প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট *মাশরাফি ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হলেন*

*মাশরাফি ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হলেন*

26
*করোনায় আক্রান্ত হলেন মাশরাফি*

*প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনেও হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবালের বড় ভাই নাফিস ইকবালও এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন কভিড-১৯ এ। নাফিসের পর এই তালিকায় নাম লেখালেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। জানা গেছে বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন মাশরাফি। জ্বর না সারায় করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।*
*জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জ্বর থাকায় ১৮ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন তিনি। গতকাল রিপোর্ট জানানো হয়। রিপোর্টে পজেটিভ হন এই সংসদ সদস্য। তবে মাশরাফী শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অবশ্য নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও একবার পরীক্ষা করানো হবে তাঁর।*

*৪২ দিন পরেই করোনার পিকে বাংলাদেশ?*
*বাংলাদেশে কবে করোনার পিক টাইম আসবে, সে প্রশ্ন এখন সবার। বিশেষজ্ঞরা কেউ বলেছেন এপ্রিলে আসবে, কেউবা বলেছেন মে’তে আসবে। কিন্তু সেই দুটো সময়সীমাই পার হয়ে গেছে। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের ঘোষণা করা হয়েছিল গত ৮ মার্চ। আর সেই থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) পর্যন্ত ১০৪ দিনে শনাক্তের সংখ্যা সব মিলিয়ে ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে শনাক্তকৃত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে ১০৯ দিনের মাথায়।*

*বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও করোনাভাইরাসে সংক্রমিতদের শনাক্ত করার হার এভাবেই ধীরগতিতে বাড়ছে। সে হিসাবে বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা চূড়ায় (পিক) যেতে আরও ৪২ দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। আবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চূড়ায় অবস্থানের স্থায়িত্ব একটা দীর্ঘ সময় ধরে হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।*
*প্রথম শনাক্ত হওয়ার প্রায় এক মাসের মাথায় ৯ এপ্রিল এক দিনে শতাধিক ব্যক্তি করোনাভাইরাস বহন করছে বলে শনাক্ত হয়। এরও প্রায় এক মাসের মাথায় গত ১১ মে এক দিনে শনাক্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এভাবে শনাক্তের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায় গত ২ জুন। অর্থাৎ বাকি ৫০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে শেষের ১৬ দিনে। সামনে দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরো বাড়তে থাকবে, আর এভাবে দেশে করোনাভাইরাস ক্রমেই সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*

*এরই মধ্যে করোনা শনাক্তের সংখ্যার দিক থেকে প্রথম ২০টি দেশের তালিকায় ঢুকে গেছে বাংলাদেশ। ইতালি বা ব্রাজিলের কয়েকটি শহরে যেভাবে সংক্রমণের বিস্ফোরণ দেখা গিয়েছিল, বাংলাদেশেও কোনো একটি জনপদে এমন সংক্রমণের বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*
*ব্রিটেনে করোনা সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় বা পিক টাইম ৪২ দিন ধরে স্থায়ী ছিল। বাংলাদেশে এর চেয়েও বেশি সময় ধরে এই পিক টাইম স্থায়ী হতে পারে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদ।*

*ইউরোপের আরেক দেশ ইতালিতে পিক টাইমের স্থায়িত্ব ছিল আরো কম। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন দ্রুতগতিতে বেড়েছে, তেমনি দ্রুতগতিতে সেটা সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে আবার বেশ দ্রুত নেমেও এসেছে। দেশটিতে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৩০ জানুয়ারি। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার গ্রাফ হু হু করে ওপরের দিকেই উঠতে থাকে। মার্চের শেষের দিকে শনাক্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমে আসতে থাকে। অর্থাৎ প্রথম কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়া থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে ধীরে ধীরে নেমে আসা, ইতালিতে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দুই মাসের মধ্যে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রথম শনাক্তের পর তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখানে আক্রান্তের সংখ্যা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। আক্রান্তের হার কবে নাগাদ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে, সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।*

*বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় কখন আসবে এবং সেটা কত সময় ধরে স্থায়ী হবে সেটা নির্ভর করবে, কত টেস্ট করা হচ্ছে, মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে, সরকার কতটা কঠোরতা আরোপ করছে এবং নজরদারি করছে—এসবের ওপর।*
*লকডাউনের কড়াকড়ি, যথাযথ আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার মাধ্যমে চীন ও ইতালি দ্রুত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দমন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ সেই নীতি অনুসরণ করলে সংক্রমণের মাত্রা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।*

*বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন ও ইতালির দেখাদেখি বাংলাদেশ যদি শুরু থেকেই ‘লকডাউনে’ কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন সঠিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসত, তাহলে এত দিনে বাংলাদেশ সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে নিচে নেমে আসা শুরু করত। তবে এখনো যদি কঠোরভাবে জোনভিত্তিক ‘লকডাউন’ কার্যকর করা হয়, রোগী শনাক্ত করে তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়, অর্থাৎ কমিউনিটি থেকে যদি সংক্রমণ কমিয়ে আনা যায়, তাহলে সংক্রমণের বিস্ফোরণ রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সে ক্ষেত্রে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায় দেখা যেতে পারে।*

*বাংলাদেশে জনসংখ্যার অনুপাতে নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার সংখ্যা এখনো অনেক কম। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দৈনিক ১৫-১৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুরুতে এই পরীক্ষার সংখ্যা ছিল কয়েক শর মতো। বর্তমানে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোয় আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র নজরে আসছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে গণহারে পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত সংখ্যা বেরিয়ে আসত এবং সেই হিসেবে সংক্রমণের চূড়া নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া সম্ভব হতো বলে জানান তারা।*
*সূত্র: বিবিসি বাংলা*