প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট *যে কারণে ক’রোনা আ’ক্রান্ত মাশরাফিকে নিয়ে ভয় বেশি*

*যে কারণে ক’রোনা আ’ক্রান্ত মাশরাফিকে নিয়ে ভয় বেশি*

37
*যে কারণে করোনা আক্রান্ত মাশরাফিকে নিয়ে ভয় বেশি*

*বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত পরশু থেকে জ্বর অনুভুত হওয়ায় গতকাল পরীক্ষা করান নড়াইল-২ আসনের এই সংসদ সদস্য। গতকাল শুক্রবার পাওয়া পরীক্ষার ফলে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত।*
*মাশরাফি জানিয়েছেন, জ্বর ছাড়া অন্য কোন উপসর্গ তার নেই। এমনিতে অ্যাজমার সমস্যা থাকলেও শ্বাস কষ্ট অনুভব করছেন না তিনি। তবে এই অ্যাজমার সমস্যা নিয়ে তার ভয় আছে। দ্রুত আরোগ্যের জন্য তিনি সবার দোয়া চেয়েছেন। তিনি তার ঢাকার বাসায় আইসোলেশনে আছেন।*
*করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেশ সক্রিয় ছিলেন মাশরাফি। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা নড়াইল-২ আসনে দুস্থ-অসহায়দের পাশে অর্থ সহায়তা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার প্রশংসা করেছেন।*

*এর আগে মাশরাফির শ্বাশুড়ি ও স্ত্রীর বোন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। মাশরাফি অবশ্য তাদের সংস্পর্শে আসেননি। এমনকি দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকায় আলাদা একটি বাসায় কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও করোনায় আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেলেন না ৩৬ বছর বয়সী পেসার।*
*পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ার সংগ্রামমুখর ছিল মাশরাফির। চোটের সঙ্গে লড়াই করে বারবার জিতেছেন। পায়ে সাতটি অস্ত্রোপচারের ক্ষত নিয়ে ২২ গজে ঝড় তুলেছেন। এখন পর্যন্ত তিনিই ওয়ানডেতে দেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।*
*মাশরাফির ব্যক্তিগত সহকারী সানি জানিয়েছেন, ‘আল্লাহর রহমতে স্যারের জ্বর ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ নেই। বাসাতেই আছেন। আজ আবার উনার করোনা ভাইরাস টেস্ট করানোর চেষ্টা করছি।’*

*ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী সংক্রমণ ছড়াচ্ছে: ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ*
*প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী যত্রতত্র পড়ে থাকার ফলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেগুলোকে পুড়িয়ে না ফেলার কারণে সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়ছে। এ সমস্ত ব্যবহৃত, পরিত্যক্ত, সুরক্ষা সামগ্রী যেখানে সেখানে পড়ে থাকার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে।’ বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনকার আলাপচারিতায় ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এ মন্তব্য করেন।*
*তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে এখন আমাদের কিছু কিছু সুরক্ষা সামগ্রী অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এগুলো প্রতিদিনের জীবন যাপনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। যারা ঘর থেকে বেরুচ্ছেন, তারা প্রতিদিন মাস্ক ব্যবহার করছেন, গ্লাভস ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই মাস্ক এবং গ্লাভসগুলো ব্যবহারের পর এটি যদি আপনি যথাযথভাবে পুড়িয়ে না ফেলেন, বা ডিসপোজ না করেন, তাহলে এটা থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে।’*

*ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মাস্কগুলো ব্যবহারের পরে যেখানে সেখানে ফেলে দেবেন না। বরং এই মাস্কগুলোকে পুড়িয়ে ফেলুন অথবা এমনভাবে রাখুন যেখান থেকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এটিকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। তবে পুড়িয়ে ফেলাই সবচেয়ে ভালো।’*
*আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘সাধারণ মানুষ তার বাসাবাড়িতে এটা যেন বহন করে না নিয়ে যান। বাসা বাড়িত নিয়ে গেলে সেটি যেন দ্রুত পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’*

*তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আমরা দেখছি যে, ডাক্তার-নার্সরা গ্লাভস ব্যবহার করছেন, মাস্ক ব্যবহার করছেন। টুপি ব্যবহার করছেন, জুতার কভার ব্যবহার করছেন, পিপিই ব্যবহার করছেন। এগুলো নিয়েই কিন্তু তারা করোনা রোগী বা অন্যান্য রোগীদের সংষ্পর্শে আসছেন। এই সমস্ত সুরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে জীবাণু থাকছে। পরবর্তীতে এই সুরক্ষা সামগ্রীগুলো যদি যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়, যেটা আমি লক্ষ্য করছি অনেক সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে যত্রতত্র এগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কিন্তু জীবানুটা থাকছে এবং সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর উচিত এই সমস্ত ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রীর সুষ্ঠ ব্যবস্থা করা। সেটা যেন একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে সেটা যেন পুড়িয়ে ফেলা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’ হাসপাতালের বর্জ্যব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।*

*তিনি বলেন যে, ‘হাসপাতালে যে রোগীরা যাচ্ছে, সেই রোগীদের ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। রোগীরা যে চাদর ব্যবহার করছেন, সেই চাদরটি ধুয়ে ফেলা উচিত এবং সেখানেও তাকে যে সুরক্ষা সামগ্রীগুলো দেয়া হচ্ছে সেগুলো যেন সঠিকভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয় বা ডিসপোজ করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’*
*তিনি আরও বলেন, এই সুরক্ষা সামগ্রীগুলোকে যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় না আনি তাহলে এটা আমাদের জন্য নতুন ঝুঁকির কারণ হবে এবং এখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।*
*এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি সিটি করপোরেশন দায়িত্বে রয়েছে। এখন এই করোনা সঙ্কটের সময় আমি মনে করি যে, আরো সচেতনতামূলকভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী বা সাধারণ মানুষের একটি সুরক্ষা সামগ্রীও যেন এদিক-ওদিক না পড়ে থাকে। কারণ এই সুরক্ষা সামগ্রীগুলো করোনা সংক্রমণের বাহক হতে পারে এবং এগুলোর কারণে আমাদের করোনা সঙ্কটের পরিস্থিতি হতে পারে ভয়াবহ। তাই এই ব্যাপারে এখনই আমাদের নজর দিতে হবে, সতকর্তা দিতে হবে।’*