প্রচ্ছদ রাজনীতি *দুই বছরে শেখ হাসিনার দলই নি’র্দেশনা মানেনি!*

*দুই বছরে শেখ হাসিনার দলই নি’র্দেশনা মানেনি!*

53
*দুই বছরে শেখ হাসিনার দলই নির্দেশনা মানেনি!*

*আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুই বছর আগেই দলে যারা অ’নুপ্রবেশকারী তাঁদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের চিহ্নিত করে দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। শুধু নির্দেশনা দেননি, নির্দিষ্টভাবে তালিকা প্রণয়ন করেছিলেন। কিন্তু দুই বছর পরেও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী এইসব অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বিতাড়িত করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।*
*জানা গেছে যে, দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিভিন্ন গোয়ান্দা সংস্থাকে দিয়ে প্রত্যেকটি উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে কারা কারা অনুপ্রবেশকারী এবং কিভাবে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে এই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যবিবরনী চেয়েছিলেন।*

*যার মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা গোয়ান্দা সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে দিয়েছিল। সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় বিস্তারিত দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগে বিভিন্নভাবে অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং এর মূল কারণ ছিল স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব এবং প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা।*
*দেখা গেছে যে, বিভিন্ন মামলার আসামি যারা বাঁচার জন্যে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে। অনেকেই হয়তো বিভিন্ন ব্যবসা বানিজ্য করতো তাঁরা এখন নিজেদের ব্যবসাকে আরো পাকাপোক্ত করার জন্যে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে, অনেকেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বশীভূত করে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে। এই তালিকা পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি তা যাচাইবাছাই করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে সেই তালিকা বাছাই করতে দেওয়া হয়।*

*উল্লেখ্য যে, তালিকা বাছাই করতে যে কমিটি দিয়েছিলেন সেই কমিটির সকল সদস্য ছিলেন নারী । ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে এই কমিটি তালিকা যাচাইবাছাই করে দেখে যে, তালিকার দুই-তৃতীয়াংশ নাম সঠিক। বাকি এক-তৃতীয়াংশ যে নাম তা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দেওয়া হয়েছে। ধরা যাক, একটি এলাকার একজন নেতাকে কেউ পছন্দ করেন না এবং গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাঁর কাছে জানতে চেয়েছে যে অনুপ্রবেশকারী কে। তখন ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকার কারণে কারো নাম বলেছে এবং তাঁকে জামাত-বিএনপি ঘরানার বা তাঁর সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির যোগসাজশ রয়েছে বা তিনি বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এমন তথ্য প্রদান করেছে।
ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে এই কমিটি যাচাইবাছাই করে প্রায় ৩৮০০ জনের নামের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। এই তালিকায় যারা ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ ছিল সেই অভিযোগের একটি সারসংক্ষেপ ঐ তালিকায় ছিল।*

*আওয়ামী লীগ সভাপতি এই তালিকা পুনরায় আবার বিচার-বিশ্লেষণ করেন এবং তারপর তিনি দলের দপ্তর সম্পাদককে এই তালিকাটি ৮ টি বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদককে প্রদান করতে বলেন এবং এই তালিকার আলোকে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এই নির্দেশনা প্রদানের ২ বছর পরেও তালিকায় যারা ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এটাকে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারাই।*
*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সেইসময় সাংগঠনিক সম্পাদকরা তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গেলেই স্থানীয় পর্যায় থেকে ব্যাপক চাপ আসে। কারণ স্থানীয় নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তাঁদের আগ্রহের কারণে অনুপ্রবেশকারীরা দলে ঢুকতে পেরেছে এবং তাঁদের সঙ্গে এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের নানারকম সম্পর্ক রয়েছে।*

*এই অবস্থায় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতারা কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্যে, বিশেষ করে সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বিভিন্ন দেনদরবার-তদবির করেন। এর মধ্যেই নতুন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং এই সম্মেলনের পরে আওয়ামী লীগের নতুন সাংগঠনিক সম্পাদকরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তারপরেই দেশের করোনা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বাস্তবতায় ঐ তালিকা নিয়ে কাজ আর এগোচ্ছে না।*
*তবে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করেছিলেন, সেভাবে যদি দ্রুত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে এখন সাহেদের মতো দুর্বৃত্তদের নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না এবং আওয়ামী লীগের লোকেরা অপকর্ম করে এই ধরনের কথা উঠতো না। এই জন্যেই আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি যে তালিকা দিয়েছেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।*