প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *সাহেদের ৩ স্ত্রীর নতুন কেচ্ছা ফাঁ’স!*

*সাহেদের ৩ স্ত্রীর নতুন কেচ্ছা ফাঁ’স!*

96
*সাহেদের ৩ স্ত্রীর নতুন কেচ্ছা ফাঁস!*

*করোনা টেস্টের রিপোর্ট জালিয়াতির হোতা মো. সাহেদ ব্যক্তি জীবনেও বহুরূপী প্রতারক। এতদিন সাদিয়া আরাবী নামে তার একজন স্ত্রীর কথা জানা গেলেও এবার ফাঁস হয়েছে তার আরও ২ স্ত্রীর পরিচয়। সাহেদের সহকর্মীরা বলছেন, সাহেদের তিনজন স্ত্রীকে তারা দেখেছেন। একাধিক স্ত্রী থাকলেও পরস্পরের কাছে বিষয়টি এত দিন গোপন রেখেছিলেন সাহেদ।*
*সাহেদের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, লিজা ও মার্জিয়া নামে দুজন সাহেদের অফিসে কাজ করেন। এদের একজনকে তিনি বিয়ে করেছেন। এছাড়াও সাদিয়া ও হিরা মণি নামে দুই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সাহেদের। পাসওয়ার্ড দেওয়া প্রাইভেট রুমে তাদেরই প্রবেশাধিকার ছিল।*

*সাহেদের সাবেক এক নারী কর্মী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি তো সাহেদের তিনটি বউ দেখছি। তাদের একজন প্রিয়তির আম্মু (সাদিয়া আরাবী), যে বনানীতে থাকে। নাজিয়ার আম্মুকেও তো কিছুদিন আগে কক্সবাজার থেকে আটক করছে। আরেকজনের নাম চৈতি, সে-ই তার অরজিনাল বউ জানতাম। তার যে আর কোনো বউ আছে তা জানতাম না। পরে বাকিদের ব্যাপারে জানি।’*
*তিনি আরো বলেন, ‘মার্জিয়া নামের একজনকে শুধু শুধুই বেতনের নামে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা দিতে হতো। স্যার তাকে বিয়ে করছে; কিন্তু অন্যদের সামনে হয়তো সেটা দেখাচ্ছে না। লিজা ম্যাডামও মনে হয় তার বিবাহিত ছিল। অনেক খবরদারি করত। মার্জিয়াকে নিয়ে একবার অনেক ঝগড়া হয়েছিল।’*

*জানা গেছে, কাজ হাসিল করতে সুন্দরী পাঁচ বান্ধবীকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন সাহেদ। আর্থিক জালিয়াতির জন্য বহুরূপী সাহেদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষর। লেনদেনের ক্ষেত্রেও তিনি ভিন্ন স্বাক্ষর ব্যবহার করতেন। একেকটি লেনদেন দেখার দায়িত্বে ছিলেন একেকজন সহযোগী।*
*প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে করোনার পরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রতারণার আলামত পাওয়া যায়। এরপর মিরপুরের শাখায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। এতে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের একের পর এক অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসে।*

*প্রভাবশালী মহলে ডা. সাবরিনার দৌড়ঝাঁপ*
*নিজেকে রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন ভুয়া করোনা টেস্টকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা। এজন্য তিনি প্রভাবশালী মহলে দৌড়ঝাঁপ করছেন। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে রেজিস্টার চিকিৎসক তিনি। আইনশৃংখলা বাহিনী জেকেজি হেলথ-কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ এই প্রতিষ্ঠানের বেশকিছু কর্মীকে গ্রেপ্তার করলেও ডা. সাবরিনা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) এক প্রভাবশালী নেতার বান্ধবী হওয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে জানা গেছে। এছাড়াও প্রভাবশালী অনেক নেতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে সাবরিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে দেন দরবার চালাচ্ছেন সাবরিনা।*

*জেকেজির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই প্রমাণ করতে ২৪ জুন ভোর সোয়া পাঁচটায় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন, ‘অনেক আশা নিয়েই জেকেজি হেলথকেয়ার শুরু করেছিলাম বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য! কোনো জিনিস প্রতিষ্ঠা করাই বড্ড কঠিন! অনেক কষ্ট করেছি! করোনা বিপর্যয় শুরু হওয়ার পর প্রথম এলাকাভিত্তিক স্যাম্পল কালেকশন শুরু হয়- কত মানুষের কত রকম বাধা! কোনো দোকান খোলা নেই, জিনিসপত্র নেই, কেউ ভয়ে করোনা নিয়ে কাজ করতে চায় না! সব পেরিয়ে পথ চলা!*

*কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই আমাকে সরে আসতে হয়! যারা আমাকে কাছ থেকে চেনেন তারা জানেন, আদর্শ আর ভালোবাসার কনফ্লিক্টে আমি সব সময় আদর্শকেই বেছে নিয়েছি! ৪-৬ তারিখেই স্বাস্থ্য অধিদফতর আর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার ল্যাবের অধ্যাপক তুষার স্যার এবং আমার কাছে যে কজন সাংবাদিক ভাই ও বোনের নম্বর ছিল তাদের জানিয়ে আমি সরে যাই এখান থেকে! আমি চলে গেছি মানে এই নয় যে, এখানের কোনো সমস্যায় আমি পুলকিত হবো বা তা আমাকে ছোঁবে না! যদি কেউ দোষ করে থাকে তার প্রমাণ সাপেক্ষে অবশ্যই সাজা হবে! হওয়াই উচিত! তবে আমার প্রশ্ন হল, দু’একজন কর্মচারীর নামে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটা প্রতিষ্ঠান যে এতদিন ধরে সেবা দিয়ে গেছে সব মুহূর্তেই মিথ্যা হয়ে যাবে?*

*আমার বেশির ভাগ এফবি ফ্রেন্ড আমার জন্য উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন, ভরসা দিয়েছেন- তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা! যারা চিরকালই আমার দোষ বের করতে পেরে বিমল আনন্দ পেয়েছেন তাদের জন্য এই পোস্ট নয়…।’*
*অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনার স্বামী আরিফ জানিয়েছেন, ডা. সাবরিনা জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান। নিজেকে রক্ষা করতে সাবরিনা মিথ্যা বলছেন বলেও জানিয়েছেন আরিফ।*
*আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেকেজির সাথে সাবরিনার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষী যেই হোক ছাড় পাবে না।*
*প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন ভোরে তানজিনা নামে এক নার্স ও তার স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসে জেকেজির প্রতারণার রহস্য। ওইদিন দুপুরে জেকেজির গুলশানের অফিসে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ডা. সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ৬ জনকে। পরে আরিফ চৌধুরীকে ছাড়িয়ে নিতে তার ক্যাডার বাহিনী তেজগাঁও থানায় গিয়ে ভাংচুরের চেষ্টা করে। এসব ঘটনায় পুলিশ ৪টি মামলা করেছে।*