প্রচ্ছদ স্পটলাইট *আহমদ শফীর বিদায়; এ’মপি পাপুলের ৫৭ কোটি টাকা ঘু’ষ*

*আহমদ শফীর বিদায়; এ’মপি পাপুলের ৫৭ কোটি টাকা ঘু’ষ*

133
*আহমদ শফীর বিদায়; এমপি পাপুলর ৫৭ কোটি টাকা ঘুষ*

*দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পরবর্তী মহাপরিচালক পদে বাছাই করা হচ্ছে আজ। দেশের শীর্ষ এ কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিসে শূরা কমিটি’ নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন বর্তমান মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর উত্তরসূরি। যিনিই উত্তরসূরি নির্বাচিত হবেন তিনিই এক সময় হবেন হেফাজতে ইসলাম, বেফাক, আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে শীর্ষ কওমি আলেমের দায়িত্বও পালন করবেন। আল্লামা আহমদ শফী বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় উত্তরসূরি নির্বাচন করে যেতে চাইছেন। তাই আজ মঙ্গলবার বসছে ‘মজলিসে শূরা কমিটি’।*

*এ কমিটি নির্ধারণ করবে মাদ্রাসার পরবর্তী মোহতামিম বা মহাপরিচালক। যিনি আহমদ শফীর জীবিত থাকা অবস্থার হাটহাজারী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরবর্তীতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। মজলিসে শূরার ১৭ সদস্যের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। তাই ১১ জন শূরা সদস্য ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নির্বাচন করবেন। ভারপ্রাপ্ত দৌড়ে রয়েছেন হাটহাজারী মাদ্রাসার চার শিক্ষক। তাদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাদ্রাসার জনপ্রিয় শিক্ষক ও প্রবীণ আলেম আহমেদ দিদার কাসেমী, মাওলানা শেখ আহমদ ও মুফতি মোহাম্মদ জসিম। হাটহাজারী মাদ্রাসার একাধিক সূত্র জানায়, হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক নির্ধারণে বেশ কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।*

*যার মধ্যে রয়েছে হাটহাজারীর স্থায়ী বাসিন্দা, পারিবারিক ঐতিহ্য, জ্ঞান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা। মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা থাকলেও তার মহাপরিচালক হওয়ার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে হাটহাজারীর স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়া, আল্লামা আহমেদ শফীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়াসহ বেশ কিছু বিষয়। এ ছাড়া শূরা কমিটির উল্লেখযোগ্য অংশ বাবুনগরীর বিপক্ষে রয়েছে। তাই সব সমীকরণ মিলে কপাল খুলতে পারে প্রবীণ আলেম আহমেদ দিদার কাসেমী, মুফতি জসিম কিংবা মাওলানা শেখ আহমদের। তবে এ তিনজনের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন আহমেদ দিদার কাসেমী।*

*৫৭ কোটি টাকা ঘুষ দেন এমপি পাপুল*
*কুয়েতে একজন আমলাসহ তিনজনকে ২১ লাখ দিনার অর্থাৎ ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ বাংলাদেশি টাকা ঘুষ দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে কাজী শহীদ ঘুষ গ্রহণকারীদের নাম জানিয়েছেন। এরা হলেন- কুয়েতের একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত, অন্যজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আমলা আর শেষজন দেশটির এক নাগরিক। বাংলাদেশের আটক এমপিকে মদদ দিয়েছেন দেশটির অন্তত সাতজন বিশিষ্ট নাগরিক। ওই সাতজনের মধ্যে কুয়েতের সাবেক ও বর্তমান তিন এমপিও রয়েছেন। কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস তদন্ত কর্মকর্তাদের সূত্রে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, কুয়েতে মানব পাচার নিয়ে বাংলাদেশের এমপির বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউশন যে তদন্ত চালাচ্ছে, তা নিয়ে পরের ধাপের তদন্ত চালাবে দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ।*

*আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের এক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা কাজী পাপুলের মালিকানাধীন ক্লিনিং কোম্পানিতে গিয়ে দেখা করেছিলেন। বৈঠকের আগে কুয়েতি কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয় পাপুলের অফিস থেকে। ওই কর্মকর্তা চাননি কুয়েতের স্থানীয় লোকজন তাকে চিনে ফেলুক। তাই কুয়েতি কর্মকর্তার অনুরোধে বৈঠকের আগেই এমপি পাপুল স্থানীয় কর্মীদের ছুটি দিয়ে দেন। মূলত কুয়েতের ওই কর্মকর্তা ঘুষ নেওয়ার সময় কাউকে সাক্ষী রাখতে চাননি। এমপি পাপুল তাকে ১০ লাখ দিনার বা ২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার চেক এবং এক লাখ দিনার বা ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা নগদ দেওয়ার কথা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জানিয়েছেন। চেকের একটি কপি পাবলিক প্রসিকিউশনকে দেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে কুয়েত আনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার শর্তে স্থানীয় এক নাগরিককে ২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১০ লাখ কুয়েতি দিনার ঘুষ দেন আটক এমপি। এ তথ্যটিও তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।*

*আরবি দৈনিক আল রাইয়ের গতকালের এক খবরে বলা হয়েছে, মানব পাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে আটক বাংলাদেশের এমপিকে কুয়েতের সাবেক ও বর্তমান তিন এমপি মদদ দিয়েছেন। কুয়েতের পার্লামেন্টের বর্তমান দুই এমপি ও সাবেক এক এমপির সঙ্গে লেনদেনের কথা দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন কাজী পাপুল। কুয়েত টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতের পার্লামেন্টের চলমান অধিবেশনে মানব পাচারের মামলার প্রসঙ্গটি এমপিরা আলোচনায় তুলেছেন। বেশ কয়েকজন এমপি গত রবিবারের আলোচনায় বলেছেন, ভিসা-বাণিজ্যের নামে বাংলাদেশের এমপির সঙ্গে মানব পাচার চক্রের মদদদাতা কুয়েতের এমপি ও সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হোক। এমপি আবদুল ওয়াহাব আল বাবতেইন ওই কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।*