প্রচ্ছদ রাজনীতি *খু’নী মোশতাকের অপছায়া শেখ হাসিনা সরকারে?*

*খু’নী মোশতাকের অপছায়া শেখ হাসিনা সরকারে?*

206
খুনী মোশতাকের অপছায়া শেখ হাসিনা সরকারে?

*১৯৭৩ সাল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলেন কুখ্যাত খু’নী, ঘৃণিত খন্দকার মোশতাক আহমেদকে। এরপরেই শুরু হল বাংলাদেশের নানা সঙ্কট। কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আছে এবং কিউবাতে পাট রপ্তানী করা হয়েছে এই অজুহাতে পিএল-৪৮০ চুক্তির একটি ধারা দেখিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গম সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দিল। গমের জাহাজ চলে গেল এবং বাংলাদেশে দেখা গেল খাদ্য সঙ্কট। এই সঙ্কট মেটানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যা করার কথা ছিল তাঁর কিছুই করলো না। বাণিজ্য মন্ত্রী চুপটি মেরে থাকলেন এবং ‘দৈনিক বাংলা’র খবর অনুযায়ী ৪১ দিন গেলেন না মন্ত্রণালয়ে। এরপর যা হবার তাই হয়েছে। বাংলাদেশে তথাকথিত একটি দূর্ভিক্ষের নাটক সাজানো হয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর নোবেলজয়ী গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশে আসলে কোন খাদ্য ঘাটতি ছিলনা, পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বাংলাদেশে মজুদ ছিল।*

*সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে বাংলাদেশে দূর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। আর এই সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ একটি খাদ্য ঘাটতি দেখিয়ে, দূর্ভিক্ষ দেখিয়ে বাংলাদেশকে অশান্ত করে ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের প্লট রচনাই ছিল খুনী মোশতাকের ষড়যন্ত্রের অংশ। আর এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কাজে লাগিয়েছিল ইতিহাসের নিকৃষ্টতম এবং ঘৃণিত ব্যক্তিটি।*
*খন্দকার মোশতাকের ঘটনাটি একটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ধারণা দেয়। তা হলো সরকারে থেকে আপনি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকেন না কেন, জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা এবং জনগণের মাঝে অসন্তোষ, ক্ষোভ-বিক্ষোভ জাগিয়ে তোলার কাজটি খুব সহজেই করা যায়। খুনী মোশতাক ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ এ যে কাজটি করেছিল, কেবল দূর্ভিক্ষের নাটকই সাজানো হয়নি, বাসন্তিকে জাল পরিয়ে নাটক সাজানোও হয়েছিল। সেসময় একটি তাঁতের শাড়ির দামের থেকে ১ হাজার গুণ বেশি ছিল একটি জালের দাম। অথচ সেই বাসন্তি যদি শাড়ি না পায় তাহলে তিনি জাল পরবেন কিভাবে? অনেক পরে এই বাসন্তির কাছে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, বাসন্তিকে বাড়ি তুলে দিয়েছিলেন তিনি।*

*জিয়াউর রহমান সরকার, এরশাদ সরকার বা খালেদা জিয়ার সরকার কেবল বাসন্তিকে মিথ্যা কুৎসিত রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেছে। পরবর্তীতে দেখা গিয়েছিল যে, বাসন্তি একজন মানসিক ভারসম্যহীন নারী এবং শেখ হাসিনাই তাঁর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, দেখভাল করেছিলেন। ঐসময় একজন সাংবাদিক অপসাংবাদিকতার এক চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাসন্তিকে জাল পরিয়ে ছবিটি তুলেছিলেন। ষড়যন্ত্র এভাবেই হয়।*
*৭৫ পরবর্তী এই কাহিনীটি আলোচনা করলাম এই কারণে যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু ঘটনা, কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সেই ঘটনাগুলোকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমরা যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কথাই ধরি, যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একের পর এক যে কাজগুলো করছে তাতে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ই জনঅসন্তোষ তৈরির জন্য যথেষ্ট এবং আওয়ামী লীগের যারা পোড় খাওয়া নেতা, যারা দুঃসময়ের কাণ্ডারি তাঁরা পর্যন্ত এই নিয়ে অশনি সংকেত দেখছেন। আমরা দেখি যে, গতবছর ডেঙ্গু যখন শুরু হলো তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মালয়েশিয়া চলে গেলেন গোপনে। সেই সমসময় তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে বলা হলো যে তিনি দেশেই আছেন।*

*কিন্তু কোথায় আছেন তা বলা হলো না। পরে যখন জানাজানি হলো, তিনি গণমাধ্যমের উপর তীব্র ক্ষোভ ঝারলেন। এবার করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একাই যেন খুনী মোশতাকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।*
*একের পর এক যে কাজগুলো তাঁরা করছেন সেই কাজগুলো কেবলই অযোগ্যতা? সেগুলো কি কেবলই ব্যর্থতা? তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে কাজগুলো করছে সেগুলোর ফলে সরকারের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকার সম্পর্কে কিছুটা হলেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনাটিকে অনেকেই ৭৩ এর বাণিজ্য মন্ত্রী খুনী মোশতাকের আচরণের মতই মনে করছেন। যেকোন বিষয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিচ্ছেন, সেই উদ্যোগগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এসে যেন থমকে যাচ্ছে। ফাইল চালাচালির নামে মন্ত্রী অযথা সময় বিলম্ব করছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তগুলোকে বানচালের চেষ্টাও করা হচ্ছে। তাহলে শেখ হাসিনা সরকারে কি মোশতাকের অপছায়া দেখা দিচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের মধ্যে আলোচনা চলছে, মানুষের মধ্যে নানারকম ক্ষোভ-বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছে।*

*গতকাল এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি কি কাজ করেছেন তাঁর ফিরিস্তি দিয়েছেন। মানুষ খুশী হতো তিনি যদি তাঁর ব্যর্থতার ফিরিস্তি দিতেন। আর যে কাজগুলো তিনি করেছেন তাঁর কোনটাই তিনি করেননি, প্রধানমন্ত্রীর করা। তাহলে কি ৭৩ এ বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে খুনী মোশতাক যেভাবে সরকারকে অজনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছিল, সেই একই ষড়যন্ত্রের বীজ বোনা হয়েছে? কারণ করোনা পরিস্থিতিকে যদি বাদ দেওয়া যায় তাহলে গত সাড়ে ১১ বছর ধরে সরকারের যে কার্যক্রম, সেই কার্যক্রমে ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যাবেনা। যেমন ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যাবেনা স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে দেশ পূণর্গঠনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বাংলাদেশের যে অগ্রগতি, অগ্রযাত্রা হয়েছে তাঁর মূল ভিত স্থাপন হয়েছিল ৭২ থেকে ৭৫ এর সময়। অথচ সে সবকিছু আড়ালে পড়ে গেছে শুধুমাত্র একটি গম আমদানির ঘটনার মাধ্যমে। একটি সাজানো দূর্ভিক্ষের মাধ্যমে। আমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে, শেখ হাসিনার সরকারে খুনী মোশতাকের অপছায়া আছে কিনা তা দেখতে হবে। প্রত্যেকটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ মনে করেন যে, মোশতাকের অপছায়াদের তিরোহিত না করতে পারলে সামনে আমাদের সঙ্কট অনেক।*