প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *ড. কামালের কি স’ম্পর্ক বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকারীদের সঙ্গে?*

*ড. কামালের কি স’ম্পর্ক বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকারীদের সঙ্গে?*

267
*বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সঙ্গে ড. কামালের কি সম্পর্ক?*

*ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। আওয়ামী লীগের টিকিটে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁকে ভালোবাসতেন এবং বঙ্গবন্ধু তাঁকে টেনে তুলে এনেছিলেন, আইনমন্ত্রী বানিয়েছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি কতটুকু বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছিলেন তা নিয়ে অনেক তর্কবিতর্ক আছে, অনেক ধরণের প্রশ্ন রয়েছে।*
*সাম্প্রতিক সময়ে তথ্য অনুসন্ধানে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যে তথ্যগুলো বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা রহস্যের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এর মাধ্যমে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নতুন করে আতশি কাচের নিচে ফেলা হচ্ছে। ড. কামাল হোসেন কি আসলেই বঙ্গবন্ধুর অনুসারী নাকি বঙ্গবন্ধুর ঘা’তকদের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়েছিলেন? তিনি কি আসলে একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক নাকি বঙ্গবন্ধুর বিরু’দ্ধে ষড়য’ন্ত্রকারী? এই প্রশ্ন যৌক্তিকভাবেই উঠেছে।*

*এই প্রশ্ন অবশ্য অনেক পুরনো। কারণ ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মারা যান, তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ছিলেন জার্মানীতে। এই সময়ে ড. কামাল হোসেন লন্ডনে অবস্থান করছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় তাঁর ভূমিকা ছিল রহস্যময়। শেখ রেহানা সেসময় ড. কামাল হোসেনকে বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার প্রতি’বাদ করার জন্য এবং আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করার জন্য আকুলভাবে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ড. কামাল হোসেন সেই আবেদনে সাড়া দেননি। ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের পর থেকে জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে কখনোই ড. কামাল হোসেনকে বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার বিচারের ব্যাপারে সোচ্চার দেখা যায়নি এবং এই ব্যাপারে তিনি রহ’স্যময় ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে যখন আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে করেছিল, তখন ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা ছিল খুবই রহস্যদীপ্ত।*

*সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের কাছে একটি দূর্লভ ছবি এসেছে, যেই ছবিটি ১৯৯০ সালের। এইসময় এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলছে, তখন সেই সময়ে ঢাকায় অবস্থিত শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খু’নী বজলুল হুদার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনকে ঘনিষ্ঠভাবে আলাপচারিতায় দেখা গেছে। উল্লেখ্য এর আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর ১৯৮৩ সালের এপ্রিল মাসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু, ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খু’নীদের সামাজিকভাবে বয়কট এবং তাঁদের কোন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্য করা যায় যে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে এবং গোপনে বঙ্গবন্ধুর খু’নীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁদেরকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যেত।*

*এই ছবিটি দেখে বোঝা যায় যে, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে খুনী বজলুল হুদার দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই একটি ছবিই অনেক কথা বলে দেয়। তাহলে কি ড. কামাল হোসেন এই খু’নীদেরকে মদ’দ দিয়েছিলেন? এই খু’নীদের প্রতি তাঁর কোন ঘৃ’ণার উদ্রেগ হয়নি? এই খু’নীদের সঙ্গে তাঁর কোন যোগসাজশ ছিল এবং এই ছবিটি আরো কিছু প্রশ্নের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। যখন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ইনডি’মিনিটি অধ্যাদেশ বাতি’লের উদ্যোগ নেয়, তখন ড. কামাল হোসেন ছিলেন নিরব। তিনি যদি বঙ্গবন্ধুকে এতই ভালোইবাসতেন তাহলে তিনি এই ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেননি কেন? এই ব্যাপারে তিনি কোন অবস্থান নেননি কোন? এমনকি যখন বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রয়াত অ্যাডভোকেট সিরাজুল হকের নেতৃত্বে তখনো এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ছিলেন ভূমিকাহীন।*

*তাই প্রশ্ন উঠেছে যে, ড. কামাল হোসেন আসলে কার লোক ছিল? আমরা জানি যে, ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের এই হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের অনেক নে’তাই প্রকাশ্যে-গোপনে ছিল। খু’নী মোশতাক যেমন এই ষড়’যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তেমনি যুক্ত ছিল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই। ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে এখন আরো বেশি গবেষণা দরকার এবং বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার প্রকৃত র’হস্য উ’ন্মোচন করা দরকার বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।*