প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *বাংলাদেশে জ’ঙ্গিবাদের গ’ডফাদার যারা*

*বাংলাদেশে জ’ঙ্গিবাদের গ’ডফাদার যারা*

271
*বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের গডফাদার যারা*

*১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন ধর্ম নিরপেক্ষ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক দেশ গড়ার জন্য। আর এই স্বপ্ন নিয়েই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের যে সংবিধান, সেই সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে মৌলিক চারটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হিসেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করার পর বাংলাদেশে উল্টো হাওয়া বইতে থাকে এবং বাংলাদেশে আস্তে আস্তে জ’ঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। এই জ’ঙ্গিবাদকে যারা বিভিন্ন সময়ে মদ’দ দিয়েছেন এবং জ’ঙ্গিবাদকে যারা বিভিন্ন সময়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলেন তাঁরা গণতন্ত্রের লেবাসে রাজনীতি করে কিন্তু আসলে তাঁরা জ’ঙ্গিবাদের গড’ফাদার। এদের কারণেই বাংলাদেশে জ’ঙ্গিবাদ ডালপালা মেলেছে এবং এখনো বাংলাদেশে জ’ঙ্গি তৎপরতা সক্রিয় রয়েছে।*

*প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে ২০১৬ সালে হয়ে যাওয়া হলি আর্টিজেন ঘটনার পর বড় কোন ঘটনা ঘটাতে পারেনি তবে জ’ঙ্গিদের তৎপরতা বাংলাদেশে অব্যহত রয়েছে। কারণ জ’ঙ্গিদের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক গড’ফাদাররা এবং আমরা যদি দেখি যে-*
জিয়াউর রহমান: জিয়াউর রহমান ছিলেন জ’ঙ্গিদের সবথেকে বড় গড’ফাদার। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে উপড়ে ফেলেছিলেন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে শুরু করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতকে তিনি রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এখান থেকেই বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের উত্থান পর্ব বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

*হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ: এরশাদ ছিলেন জঙ্গিবাদের আরেক গ’ডফাদার এবং এরশাদের আমলে বাংলাদেশের মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলো ডালপালা মেলার সুযোগ পায়। এরশাদের সময় ৭৫ এর আত্মস্বীকৃত খুনীরা রাজনৈতিক দল করে, রাজনীতিতে জঙ্গিদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর ঘটে।*
*বেগম খালেদা জিয়া: বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের আরেক গডমাদার এবং তিনি জঙ্গিদের লালনপালন করেছিলেন তাঁর রাজনৈতিক মসনদ পাকাপোক্ত করার জন্য। বিভিন্ন জঙ্গিসংগঠনের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক গড়েছিলেন এবং ২০০১ সালের আগে এসেই সম্পর্ক প্রকাশ্য হয়ে যায়। একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বিএনপির প্রকাশ্য সম্পর্ক ছিল। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০ ট্রাক অস্ত্র আসা বা একুশে আগস্টের গ্রেণেড হামলা- সবই জঙ্গি যোগসাজশে হয়েছে বলে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মূলধারার রাজনীতিতে জঙ্গিবাদকে ঠাঁই দেওয়ার মূল কাজটি করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।*

*তারেক জিয়া: বাংলাদেশে এখনো যে জঙ্গি তৎপরতা চলছে এবং জ’ঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে তাঁর সবথেকে বড় গডফাদার তারেক জিয়া। তারেক জিয়া নিজে সরাসরিভাবে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত এরকম বহু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, একাধিক জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে তাঁর সংযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে যতগুলো জঙ্গি সংগঠন আছে তাঁদেরকে অর্থ সাহায্য দেওয়া এবং তাঁদেরকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তারেক জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে একুশে আগস্ট গ্রে’ণেড হা’মলার সময় তিনি পাকিস্তানের জ’ঙ্গি সংগঠনকে ব্যবহার করেছিলেন। ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া এবং তাঁদেরকে বাংলাদেশে কাজ করতে দেওয়ার অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রেও লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজ করতেন। এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তারেক জিয়ার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের মাধ্যমে একটি সহিংসতা ঘটানোর চেষ্টা করেছেন বলে একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।*

*যু’দ্ধাপরাধীদের সন্তানরা: বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তিনি ২০০৮ এ যে নির্বাচনী অঙ্গীকার করেন তা বাস্তবায়ন করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে। এই বিচার বাংলাদেশকে ইতিহাসের দায়মুক্তি দেয়। কিন্তু এই বিচারের পর ৭১ এর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষ’ড়যন্ত্র করছে এবং এরা বিভিন্ন জ’ঙ্গি সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা আর নেতৃত্ব দিচ্ছে। গোলাম আযমের পুত্র, মীর কাশেমের পুত্র, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র, মতিউর রহমান নিজামীর সন্তানরা- প্রত্যেকেই জ’ঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এবং জ’ঙ্গিবাদের সঙ্গে তাঁদের প্রকাশ্য সম্পর্ক রয়েছে। আর এই সমস্ত গ’ডফাদারদের কারণে সরকার জ’ঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করার পরেও জ’ঙ্গিবাদের শেকড় উৎপাটন করতে পারেনি।*