প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *২ হাজার কোটি টাকা হা’তিয়ে নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ ঠি’কাদার*

*২ হাজার কোটি টাকা হা’তিয়ে নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ ঠি’কাদার*

126
*২ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ ঠিকাদার*

*দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,বাজার মূল্যের চেয়ে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির দাম কয়েকগুণ বেশি দেখিয়েই সরকারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্বাস্থ্যখাতের দশ ঠিকাদার।*
*গত পাঁচ বছরে ধরে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘুরেফিরে তারা এই অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এসব ঠিকাদারই পেয়েছেন বেশিরভাগ কাজ। দুদকের তদন্ত বলছে, ঠিকাদারদের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ রয়েছে।*
*বক্ষব্যাধী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনের আত্মীয় স্বজনের নামে রয়েছে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের হাতে থাকা তথ্য বলছে, ঢাকা, ফরিদপুরসহ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে বাজারমুল্যের চেয়ে কয়েকগুন বেশী দামে যন্ত্রাপতি সরবরাহ করে তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা। সম্প্রতি ১৪ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানগুলোও কালো তালিকাভূক্ত হয়।*

*শুধু সাজ্জাদ নয়, দুদকের কালো তালিকায় রয়েছেন এরকম বেশকজন ঠিকাদার। আছেন কালো তালিকার বাইরেরও কিছু ঠিকাদার। যাদের সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ একই।*
*ঠিকাদার জাহের উদ্দিন সরকারের নিজ নামে এবং আত্মীয় স্বজনের নামে রয়েছে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক, মার্কেন্টাইল ট্রেড এবং ইউনিভার্সেল ট্রেড নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে জাহের উদ্দিন প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।*

*আর স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে আলোচিত ঠিকাদার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আবজাল হোসেন। নামে-বেনামে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন প্রায় দুশো কোটি টাকা। স্ত্রীসহ আবজাল এখন বিদেশে পলাতক।*
*দুদকের পাঁচ বছরের নথি বলছে, শুধু সাজ্জাদ, জাহের কিংবা আবজাল নয়, স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী এমন আরো সাতজন ঠিকাদার রয়েছে যারা বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে হাতিয়েছেন দেড় হাজার কোটি টাকা। সবমিলিয়ে পাঁচ বছরে সরকারের গচ্ছা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।*

*যে কারণে বাংলাদেশের ভ্যাকসিনটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি*
*করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কার করতে সক্ষম হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটি গত ৮ মার্চ এই টিকা আবিষ্কারে কাজ শুরু করে। সবপর্যায় যথাযথভাবে পেরোতে পারলে আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে টিকাটি বাজারে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।*
*বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন আশা প্রকাশ করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।*
*এই টিকা আবিষ্কারে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা।*

*সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ৮ মার্চ ‘কোভিড-১৯ ‘শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ‘ওষুধ’ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণা কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।*
*তিনি আরও বলেন, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫,৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। এসব সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আমরা আমাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করেছি, যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে আশা করছি। এই টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছি, যা ইতোমধ্যেই এনসিবিআই স্বীকৃতি দিয়েছে এবং প্রকাশিত হয়েছে (accession number: MT676411)। আমাদের গবেষণাগারে আবিষ্কৃত টিকাটির বিশদ বিশ্লেষণের পর ল্যাবরেটরি অ্যানিমেল মডেলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে যথাযথ এন্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফলাফল পেয়েছি।*

*গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড’ ২০১৫ সালে ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস, রক্তস্বল্পতা, উচ্চরক্তচাপ, অটোইমিউন ডিজিজসহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগ নিরাময়ের জন্য বায়োলজিক্স, নোভেল ড্রাগ এবং বায়োসিমিলার উৎপাদনের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি দুরারোগ্য ব্যাধির বায়োসিমিলার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) কঠিন নিয়ম-কানুনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদনের পথে।*