প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *‘কাল থেকে নতুন নিয়মে ল’কডাউন’*

*‘কাল থেকে নতুন নিয়মে ল’কডাউন’*

133
*‘কাল থেকে নতুন নিয়মে লকডাউন’*

*আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে নতুন নিয়মে ল’কডাউন। ক’রোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে এ বিষয়ে কর্মপন্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আগামীকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বেশি করোনা আক্রান্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হবে। আজ শনিবার গণমাধ্যমকে এসব কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।*
*তিনি জানিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে জোনিং ব্যবস্থা পুরোদমে বাস্তবায়ন করবে সরকার। এজন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।*

*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে- বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়েলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা মুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রেড জোনকে লকডাউন করা হবে, ইয়েলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।*
*যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সেই এলাকা সম্পূর্ণ ব্লক রাখা হবে। সেই এলাকায় কেউ ঢুকবেও না, কেউ বেরও হবে না। ওই এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। খুব বড় এলাকায় এটা করা সম্ভব না হলে শহরে ওয়ার্ড বা মহল্লাভিত্তিক রেড জোন ঘোষণা করে তা ব্লক করে দেয়া হবে। তাই ঢাকায় হয়তো বেশি আক্রান্ত থাকা অনেকগুলো এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে।*

*‘ঢাকায় লকডাউন দিলে পুরো ঢাকাতেই দিতে হবে’*
*প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ঈদের পরপরই যদি অন্তত ১০ দিন থেকে ২ সপ্তাহ কঠোর লকডাউন দেওয়া যেত, তাহলে পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না। তখন লকডাউন দিলে এই সংক্রমণটা এত ছড়িয়ে পড়তো না। বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের আলাপচারিতায় আজ তিনি এ কথা বলেন।*
*তিনি বলেন, এখন জোন ভিত্তিক যে লকডাউনের কথা বলা হচ্ছে, এটা কার্যকর হতে পারে। এটি করলে দ্রুত করতে হবে এবং সময় নষ্ট করা যাবে না।*

*তবে তিনি মনে করেন যে, এই লকডাউন যেন কার্যকর হয় সেজন্য আমাদের সচেতনতা যেমন দরকার, তেমনি প্রশাসনকেও এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যে, লকডাউন এলাকায় যেন খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো ঠিকঠাক মতো সরবরাহ করা হয়। কারণ যদি খাবারের অভাব হয়, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যদি না পায়, তাহলে মানুষ লকডাউন মানবে না। অতীতে আমরা সেটার প্রমাণ পেয়েছি। তাই আমাদেরকে প্রস্তুত হয়ে এবং দ্রুত এই প্রস্তুতিগুলো নিয়ে লকডাউন দিতে হবে।*
*ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন, জেলা বা উপজেলা আলাদা করে লকডাউন দেয়া যেতে পারে। কিংবা একটি উপজেলায় নির্দিষ্ট একটি এলাকায় লকডাউন দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে একটি আলাদা এলাকায় লকডাউন দিয়ে খুব একটা ফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।*

*তিনি বলেন, এখন যে পরিস্থিতি তাতে এটা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় আমরা সংক্রমণটা জানি, অনেক জায়গায় সংক্রমণের কথা জানি না। আর এ কারণেই যদি আমাদের লকডাউন দিতে হয়, তাহলে পুরো ঢাকা শহরেই লকডাউন দেওয়া প্রয়োজন।*
*ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন যে, আমাদের আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এখন এরকম লকডাউন একটা চেষ্টা। এই চেষ্টাটা আমাদের দ্রুতই করতে হবে।*

*তিনি মনে করেন, লকডাউনের পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেন মাস্ক ব্যবহার করি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি। অযথা ঘোরাফেরা না করি। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।*
*ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব আছে লকডাউন প্রতিপালন করা, কার্যকর করা, তেমনি সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব লকডাউনকে মানা। এবার যে লকডাউন হবে সেই লকডাউন যেন সত্যিকার অর্থেই লকডাউন হয়, কার্যকরী লকডাউন হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।*