প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *চীন তৌ’হিদী জনতার বন্ধু নাকি বাংলাদেশ সরকারের?*

*চীন তৌ’হিদী জনতার বন্ধু নাকি বাংলাদেশ সরকারের?*

সুষুপ্ত পাঠক

47
*চীন তৌহিদী জনতার বন্ধু নাকি বাংলাদেশ সরকারের?*

*বাংলাদেশে কেন কোনদিন চীনের দূতাবাস ঘো’রাও কর্মসূচি ঘো’ষিত হয়নি তার ঐতিহাসিক রাজনীতি আছে। উপমহাদেশে মুসলিম উম্মাহ’র পরে চীনকেই মুসলমানরা সহনীয় চোখে দেখে। যে কারণে উইঘুর মুসলিমদের ‘টি’টমেন্ট’ করার শত শত নি’উজ আসার পরও তৌহদী জনতা একবারও চীনের দুতাবাস ঘোরাও ঘোষণা করেনি। চীনের পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ার পরও কেউ কোনদিন বাংলাদেশকে চীনের ‘করদ রাজ্য’ বলে খোটাও দেয়নি।*
*ভারত-চীন যু’দ্ধ আসলে একটি চলমান অদৃশ্য প্রক্রিয়া- যা চলে আসছে সুদীর্ঘকাল থেকে। সাম্প্রতিক সীমান্ত হানাহানি যু’দ্ধের শুরু নয়, এটা হলো অদৃশ্য যুদ্ধের কিছুটা দৃশ্যমান হওয়া। সারা বিশ্বের একক সুপার পাওয়ার হতে চাওয়া চীন দক্ষিণ এশিয়ার একক সুপার পাওয়া নিঃসন্দেহে।*

*চীন তাইওয়ান, তিব্বত, সিংঙ্গাপুরকে দখল করলেও বাকীদের দখল করেছে তার বাজার দিয়ে। ভারতীয় উপমহাদেশের একক গডফাদার হওয়ার দৌড়ে চীনের প্রধান বাধা ভারত। তাই পাকিস্তানী ইসলামপন্থিদের হাতে ভারতকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে কমিউনিস্ট চীন হলো এই অঞ্চলের ইসলামিস্টদের অর্থনৈতিক গডফাদার। কাজেই চীন অনেক দিন থেকে প্লান করে ভারতের আশেপাশের বার্মা, শ্রীলংকা, নেপালকে কব্জা করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে বৃহৎ ভারতের থেকে গঞ্জনা-লাঞ্ছনা পেয়ে এই দেশগুলোর আগে থেকে ছিলো অভিমান। নেপালের নতুন মানচিত্র তৈরিতে চীনের কলকাঠি নাড়া বুঝতে একটু রাজনৈতিক সচেতনতাই যথেষ্ঠ। দরিদ্র এই দেশগুলোর কাছে চীনের দাতার ভূমিকায় আসাটা রামকৃষ্ণ মিশনের দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মত নয়। চীন কিছু চায়। কর্তার চাওয়া জেনে ও শর্ত মেনে এই দেশগুলোর শুধু পেটই ভরেনি, রাজনৈতিক মাতব্বরী করার মদদও মিলেছে। তাই এই মুহূর্তে উপমহাদেশে ভারত হচ্ছে এক প্রকার বন্ধুহীন এবং এটার জন্য ভারত নিজেই দায়ী।*

*ভারত বাংলাদেশকে বারবার তিস্তা চুক্তি করার কথা বলে কথা রাখেনি। অনেকগুলো পণ্যের শুল্কমুক্ত করার কথা বলেও কথা রাখেনি। সীমান্ত সমস্যার কথা স্বীকার করেও বাস্তবায়ন করেনি। স্বীকার না করে উপায় নেই, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের কারণে ঐতিহাসিকভাবেই ভারত বিরোধী ও পাকিস্তান প্রেমি। নরেন্দ মোদি বাংলাদেশ সফর আসার কথা ছিলো এ বছরের শুরুতে, তার সফর বাতিল করতে ভারতীয় দূতাবাস ঘোরাও করার কর্মসূচি পালিত হয়েছিলো। তখন কারণ হিসেবে বলা হয়েছিলো কাশ্মিরে মুসলিম ভাইদের উপর জুলুমের কারণে মোদিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতার বড় কোন রাজনৈতিক কারণ কোনদিনই ছিলো না। না থাকার কারণেই কখনো কাশ্মির, কখনো গুজরাট কখনো সীমান্ত হত্যাই বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে বড় রকমের রাজনৈতিক জটিলতা থাকলেও ভারত-বাংলাদেশের সমস্যা খুবই কম। তবু ভারত কেন বাংলাদেশকে সামান্য কিছু বিষয়ে সন্তুষ্ট করতে পারল না? অবশ্যই এটা ভারতীয় রাজনীতির একটা ব্যর্থতা। শুষ্ক মৌসুমে ভারত বাংলাদেশের চাওয়া নদীর পানির হিস্যাটা পুরোপুরি মেটালে কি এমন ক্ষতি হতো? ভারতের রাজ্য সরকারগুলো বুঝতে পারছে, নেপাল-বাংলাদেশকে নিয়ে চীন কি জাল বুনছে?*

*বাংলাদেশের কাছ থেকে ভবিষ্যতে হয়ত চীন স্পষ্টতর জানতে চাইবে সে কার দলে- ভারত না চীন? বাংলাদেশের অবকাঠামগত উন্নয়নের বড় অশিংদার হচ্ছে চীন। চীন জাপানের মত কোন দেশ নয়। চীন হচ্ছে আধুনিকালের ব্রিটিশ উপনিবেশ। তার প্রতিটি পয়সা খরচের পিছনে রাজনীতি আছে। চীন চাইবে বাংলাদেশ শ্রীলংকা-নেপালের মতই তার পাশার দান হোক। বাংলাদেশ চীনের বলয়ে চলে গেলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগ ঘটবে। বাংলাদেশে আরো অবকাঠামগত উন্নয়ন ঘটবে। সেটা তো এখানকার রাজনীতিবিদদের জন্য বিশেষ আনন্দের কথা। তারা তখন আবার বাংলাদেশের কানাডা-সিঙ্গাপুর হওয়ার গল্প বলতে পারবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চীনের চাওয়া পূরণ করতে হবে। ভারতীয় সীমান্তে ভারতকে নিরাপত্তা সংকটে ভোগাতে হবে। আর এটার জন্য সবচেয়ে ভালো দাওয়াই হচ্ছে ইসলামিক টেরোরিস্ট গ্রুপগুলো। চীন চায় তার শত্রু যেন ইসলামিক সন্ত্রাসে সর্বদা মাথা গরম করে রাখে।*

*বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় এমনিতেই ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট ব্যাপক আকারে বজায় থাকে। তাকে পুঁজি করে অতিতে জেএমবি’র বাংলা ভাই ত্রাস সৃষ্টি করতে পেরেছে। এখনো সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি ইসলামিকদের কার্যক্রম শক্তিশালী। এদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কিছু রাজনীতিবিদের আছে যোগাযোগ। চীন চাইবে সেই রুটটা যেন আরো প্রশস্থ আকারে বাংলাদেশ সরকার পরোক্ষভাবে করে দেয়। পাকিস্তান যেমন চীনের ভাড়াটে গুন্ডায় পরিণত হয়েছে চীনের কাছে, চীন শ্রীলংকা-নেপাল-বার্মাসহ বাংলাদেশকে তারচেয়ে বেশি মর্যাদা দিবে না।*
*দেখা যাচ্ছে ভারত-চীন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের হারানোর অনেক কিছুই আছে! দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের কথাটা নিশ্চয় মনে আছে? বাংলাদেশের তখনকার সরকার এই কাজে জড়িত ছিলো। ধারণা করা হয়, এই অস্ত্র যাচ্ছিল ভারত বিরোধীদের কাছে। কাজেই চীন বাংলাদেশকে দিয়ে সেরকম কিছু কারবার ভবিষ্যতের জন্য তুলে রেখেছে এমন চিন্তা অবাস্তব নয়।*
*আরেকটা কথা, চীন তার দেশে পৃথিবীর সমস্ত পণ্য শুল্কমুক্ত করে দিলেও সেখানে একটি পণ্যও রপ্তানি করা সম্ভব কারোর পক্ষে হবে না। কারণ কমিউনিস্ট চীন শ্রমিকদের যেভাবে পিষে মারতে পারবে, তারচেয়ে বেশি কেউ পিষে মেরে পণ্যের মূল্য কমাতে পারবে না। কাজেই চীনের শুল্কমুক্ত পণ্য নিয়ে নাচার কিছু নাই।*