প্রচ্ছদ স্পটলাইট *প্র’তারক সাহেদের গ’ডফাদার কে?*

*প্র’তারক সাহেদের গ’ডফাদার কে?*

117
*প্রতারক সাহেদের গডফাদার কে?*

বাংলাদেশে এখন সবথেকে আলোচিত বিষয় রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা। গা শিউরে ওঠার মতো এই প্রতারণার মূল হোতা ঐ হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ। ক’দিন আগেও মূলধারার গণমাধ্যমে যাকে নিয়ে স্তুতি চলতো, মূলধারার গণমাধ্যমে যিনি সুশীল হিসেবে এসে জাতিকে জ্ঞান দিতেন সেই সাহেদের এখন পিণ্ডি চটকানো হচ্ছে, সাহেদের নানা অপকর্মের কথা বলা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, এতদিন আমাদের গণমাধ্যম কোথায় ছিল?

আজ যখন এই অপকর্মগুলোর খবর গণমাধ্যমে আসছে তখন দেখা যাচ্ছে যে, দীর্ঘদিন যাবত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এই প্রতারক সুশীল হিসেবে পরিচিত হয়েছেন এবং সমাজে সুশীল হিসেবে তাঁকে পরিচিত করেছে আমাদের গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন সৃষ্টিশীলতার অকাল দূর্ভিক্ষে ভুগছে, প্রায় সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেলই কিছু গৎবাঁধা ছকে বন্দি হয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে নেই কোন সৃজনশীলতা। আর এজন্যেই সাহেদের মতো প্রতারকদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হচ্ছে বিভিন্ন টক শো তে। বাংলাদেশে এই টক শোগুলোতে নাকি অনেকেই টাকা-পয়সা দিয়ে আসে এরকম খবর আগে কানে-কানে শোনা হতো, এখন তা প্রকাশ্য হচ্ছে।

সেটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়, মানুষ এখন টেলিভিশন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মানুষ এখন ইউটিউব বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সেটা ভিন্ন বিষয়। তবে সাহেদের উত্থানের পেছনে রয়েছে কিছু গডফাদার। দেখা যাচ্ছে যে, র‍্যাব যেখানে অভিযান চালিয়েছে সেখানে শাহেদের সঙ্গে বাংলাদেশের সকল ভিআইপি বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি পেয়েছে। এই সমস্ত প্রতারকদের মূল লক্ষ্য থাকে যেকোন ভিআইপির সঙ্গে যেকোনভাবে ছবি তুলে তা সাধারণ মানুষকে দেখিয়ে প্রতারণা করা। সাহেদ এই কাজটিই করেছে।

কিন্তু আমাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, সাহেদের নির্দিষ্ট গডফাদার ছিল এবং এই গডফাদাররা সাহেদকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে সাহেদকে বিভিন্ন জেলার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার রুমে নিয়মিত থাকতেন সাহেদ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেন। ঐ কর্মকর্তা প্রায় ৫ বছর যাবত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ছিলেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা এবং তাঁর আপ্যায়নে সাহেদ বিকশিত হয়েছে, বেড়ে উঠেছে।

প্রশ্ন হলো যে হাওয়া ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যে খাম্বা মামুনের বিজনেস পার্টনার ছিল এবং যে লোকটি তারেকের চাকর পর্যায়ের ছিল সে কিভাবে একজন সৎ-মেধাবী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন? শুধু ঘনিষ্ঠই নয়, তাঁকে দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর কাজও কিভাবে করা হয়? তাঁকে কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেওয়া হয়? তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যারা বসছেন তাঁরা কার সাথে মিশছেন বা কাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়না। জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক এই কর্মকর্তা এক সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপর তাঁর একটি নজরদারি আছে। ঐ কর্মকর্তার কারণেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একের পর এক বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করেন অনেকে।

কারণ এম এম নিয়াজউদ্দিনের বিদায়ের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাকে সচিব করা হয় তিনিই আবার মিঠুকে পুনর্বাসিত করেছেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং সেখানে মিঠুর সঙ্গে তাঁদের গোপন লেনদেনের কথা বাজারে চাউর রয়েছে। সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের পর আসাদুল ইসলামকে সচিব করার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সেই কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অনেকেই ধারণা করেন।
২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় সাহেদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সেই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কি সম্পর্ক ছিল তা যাচাইবাছাই করা দরকার। কারণ শুধুমাত্র নিজের ভূয়া পরিচয় দিয়ে একজন প্রতারণা করতে পারেন না। প্রত্যেকটি প্রতারণার পেছনে একজন গডফাদার থাকে। তাই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে যে, প্রতারক সাহেদের গডফাদার কে?