প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *ক’রোনাভাইরাস নতুন ও বিপ’জ্জনক পর্যায়ে: ডব্লি’উএইচও*

*ক’রোনাভাইরাস নতুন ও বিপ’জ্জনক পর্যায়ে: ডব্লি’উএইচও*

30
*করোনাভাইরাস নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে: ডব্লিউএইচও*

*আরও ৩৭ জনের মৃ’ত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৪০*
*আক্রান্তের ১০৫তম দিন: গত ২৪ ঘণ্টা দেশে মা’রা গেছেন আরও ৩৭ জন। এ নিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াল ১ হাজার ৪২৫ জনে।*
*গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে নতুন করে ৩ হাজার ২৪০ জনের দেহে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলেন ১ লাখ ৮ হাজার ৭৭৫ জন।*
*আইইডিসিআর এর বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪৮ জন সহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৪৩ হাজার ৯৯৩ জন।*

*শনিবার (২০ জুন) দুপুরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।*
*ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে মোট ৬১ টি ল্যাবে বর্তমানে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় মোট ১৩ হাজার ৭৭৯ টি নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ৩৯ টি । সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯টি।*
*নমুনা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ০৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।*

*শুক্রবার (১৯ জুন) শনাক্ত হয় ৩ হাজার ২৪৩ ও মারা যায় ৪৫ জন। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম কোনও করোনা রোগী মারা যায়।*
*চলতি মাসের ১ জুন ২,৩৮১, ২ জুন ২,৯১১, ৩ জুন ২,৬৯৫, ৪ জুন ২,৪২৩, ৫ জুন ২,৮২৮, ৬ জুন ২,৬৩৫, ৭ জুন ২,৭৪৩, ৮ জুন ২,৭৩৫, ৯ জুন ৩,১৭১ জন, ১০ জুন ৩,১৯০, ১১ জুন ৩, ১৮৭, ১২ জুন ৩,৪৭১ ও ১৩ জুন ২,৮৫৬, ১৪ জুন ৩,১৪১, ১৫ জুন ৩,০৯৯, ১৬ জুন ৩,৮৬২, ১৭ জুন ৪,০০৮, ১৮ জুন ৩,৮০৩ ও ১৯ জুন ৩,২৪৩ জন শনাক্ত হয়।*

*করোনাভাইরাস নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে: ডব্লিউএইচও*
*করোনাভাইরাসের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) একদিনেই বিশ্বে নতুন করে রেকর্ড সংখ্যক দেড় লাখ মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।*
*শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভার সদর দফতর থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস।*
*তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব এখন একটি নতুন এবং বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। গত একদিনে যে দেড় লাখ মানুষ শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই হলো আমেরিকা অঞ্চলের।’*

*তিনি আরও বলেন, ‘ভাইরাসটি এখনও দ্রুত তার বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে, এটা এখনও প্রাণঘাতী এবং বেশিরভাগ মানুষ এখনো সংক্রমণ সংবেদনশীল অর্থাৎ অনেকের দেহেই ভাইরাসটির সংক্রমণের শঙ্কা রয়ে গেছে। আমেরিকা ছাড়াও সর্বোচ্চ সংক্রমণের তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য।’*
*তেদ্রোস আধানম সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ঘরে থাকতে থাকতে অনেক মানুষ বিরক্ত হয়ে গেছেন হয়তো এ কারণেই অনেক দেশ তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যেতে চাইছে; কিন্তু ভাইরাসটি এখনও দ্রুত বিস্তার ছড়াচ্ছে।*
*সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে, অসুস্থ হলে ঘরে থাকতে, প্রয়োজন অনুসারে মাস্ক পরতে এবং বারবার হাত ধুতে আহ্বান জানায় সংস্থাটি।*

*তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, অসুস্থ বোধ করলে ঘরে থাকুন। কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখুন। যেখানে প্রয়োজন সেখানে মাস্ক পরুন। হাত পরিষ্কার রাখুন। কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়। রাজনীতিকে এক পাশে রেখে সত্যিকারের সহযোগিতার মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব।*
*তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনও টিকা নেই। যদি কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়, তবে সেটিই হবে করোনা মোকাবেলায় প্রথম টিকা।’*

*বিশ্ব পরিস্থিতি: জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২০ জুন) সকাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৩৭ জন।*
*প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৩ জন।*
*করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার (২০ জুন) পর্যন্ত ২২ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯ জনের।*
*যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় ৪৮ হাজার ৬৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।*

*জেএইচইউ- এর তথ্য অনুসারে, শনিবার (২০ জুন) পর্যন্ত রাশিয়া ও ভারত যথাক্রমে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ২৯২ জন এবং ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৩২ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।*
*চীনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শনিবার (২০ জুন) জানায়, শুক্রবার (১৯ জনু) চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে আরও ২৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৩ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে দেশটিতে নতুন করে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।*
*গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ২১৩টিরও বেশি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।*