প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *সাহেদকে কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে?*

*সাহেদকে কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে?*

60
*সাহেদকে কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে?*

*আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গত ২ দিনেও প্রতারক সাহেদকে ধরতে পারেনি। প্রতারক সাহেদের বিরুদ্ধে গত ৬ জুলাই রাতে অভিযান পরিচালনা করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা র‍্যাব। প্রতারণা করে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার কারণে তাঁর মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে, তাঁর অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং গত বৃহস্পতিবার তাঁর ব্যাংক একাউন্টও জব্দ করা হয়েছে।*
*আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বলছে যে, তাঁর দেশত্যাগের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩ দিনেও সাহেদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সাহেদ কোথায় আছে এই নিয়ে নানারকম প্রশ্ন এবং সমীকরণ চলছে। অবশ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, সাহেদকে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা তাঁরা করে যাচ্ছেন এবং যেকোন সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।*

*জানা গেছে যে, সাহেদ সর্বশেষ হাসপাতালে অভিযানের রাতে ফোন করেছিলেন তাঁর স্ত্রীকে এবং সেসময় তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলেছেন যে, রাতে ফিরবো না, যেখানে আছি সেইফ আছি। ৬ জুলাই রাতে যখন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখায় অভিযান চালানো হয় সেইসময় সাহেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেলিফোন করেছিলেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন যে এই ব্যাপারে তাঁর কোন করণীয় নেই। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মূলধারার গণমাধ্যমে সাহেদের বেশকিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, সাহেদ অনেক হোমরাচোমরা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন এবং তাঁদের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, প্রতারকরা এই সমস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে অন্যদেরকে প্রভাবিত করেন এবং প্রভাবশালীরা বড় কোন অনুষ্ঠানে এরকম কোন ছবি তুলতে অনুরোধ করলে না করেন না। সাহেদও প্রতারণার জাল বিস্তীর্ণ করার জন্য তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, তাঁদের ব্যবহার করেছেন।*

*আসলে কারো পক্ষেই জানা সম্ভব নয় যে কে দুর্বৃত্ত, কে প্রতারক। বিশেষ করে বঙ্গভবনের বড় অনুষ্ঠানে সাহেদ আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং সেখানে একজন নেতা বা একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা কিভাবে বুঝবেন যে, এই ব্যক্তি একজন প্রতারক। তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারাও অবাক হয়েছেন যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তাঁকে একজন প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং এই প্রতারক থেকে সাবধান থাকার অনুরোধ করেছিল। সেই প্রতারক কিভাবে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াল তাও এক বড় প্রশ্ন। তবে এইসব প্রশ্ন ছাপিয়ে সবথেকে বড় প্রশ্ন হচ্ছে সাহেদ এখন কোথায়? যেখানে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অতিদ্রুততার সঙ্গে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের প্রেপ্তার করে। আওয়ামী লীগের মধ্যে যেসকল দুর্বৃত্ত ছিল ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার মতো অপরাধীদের চোখের নিমেষে গ্রেপ্তার করে ফেলে সেখানে সাহেদকে গ্রেপ্তারে এত বিলম্ব কেন সেই প্রশ্ন উঠেছে।*

*সাধারণ মানুষ মনে করছে যে, সাহেদকে গ্রেপ্তারে যত বিলম্ব হবে, তত প্রশ্নের জন্ম নিবে। এজন্য দ্রত সাহেদকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপর অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস রয়েছে এবং বিগত ১ দশকে আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অনেক দক্ষতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি যে, সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গীবাদের সঙ্গে যারা জড়িত তাঁদের প্রস্তুতি গ্রহণকালেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেপ্তার করে, যেখানে তাঁরা অনেক পরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ। সেখানে সাহেদের মতো একজন প্রতারককে গ্রেপ্তারে কেন বিলম্ব হচ্ছে সেটাও এক বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন সূত্র থেকে মনে করা হচ্ছে যে, সাহেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর যোগাযোগ রয়েছে এবং সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে যে, সাহেদ যেন কোনভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারে, পালিয়ে যেতে না পারে। সাহেদকে যদি গ্রেপ্তার না করা হয় তাহলে এটা জনগণের মধ্যে একটি অস্বস্তি এবং হতাশা তৈরি করবে। আমরা আশা করি যে, প্রতারক সাহেদ যেখানেই থাকুক তাঁকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুতই গ্রেপ্তার করবে।*