প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *সাহারা খাতুনের বর্ণা’ঢ্য রা’জনৈতিক জীবন*

*সাহারা খাতুনের বর্ণা’ঢ্য রা’জনৈতিক জীবন*

242
*সাহারা খাতুনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন*

*১৯৪৩ সালের ১ মার্চ তিনি ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন সাহারা খাতুন। তার পিতার নাম আব্দুল আজিজ ও মাতার নাম টুরজান নেসা। শিক্ষাজীবনে তিনি বি’এ এবং এল’এলবি ডিগ্রি আর্জন করেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি আইনপেশায় নিযুক্ত ছিলেন।*
*ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে নাম লেখান। আইনপেশায় আসার পর সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা গঠিত হলে তাতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন। সারা ঢাকা শহরে আইভি রহমানের নেতৃত্বে মহিলাদের সংগঠিত করতে শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় নেতা ম’রহুম তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা গঠন করে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মিছিল মিটিং সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করেছেন। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দিনও তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা তখনকার ছাত্রলীগ নেত্রীর সাথে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।*

*তিনি প্রথমে নগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহিলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদিকা এবং একই সাথে নগর আওযামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-আইন সম্পাদিকা, পরে তিনি আইন সম্পাদিকা নির্বাচিত হন, তখন তিনি নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ এবং মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ আর গ্রহণ করেননি। অতঃপর পরবর্তী কাউন্সিলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। এখনও তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে আছেন।*

*রাজপথের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন সরব। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, আইয়ুব-ইয়াহিয়া বিরোধী আন্দোলন, দেশ স্বাধীনের আন্দোলন, ৭৫’র পর অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন করেছেন রাজপথে। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হরতাল, সভা-সমাবেশ করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার এবং নির্যাতিত হয়েছেন।*
*আইনপেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের বহ সংখ্যক নেতাকর্মীর মামলা বিনাপয়সায় লড়েছেন। যারা আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তারা জানতেন জামিনের জন্য অ্যাডভোকেট সাহারাসহ আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা আছেন। আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের কাছে ভরসার জায়গা ছিলেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এমনিভাবে সারাজীবনের আইনপেশায় তিনি আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর পেছনে লড়েছেন এবং তাদের জেল থেকে মুক্ত করেছেন।*

*বাংলাদেশ সরকারের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এর আগে ফখরুদ্দিন, মঈনুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তার সঙ্গে আবারও গ্রেফতার হন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তিনি ছিলেন কল্যাণমূলক রাজনীতির অগ্রদূত ও ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার খুব প্রিয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাহারা খাতুন নিজে রাজনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।*
*নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা গঠনের সময় ডাক পড়ে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের। তিনি শপথগ্রহণ করেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তিনি ৬ জানুয়ারি ২০০৯ সালে তার দফতরে প্রবেশ করেন। ২০১২ সালে মন্ত্রণালয়ের রদবদল ঘটলে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।*

*২০০৯ সালের অওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এর আগে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন সদ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি দ্বন্দ্ব সমাধানে নেতৃত্ব করেন। বিদ্রোহীদের খারাপ দিকটার সুরাহা করেন। যেটা সৈনিকদের পক্ষে ও বাংলাদেশ রাইফেল অফিসারদের বিরুদ্ধে যায়। যারা বাংলাদেশের আধাসামরিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তিনি সেখানে বাংলাদেশ রাইফেলের ক্যাম্পাসের কাছে গিয়েছিলেন। তাদের মাঝে আপসের জন্য উদ্দীপনামূলক কথা বলেন এবং বিদ্রোহীদের অস্ত্র জমা দিতে বলেন। এ ঘটনার ফলে ৫৩ জন সেনা কর্মকর্তা ও ৩ জন সেনা পরিবারের সদস্য নিহত হন।*

*জাতীয় ৪ নেতার জন্য পরীক্ষা দেননি সাহারা খাতুন*
*অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ছাত্রাবস্থায় রাজনীতিতে এমনভাবে ডুবে গিয়েছিলেন যে জাতীয় চার নেতাকে বিদায় জানানোর জন্য তিনি তার আইন পরীক্ষার একটি বিষয় বাদ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন পরীক্ষা পরও দেয়া যাবে কিন্তু জাতীয় নেতাদের শেষবিদায় জানানোর সুযোগ আর পাওয়া যাবে না।*
*১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্য করা হয় এবং ৪ নভেম্বর তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩২ নম্বর ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত মিছিল করেছিলেন।*

*৫ নভেম্বর চার নেতার মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। তার আইন পরীক্ষার একটি বিষয় ৫ নভেম্বর ছিল, তিনি তখন ভাবলেন পরীক্ষা পরও দেয়া যাবে কিন্তু জাতীয় নেতাদের শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। সে কারণে ওই বছর আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি।*
*এর পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’ (অনার্স) কোর্স শুরু হয়ে যান। তখন শিক্ষকদের পরামর্শে বিজয়নগরে সেন্ট্রাল ল’ কলেজে ভর্তি হন। আইনপেশায় আসার অদম্য ইচ্ছায় সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।*

*তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনপেশা পরিচালনার সনদপ্রাপ্ত হয়ে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আ্ইনজীবী সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং আইনপেশা শুরু করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমানের জুনিয়র হিসেবে।*
*এরপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার সনদ পান এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। তিনি পরবর্তীতে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।*

*শেখ হাসিনা প্রথম ফোনটি যাকে করেছিলেন*
*১৬ জুলাই ২০০৭, ভোর রাতে ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর ‘সুধা সদন’ ঘিরে ফেলল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কদিন ধরেই ফিসফাস কথাবার্তা ছিল, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভা নেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুধাসদন ঘিরে ফেলে ধাক্কা ধাক্কি শুরু করল। বাসার লোকরা দরজা খুলে দিল। যৌথবাহিনী ঘরে ঘরে তল্লাশি শুরু করল। শেখ হাসিনা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন ‘তোমাদের প্রধান কে?’ একজন সেনা কর্মকর্তা এগিয়ে এলেন। শেখ হাসিনা শান্ত, স্থির। বললেন, ‘ তোমার যা দরকার আমাকে বলো, উচ্ছৃংখলতা করো না।’ এরপর শুরু হলো তল্লাশি। লাইব্রেরি, কম্পিউটার কিছুই বাদ গেলো না।*

*শেখ হাসিনা বললেন, আমি কয়েকটা ফোন করব। সেনা কর্মকর্তা সম্মতি দিল। ওই ভোরে শেখ হাসিনা তিনটি ফোন করেছিলেন। প্রথম ফোনটি যাকে করেছিলেন, তাঁর নাম সাহারা খাতুন। একটা কল যেতেই সাহারা খাতুন ফোনটা ধরলেন। অপর প্রান্ত থেকে প্রিয় নেত্রী জানালেন যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এক মুহুর্ত দেরি করলেন না, ওই ভোররাতে ছুটে এলেন। শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে নেওয়া গাড়ির বহরের পিছনে পিছনে ছুটলেন। সকালে শেখ হাসিনাকে আদালতে তোলা হলো। অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন শেখ হাসিনার কাছ থেকে ওকালত নামায় স্বাক্ষর নিলেন। জামিনের আবেদনও করলেন। তারপর চলল আইনি লড়াই। এই আইনি লড়াইয়ে অনেক খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন, যাদের একসূত্রে গ্রথিত করেন সাহারা খাতুন।*

*তিনি ছিলেন সবার যোগসূত্র। তখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও সাহারা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন আবার অনেকেই গ্রেফতার আতংকে এড়িয়ে চলেছেন। নেত্রীর খোঁজ খবর নিতেন। শেখ হাসিনা তাঁর মাধ্যমেই দলের করণীয় সম্পর্কে বার্তা দিতেন।*
*বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হৃদয়ে আঁকড়ে রেখেছেন। পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ভাবেননি কখনো। রাজনীতি করেছেন আদর্শের জন্য এবং জনগণের কল্যাণের জন্য, পেয়েছেন নেত্রীর ভালোবাসা। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির, চাওয়া-পাওয়ার হিসেব নিয়ে বসেননি কখনো। কখনো ‘মুল্যায়ন’ হলো না ভেবে হা-হুতাশও করেননি।*

*হাসিটা কখনো ম্লান হয়নি*
*সাহারা খাতুন আলোচনায় আসেন ৮০র দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে লড়াকু সৈনিক হিসেবে। হরতাল, অবরোধে সবার সামনে থাকতেন। পিকেটিং করতে যেয়ে পুলিশের মার খেতেন। ৯১ এর উপ নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজিত করা হয়েছে, মনোনয়ন পাননি ৯৬ এবং ২০০১ এর নির্বাচনেও। কিন্তু তার মিষ্টি হাসিটা কখনো ম্লান হয়নি। কাজ করে গেছেন দলের জন্য। নেত্রীর কথা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে আদর্শিক দায়িত্ব পালন করেছেন । ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের আগেও উত্তাল আন্দোলনে সাহারা ছিলেন বীরের মতোই। পুলিশের লাঠি পেটা, নির্যাতন কোনো কিছুই তাঁকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে টলাতে পারেনি।*

*ওয়ান ইলেভেনের পর সাহারা খাতুন তাঁর জীবনে প্রথম ‘বসন্তকাল’ দেখেন। ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহন করে তিনি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তাঁকে করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সৎ, একনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক কর্মীর এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে?*
*রাজনীতিকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করে সরকারের অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর আয়েই উল্লম্ফন হয়েছে। কিন্তু সকলের মাঝেও ব্যতিক্রমী সাবেক সরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যা পেয়েছেন তার সবই তিনি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। নিজের বলতে কিছুই রাখেননি তিনি, নেই কোনও সম্পদও।*

*সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কতটা সফল, কিংবা ব্যর্থ-তার বিচার করবে ইতিহাস। পুলিশ বাহিনির প্রায় সিংহভাগ সফলতা এবং উন্নয়নের সময় ছিল এডভোকেট সাহারা খাতুনের মন্ত্রিত্বকালীন অবস্থায়। পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সর্ব প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, এবং সুশাসনের মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম নায়ক এডভোকেট সাহারা খাতুন। পুলিশ বাহিনির যে অর্জন রয়েছে ইতিহাসের পাতায় সেই উন্নয়নের কথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।*

*আওয়ামী লীগের শোকের রাত*
*ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।*
*বিবৃতির মাধ্যমে দেওয়া এসব শোকবর্তায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন তার। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তারা। পাশাপাশি সাহারা খাতুনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিকাশে তার অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।*

*এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সকল সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারী নেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারালো। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে।*
*বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাহারা খাতুনের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তার পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।*

*এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রমুখ।*