প্রচ্ছদ স্পটলাইট *সরকারের বি’রুদ্ধে ঘরে-বাইরে যত ষ’ড়যন্ত্র*

*সরকারের বি’রুদ্ধে ঘরে-বাইরে যত ষ’ড়যন্ত্র*

63
*সরকারের বিরুদ্ধে ঘরে-বাইরে যত ষড়যন্ত্র*

*করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ে যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একা। তিনি করোনা মোকাবেলার যে কর্মপন্থা নির্ধারণ করছেন, কর্মকৌশল নির্ধারণ করছেন মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। তাঁরা মনে করছেন যে, করোনা নিয়ে সরকারের ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, স্যাবোটাজ হচ্ছে এবং সরকারের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য নানামূখী কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় দেখা যায় যে তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁরা মনে করছেন যে, এখনই সরকারকে সতর্ক হতে হবে নাহলে সামনে অনেক বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা, তৃণমূলের কর্মীরা যে পাঁচ ধরণের অব্যবস্থাপনা এবং ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন তাঁর মধ্যে রয়েছে-*

*১. প্রশাসনের ষড়যন্ত্র: সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে বিএনপি-জামায়াতপন্থিরা জেঁকে বসেছে। আওয়ামী পন্থী এবং প্রভাবশালী আমলাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে প্রশাসনে বিএনপি-জামায়াতপন্থিরা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখল করে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে কেলেঙ্কারি, বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ একজনের সচিব হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন পদে বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের অধিষ্ঠিত হওয়াটি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাঁরা মনে করছেন যে, বিএনপি-জামায়াতপন্থিরা এখন নতুন নীলনকশার পরিকল্পনা করছে। তাঁরা প্রশাসনের ভেতরে ঢুঁকে সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কৌশল নিয়েছে এবং সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই বিএনপি-জামায়াতপন্থিরা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসীন হচ্ছেন।*

*২. স্বাস্থ্যখাতে ষড়যন্ত্র: আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে যে তাঁরা মনে করছেন স্বাস্থ্যখাতে পরিকল্পিতভাবে স্যাবোটাজ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আওয়ামী লীগের চিন্তাচেতনাকে ধারণ করেন না, তাঁরা নানা কূটকৌশল অবলম্বন করে তাঁদের দায়িত্বে টিকে আছে এবং তাঁরা প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন যে, স্বাস্থ্যখাত যেভাবে কাজ করছে তা প্রকাশ্যই সরকারকে ডুবানোর জন্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সমালোচনা করেছেন। স্বাস্থ্যখাতে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেই ঘটনাগুলো অযোগ্যতা নয়, স্যাবোটাজ এবং ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা।*

*৩. সিদ্ধান্তহীনতা: প্রশাসনে বিএনপি-জামায়াত পন্থিদের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এখন সরকারের মাঝে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অনেক বিষয়েই সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাপক সমালোচনার পরেও তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কি, লকডাউন নিয়েও দেখা যাচ্ছে একের পর এক সিদ্ধান্তহীনতা। এরকম সিদ্ধান্তহীনতা বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন যে, এটাও ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।*

*৪. সঠিক তথ্য প্রাপ্তিতে বাঁধা: আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সঠিক তথ্য জানতে দেওয়া হচ্ছেনা এবং তাঁর আশেপাশে যারা আছে তাঁরা প্রকৃত তথ্য গোপন করছে এবং করোনার কারণে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতের কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা শেখ হাসিনার তথ্য প্রাপ্তির মূল উৎস সেই নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারছেন না। ফলে অনেক তথ্যই তিনি সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রাপ্তিতে বাঁধার কারণে সরকারের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র, সেই ষড়যন্ত্র আরো ঘনীভূত হচ্ছে।*

*৫. পরিকল্পিত অপপ্রচার: বাংলাদেশের মূল ধারার গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চলছে এবং সরকার করোনা মোকাবেলা করতে পারছে না এধরনের একটি ধারণা জনগণের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করার একটি পরিকল্পিত নীলনকশার বাস্তবায়ন চলছে। একটি জনপ্রিয় দৈনিক করোনার সময়ে বিভিন্ন মৃত ব্যক্তির ছবি ছাপিয়েছে। যেটা অনৈতিক এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করা, ক্ষোভ ঘনীভূত করাই এই প্রচারণার মূল অংশ। অধিকাংশ মূল ধারার পত্রিকাই এখন সরকারের সমালোচনায় মুখর। অথচ সরকারের যে ইতিবাচক দিকগুলো সেগুলো কোথাও তুলে ধরা হচ্ছেনা। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন যে, এই ঘরে-বাইরের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে খুব দ্রুত দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ।*