবের ডা. হারুনের সঙ্গে সাবরিনার গোপন সম্পর্ক ও তারেকের আমন্ত্রণ*

*এবার বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. হারুন আল রশীদের সঙ্গে ডা. সাবরিনার গোপন সম্পর্কের কথা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এ নিয়ে দলের ভেতরে চলছে নানা রকম আলোচনা। ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে আছেন সংগঠনটির অনেক নেতাই।*
*অনুসন্ধানে জানা যায়, কিডনি বিশেষজ্ঞ হারুন আল রশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন সাবরিনা। তবে এ নিয়ে ড্যাবের কেউই সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। যদিও সাবরিনার সঙ্গে হারুনের সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অনেকের মধ্যে।*
*এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ড্যাবের এক নেতা জানান, তারা চিকিৎসক। সম্পর্ক তাদের মধ্যে থাকতেই পারে। তবে সাবরিনার সঙ্গে হারুনের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল না। তাদের যোগাযোগ নিয়ে দুইজনই লুকোচুরি করতেন।*

*সাবরিনা-হারুনের ঘনিষ্ঠতায় চটে গিয়েছিলেন সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীও। এ নিয়ে একবার হারুনের সঙ্গে বিবাদেও জড়ায় জেকেজি কর্ণধার আরিফ।*
*এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবরিনার দেয়া করোনার জাল সনদের টাকার ভাগ পেতেন হারুনও। এমনকি বিএনপি কখনো ক্ষমতায় এলে সাবরিনাকে ড্যাবের মহাসচিব পদ দেয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন হারুন আল রশীদ। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি হারুন।*
*সাবরিনাকে পদ দেয়া হবে- এমন সংবাদের পর ড্যাবের ভেতরেই সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব। সংগঠনটির বিরোধীপক্ষ এতে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে তারা শান্ত হয়। অন্যদিকে সাবরিনা অবশ্য চুপ ছিলেন না। ডা. হারুনের মাধ্যমে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হন তিনি। তারেক তাকে লন্ডন ঘুরে আসার জন্য আমন্ত্রণও দিয়েছিলেন। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত জানা যায়নি।*

*ডা. সাবরিনার মামলা তদন্ত করবে ডিবি*
*করোনাভাইরাস টেস্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তভার পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।*
*জানা যায়, মঙ্গলবার ডা. সাবরিনাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।*
*এর আগে সোমবার রাতে মামলাটি তেজগাঁও থানা থেকে তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। গণমাধ্যমকে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।*

*ওসি মো. সালাউদ্দিন বলেন, রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।*
*সরকারি চাকরিতে থেকে সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহায়তায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তত ও সরবরাহ করে আট কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।*
*এর আগে, গত রবিবার দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে।*
*জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফ চৌধুরীর প্রতারণার নেপথ্যে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে সব যোগাযোগ রক্ষা করতেন সাবরিনাই।*

*গত ২৩ জুন করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফুলসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর থানা হাজতে থাকা অবস্থায় আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী ভাঙচুর ও হামলা করে থানায়। মারধর করে পুলিশকে।*
*এছাড়া রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর কলেজে নমুনা সংগ্রহের বুথ বসিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের নামে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পাওয়া যায়। কলেজের কক্ষে নারী-পুরুষের আপত্তিকর অবস্থানসহ নানা অনৈতিক কাজে বাধা দিলে তিতুমীর কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রদের ওপরও হামলা করে আরিফুলের লোকজন।*
*অভিযোগ পাওয়া যায়, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্নজনকে হুমকি দিতেন আরিফ। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।*
*জানা যায়, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।*