প্রচ্ছদ রাজনীতি *ত্রাণের নামে বিএনপির চাঁ’দাবাজি*

*ত্রাণের নামে বিএনপির চাঁ’দাবাজি*

73
*ত্রাণের নামে বিএনপির চাঁদাবাজি*

*করোনা সঙ্কটে রাজনীতিতে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে। তাঁরা কিভাবে তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখবেন, কিভাবে তাঁরা সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবে এই নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই বিএনপির নেতৃবৃন্দের টেলিফোন ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে।*
*একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে যে, বিএনপির দেশের একাধিক নেতা এবং লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া গরীব মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিতে হবে এই অজুহাতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহলের কাছে চাঁদা বা সহায়তা দাবি করছেন। এই নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ এবং অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।*

*উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটের পর থেকেই একটি বড় সংখ্যক মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা এবং তাঁদের জীবিকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই সঙ্কটকালীন সময়ে সরকার গরীব মানুষদের করোনা সঙ্কট থাকাকালীন সময় পর্যন্ত সহায়তা অব্যহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং সেইভাবেই কাজ করছে। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ তৎপরতা অব্যহত রেখেছে।*

*অন্যদিকে বিএনপির একমাত্র রুহুল কবির রিজভী ঢাকা শহরের ক’দিন বাদে বাদে একশ-দেড়শ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং মিডিয়াতে তা ফলাও করে প্রচার করছেন। এই বাস্তবতায় বিএনপির একাধিক নেতা বিএনপির উদ্যোগে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে জানিয়েছেন এবং এজন্য সহায়তা দাবি করেছে। একজন ব্যবসায়ীর কাছে বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য টেনিফোন করে বিএনপির ত্রাণ তৎপরতা অব্যহত রাখার জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। ওই ব্যবসায়ী নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যকে বলেছেন যে, এখন ব্যবসায়ীরাই নানা সঙ্কটে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা টাকা দিবে কিভাবে। কিন্তু স্থায়ী কমিটির সেই সদস্য হুমকি দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তাকে দেখে নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি করেছেন।*

*এক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ফোন করেছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। তিনি ফোন করে বিএনপির ত্রাণ তৎপরতায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এজন্য তিনি ৫০ লাখ টাকা অনুদানের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সেই ব্যাংক চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে বলেছেন যে, আপনারই তো অনেক টাকা আছে, আপনি কিছু টাকা সহযোগিতা করেন।*
*নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ যে সারাদেশে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন, তাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোন সাহায্য দাবি করেনি, বরং নিজে থেকেই করছেন। আর বিএনপি ত্রাণ বিতরণের আগেই যেভাবে চাঁদা দাবি করছে তাতে আমরা নতুন আতঙ্কে দিন পার করছি।*

*এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বিএনপির অন্তত ৫ নেতা ২৫ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ফোন করেছেন। ফোন করে বিএনপির ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচীতে সাহায্য করার অনুরোধ করেছেন।*
*একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন যে, বিএনপি যদি অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে যায় তাহলে সেটা ভালো কথা, কিন্তু আমাদের টাকা দিয়ে কেন? আমরা যদি টাকা খরচ করি তাহলে সেটা আমরা সরাসরি করতে পারি এবং করছি। বিএনপিকে টাকা দিয়ে আমাদের ত্রাণ সহায়তা কেন করতে হবে?*

*এখন বিএনপির নেতৃবৃন্দদের এড়িয়ে চলা শুরু করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। বিএনপি নেতৃবৃন্দের টেলিফোন ধরতেও তাঁরা এখন ইতস্ততা বোধ করছেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা বিএনপির অনেক নেতাই ধনাঢ্য এবং বিপুল সম্পদের মালিক। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু অত্যন্ত সম্পদশালী। তিনি এফবিসিসিআই-এর সভাপতি ছিলেন। আমির খসরু মাহমুদের ব্যবসাও কম নয়। বিএনপিতে অধিকাংশ নেতাই ব্যবসায়ী এবং ধনাঢ্য।*

*তাছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁরা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। কিন্তু তারপরেও করোনা সঙ্কটের সময় নিজের পকেট থেকে ১ টাকাও না বের করে অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর শখ কেন তাঁদের হয়েছে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেক ব্যবসায়ী। আর বিএনপির এই নতুন চাঁদাবাজি তত্ত্ব সকলের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক তৈরি করেছে। কারণ ব্যবসায়ীরা জানেন যে, বিএনপি এই টাকা যতটা না খরচ করবে গরীবদের জন্যে, তাঁর থেকে বেশি চলে যাবে লন্ডনে তারেক জিয়ার বিলাসী জীবনযাপনের জন্যে।*