প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *শুধু ঢাকাতেই ক’রোনা আ’ক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখের বেশি’: দ্য’ ই’কোনমিস্ট*

*শুধু ঢাকাতেই ক’রোনা আ’ক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখের বেশি’: দ্য’ ই’কোনমিস্ট*

68
*শুধু ঢাকাতেই করোনা আক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখের বেশি': দ্য ইকোনমিস্ট*

*প্রা’ণঘাতী ক’রোনা ভাই’রাসে শুধু ঢাকাতেই এখন পর্যন্ত আ’ক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৭ লাখের বেশি জন। ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকো’নমিস্টকে এমনটি জানিয়েছেন আ’ইসিডিডিআরবি’র কর্মকর্তা জন ক্লে’মেনস। এছাড়াও ই’কোনমিস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানে আ’ক্রান্তের চেয়ে ক’রোনা রোগীর সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে।*
*প্রতিবেদনে জন ক্লে’মেনস জানান, তার ধারণা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেই করোনা সং’ক্রমণের সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে সাত লাখ ছাড়িয়ে গেছে।*
*এদিকে বাংলাদেশের সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত করোনায় মৃ’ত্যু হয়েছে ৮১১ জনের, মোট আক্রান্ত ৬০ হাজার ৩৯১ জন। সেইসঙ্গে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১২ হাজার ৮০৪ জন।*

*’বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে’ শিরোনামে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঞ্চলে গত সপ্তাহে জারি করা লকডাউন তুলে নেওয়া শুরু হয়। এতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে এমন আশায়। কিন্তু এতে করে করোনায় সংক্রমণ আবারো দ্রুত বাড়বে।*
*প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ৩ লাখের বেশি এবং প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃ’ত্যুর পরিসংখ্যান অপেক্ষাকৃত পরিমিত দেখাচ্ছে। তবে অনেকে আক্রান্ত হলেও গণনার বাইরে।*
*বর্তমানে প্রতি দুই সপ্তাহে আ’ক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। কিছু মডেলের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে আগামী জুলাইয়ের শেষের দিকে ক’রোনা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাবে। সেসময় সরকারি হিসেবে আ’ক্রান্তের সংখ্যা ৫০ লাখ এবং মৃ’ত্যু দেড় লাখ হতে পারে।*

*কম হারে করোনা টেস্ট করার অর্থ প্রকৃত পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ হতে পারে। পাকিস্তানে এক বিদেশি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, সরকারের দেওয়া করোনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান বাস্তবে দুই থেকে তিন গুণ বেশি।*
*এছাড়া পাকিস্তানের চিকিৎসকদের ভাষ্য, দেশটির সরকার হাসপাতালগুলো পর্যাপ্তসংখ্যক বেড আছে বলে যে দাবি করছেন তা ভিত্তিহীন।*
*এদিকে মুম্বাইয়ের ৪ বছর বয়সী এক নার্স বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকে কোন ধরণের ছুটি ছাড়া ১২ ঘণ্টার ডিউটি পালন করে যাচ্ছেন। মে মাসে তিনিও করোনায় আক্রান্ত হন।*
*ইতোমধ্যে দেশটির রাজধানীর কমপক্ষে ৬০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী করো’নায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের ৩২৯ জনই দেশটির শীর্ষ মেডিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠান অল ইন্ডিয়া ই’নস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের।*

*ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক ইকো’নমিস্টকে বলেন, একটু বেশি হাঁচি হলেই তারা (ধনীরা) চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর অথবা ভারতে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে করোনার চিকিৎসা বা অন্যান্য অসুস্থতা নিয়েও দেশের অভিজাত হাসপাতালগুলোতেও ভর্তি হওয়া প্রায় অসম্ভব।*
*ইকো’নোমিস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মর্গ, কবর স্থান এবং শ্মশানঘাটে জায়গা খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জের এক পৌরসভার কবরস্থানে অন্য স্বাভাবিক সময়ে ২৫০ জনের মতো মানুষকে দাফন করা হয়।*
*কিন্তু গত মাসে ওই কবরস্থানে ৫৭৫ জনকে দাফন করা হয়। তবে সরকারি হিসেবে এদের মধ্যে কেবল ৭০ জন করোনা আ’ক্রান্ত ছিলেন বলে হিসেবে ধরা হয়।*
*বাংলাদের চট্টগ্রামে কবরস্থানে খননের কাজ করা ফরিদ উদ্দিন বলেন, তিনি ও তার দলের সদস্যরা গত চার দিন ধরে তেমন ঘুমের একটা সময় পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, অনেক মৃ’ত্যুর ঘ’টনা ঘ’টেছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাদের মাফ করে দেন এবং এই রোগ তুলে নেন।*

*হাটে হাড়ি ভাঙলেন সিএমএসডি’র বিদায়ী পরিচালক*
*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমস্ত দুর্নীতি ফাঁ’স করে দিলেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) বিদায়ী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদউল্লাহ। বিদায় নেওয়ার আগে গত ৩০ মে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির আদ্যোপ্যান্ত তুলে ধরেন।*
*সিএমএসডি’র পরিচালক কোনো চুনোপুঁটি নন, তিনি একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। কাজেই তার এই চিঠিটা গুরুত্বের দাবি করে এবং তদন্তের দাবি করে।*
*জনপ্রশাসন সচিবের কাছে দেওয়া চিঠিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদউল্লাহ লিখেছেন, করোনা মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং সিএমএসডি কী কী কেনাকাটা করবে, সে সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কখনোই সঠিক কোনো পরিকল্পনা করেনি।*

*এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে পরিচালক সিডিসির সঙ্গে সিএমএসডি কর্তৃপক্ষ আলাপ করে। সিডিসি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সিএমএসডি নিজস্ব উদ্যোগে পিপিইসহ অন্যান্য সামগ্রী মজুদ করতে থাকে। পরে ১০ মার্চ সিডিসি পরিচালক সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ কোটি টাকার একটি চাহিদা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর আগে মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে পিপিই, মাস্কসহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠাতে নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই সময় এরিস্টোক্রেট, এসিআই, আএফএল, গেটওয়েল ও জেএমআই ছাড়া আর কেউ এসব পণ্য উৎপাদন করত না। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও কিছু দেশীয় প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য উৎপাদন শুরু করে। এর মধ্যেই লকডাউন শুরু হয়। ক্রয় প্রক্রিয়া কীভাবে অনুসরণ করা হবে, অর্থের সংস্থান আছে কিনা, স্পেসিফিকেশন কী হবে, কী পরিমাণ সামগ্রী ক্রয় করতে হবে- এ সংক্রান্ত কোনো দিকনির্দেশনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় সিএমএসডি মৌখিকভাবে বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করে তা হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে দেয়।*

*পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদউল্লাহ দাবি করেন, তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৫ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (বাজেট) মৌখিক নির্দেশনায় সিএমএসডি সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়বাবদ ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। মার্চ মাসের দিকে এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে সমস্ত ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।*
*আনুমানিক ৯০০ কোটি টাকার কেনাকাটার কথা উল্লেখ করে পরিচালক আরও বলেন, এ পর্যন্ত আনুমানিক ৯০০ কোটি টাকার কেনাকাটা হলেও মাত্র ১০০ কোটি টাকার সংস্থান করা হয়েছে। বারবার বাকি অর্থের চাহিদার কথা জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও অর্থছাড় করা হয়নি। এ কারণে সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।*

*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শহীদউল্লাহ চিঠিতে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস তাকে মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তার ছেলের ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলে তাকে জানান ওই দুই কর্মকর্তা।*
*ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদার মিঠুর উল্লেখ করে পরিচালক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই দুই কর্মকর্তা মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডসহ তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। ওই কোম্পানির পাঠানো তালিকা ও মূল্য অনুযায়ী দ্রব্যাদি কেনাকাটা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তিনি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন এবং ক্রয় তালিকায় সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করেননি। এতে মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডসহ সহযোগী ঠিকাদাররা ক্ষুব্ধ হন।*

*পরিচালক বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কভিড হাসপাতালের আইসিইউর জন্য ডিপিএম পদ্ধতিতে কিছু চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের চাহিদা দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে মেডিটেক ইমেজিংয়ের কাছ থেকে ওইসব সামগ্রী ক্রয়ের নির্দেশ দেন। কিন্তু মেডিটেক ইমেজিংয়ের যন্ত্রপাতি ছিল নিম্নমানের এবং দাম বেশি। ফলে তারা বাদ পড়ে। এতে মিঠু বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।*
*প্রসঙ্গত যে, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার পরে চিকিৎসকদের নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ আসে সিএমএসডির বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর তড়িঘড়ি করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির দেওয়া রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। সিএমএসডি’র পরিচালক এবং স্বাস্থ্য সচিবকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরূদ্ধে মূল অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।*